বেসরকারি খাতের চেয়ে এগিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

বেসরকারি খাতের চেয়ে এগিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

বেসরকারি খাতের চেয়ে এগিয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক

খেলাপি ঋণের দুর্নামসহ নানা অনিয়মের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো শিরোনাম হলেও এবার ঘটেছে উল্টো ঘটনা। খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। সদ্য প্রকাশিত খেলাপি ঋণ পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর পর্যন্ত ৫৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৫ রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকেরই কমেছে ১০ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা টাকা। অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ২৫৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা; বিডিবিএল ব্যাংকের কমেছে ৯৫ কোটি ৩৮ লাখ টাকা; বেসিক ব্যাংকের খেলাপি কমেছে ৮৮০ কোটি ৯৭ লাখ টাকা; জনতা ব্যাংকের কমেছে ৭ হাজার ২০৭ কোটি ৪৮ লাখ টাকা; রূপালী ব্যাংকের কমেছে ২৬৬ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ কমেছে ২ হাজার ২১৯ কোটি টাকা। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের পাশাপাশি প্রভিশন ঘাটতিও কমে এসেছে।

দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ১৬ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১১ দশমিক ৯৯ শতাংশ। বিপুল পরিমাণ এই ঋণের বিপরীতে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হয়েছে। বিপুল এই এই মন্দ ঋণের কারণে ব্যাংকিং খাতের সুদ হার কমাতে পারছিল না সরকার। এর প্রভাব পড়ছিল বিনিয়োগে। যা প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধির অর্জনের পথে বাধার সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সরকারের উন্নয়ন অভীষ্টেও অভিঘাত তৈরি করছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে খেলাপি ঋণ কমাতে বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। মোট খেলাপি ঋণের ২ শতাংশ ঋণ ফেরত দিলেই ওই ঋণ নিয়মিত হয়ে যাবে। পাশাপাশি নিয়মিত হওয়া ওই ঋণকে দেওয়া হয় সর্বনিম্ন ৯ শতাংশ সুদ হার সুবিধা।

এ ব্যাপারে অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস উল ইসলাম বলেন, অর্থমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার কারণেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তিনি বলেন, ঋণখেলাপি কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত তা চমৎকার ফল দিয়েছে। আর ব্যাংকগুলোও খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনার ব্যাপারে বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছিল, ব্যাংকের সব শাখাকে কড়া নির্দেশনার পাশাপাশি তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করা হয়েছিল, ভালো করেছে এমন শাখাগুলোকে পুরস্কৃত করা হয়েছে, কেন্দ্র থেকে তা নিয়মিত নজরদারি করার ফলেই খেলাপি ঋণ আদায়ে এ সাফল্য এসেছে। শুধু খেলাপি ঋণ আদায়ই নয়, নতুন করে এ সময়ে কেউ খেলাপি হয়নি বলেও জানান অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

পাঠকের মন্তব্য