বঙ্গবন্ধুর জন্য শেখ হাসিনার মতো কেউ কাঁদছেন কি 

বঙ্গবন্ধুর জন্য শেখ হাসিনার মতো কেউ কাঁদছেন কি 

বঙ্গবন্ধুর জন্য শেখ হাসিনার মতো কেউ কাঁদছেন কি 

ইকবাল আহমেদ লিটন, উপ-সম্পাদকীয়: বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে অর্জিত হয়েছিল বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্ন স্বাধীনতা। আত্ম পরিচয়হীন জাতি খুঁজে পেয়েছে তার অস্থিত্ব ও আত্মমর্যাদা। বাংলার স্বাধীনতার ইতিহাসে যার নাম উজ্জ্বল নক্ষত্রের মতো তিনি বাংলার রাখাল রাজা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব। “বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ” এক সুত্রে গাঁথা। একথা অস্বীকার করার কোন উপায় ও সাহস আছে কি কোন বাঙালির? যাইহোক, চাটার দলেরা কি জাতির পিতাকে ধারণ ও লালন করে? ৭৫-৯৬ সাল এবং ২০০১-২০০৮ সাল সময়ের সবচেয়ে আদর্শবাদী, সর্বস্ব হারানো কর্মীরা একবুক দুঃখ আর কষ্ট সহ অভিমান নিয়ে নব্যদের ভীড়ে আজ হারিয়ে যাবার পথে। সারাদেশে চলছে ভাই লীগ, সারাদেশে চলছে এমপি লীগ। জাতির পিতা ও জননেত্রীর স্বপ্ন সারথিরা কেউই পাদপ্রদীপের আলোতে নেই। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে জানার, বোঝার ও গবেষণা করবার সময় কি আছে মানুষরুপী হিংস্র হায়েনা আর হালুয়া রুটি ভক্ষণকারীদের? যাইহোক, প্রশ্নটা করতে চাইনি, কারণ এমন প্রশ্নের কোন মানেই হয় না।

বঙ্গবন্ধুতো শেখ হাসিনার বাবা। বাবার কষ্ট সন্তানকেইতো বেশি যন্ত্রণা দেবে তাইনা? শুধু বঙ্গবন্ধু কেন, মা, ভাই কে ছিলোনা সেই নির্মম হত্যার মধ্যে? তবুও প্রশ্নটা করতে হলো, কারণ ৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের পর এই আপনারাই তো ভয়ে লুকিয়ে ছিলেন তাইনা ? অনেকটা ছিচকে প্রেমিকের মতোই ছিলো আপনাদের ভালোবাসা। এবার আমি আয়ারল্যান্ড থেকে প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশে গিয়ে ঢাকার বাইরে বেশ কিছু স্থানে ঘুরে ঘুরে বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও তার শোকে কতটা কাতর আপনারা সেটা দেখতে বের হয়েছিলাম। একান্ত কৌতূহল থেকে এই এডভেঞ্চার আমার।

কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি দেখলাম স্কুল কলেজের ছেলে মেয়েদের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় রাস্তায় ছুটাছুটি। নেতাদের স্থানে স্থানে বসে থাকা, গোল মিটিং করা, হৈ চৈ, আনন্দ উল্লাস করা। স্কুল কলেজের সামনের দোকান গুলোতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম বেচাকেনার অবস্থা কেমন? এক পর্যায়ে জানতে পারলাম সবচেয়ে রেকর্ড পরিমান বিক্রিত আইটেমের নাম "সিগারেট"। আমি আরো একটু তলিয়ে খোঁজ নেবার চেষ্টা করলাম, কিন্তু কেন যেন দোকান্দার এড়িয়ে গেলেন আর এদিক ওদিক তাকালেন।

আর বাহন বলতে মটর বাইক এক নম্বরে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে এতো মটর বাইক আছে জানা ছিল না। উঠতি ছেলেদের মটর বাইকের স্পিড মিটারে নির্নয় করা সম্ভব নয়। হেলমেট নেই, যাত্রী ৩/৪ জন করে প্রায় মটর বাইকেই। পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে রাস্তায় কিন্তু নিয়ম ভাঙার জন্য কোন চোখ রাঙানিও নেই। অর্থাৎ এক কথায় সবাই আজ একটা আনন্দের মধ্যে দিয়ে, অনেকটা আরো স্বাধীনভাবে সময়টাকে অতিবাহিত করছে। বলতে দ্বিধানেই এটাই সারাদেশের চালচিত্র। আমি যাদের কথা বলছি তারাতো এই প্রজন্মের নেতা। এই প্রজন্মের বাহক। নিশ্চই তাদের অন্তরালে দাঁড়িয়ে আছে তাদের সিনিয়র প্রজন্ম যারা প্রত্যেকেই বঙ্গবন্ধুকে ভালোবাসি বলে নৈকট্য লাভ করেছে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় দলিয় ফোরামে। তাদের পিছনে দাঁড়িয়ে আছে সেইসব প্রজন্ম যারা কেন্দ্রে বসে আছে, যারা ৭৫ এর হত্যাকাণ্ডের পরে উপস্থিত ছিলেন অনেকেই এবং তারাই ছিচকে প্রেমিকের মতো গর্তে লুকিয়ে পড়েছিলেন। এমন নেতাদের এমন ভালোবাসার ফলাফল যে আজকে এই ভাবে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে সেটাই স্বাভাবিক। আর তাই প্রশ্নটা করতেই হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর জন্য শেখ হাসিনার মতো কেউ কাঁদছেন কি? সোশ্যাল মিডিয়া থেকে শুরু করে রাস্তাঘাটে কাঁদো বাঙালি কাঁদো বলে যে সব পোষ্টার দেখি তার এক কোনায় উদিয়মান কোন নেতার হাস্যজ্বল ছবি দেখে মনে হয় ওরা বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারকে এতোটাই হাল্কাভাবে নিয়েছে যে, এই ঘটনা তাদের উপর প্রভাবই ফেলতে পারেনি।

অন্তত আর কেউ না দেখুক পুলিশ প্রশাসনতো বিষয়টা দেখছে। একটা উদাহরণ আছে কি বাংলাদেশে যে এমন ভণ্ডামি বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে করা যাবে না বলে হুশিয়ারি দিয়েছে? আর তাই প্রশ্নটা করতেই হলো? আসলে গলদটা কোথায়? কে শেখাবে এসব? শেখ হাসিনাতো ঘরে বসে চোখের পানি ফেলছে। যেহেতু বাবা তার সেহেতু এই বিষয়টা তিনি চোখে আঙুল দিয়ে বলবেনও না। কারণ সেটা শোভনীয় নয়। এটা বলার দায়িত্ব তাদের যারা শেখ হাসিনার একেবারে নিকটে বসে আছেন। কিন্তু আপনারা বলবেন কি? বঙ্গবন্ধুর চলে যাওয়ার পরে ভিরু কাপুরুষের মতো, ছিচকে প্রেমিকের মতো আপনারাই তো পালিয়েছিলেন। তাহলে বলবেন কিভাবে? যাইহোক, অতি অতি অতি গুরুত্বের সাথে বুঝুন, অনুধাবন করুন বঙ্গবন্ধুকে ও তার পরিবারকে এই দিনে হত্যা করা হয়েছিলো। তাদের কেউ বিবাহের দাওয়াত দিতে এসেছিল না। আর তাই ১৫ই আগষ্ট বাংলাদেশে হৈ হৈ রৈ রৈ রব বন্ধ করার জন্য যে ব্যবস্থা নেয়া দরকার সেটা করুন, কি করণীয় সেটা করতে বাধ্য করুন। কেউ নিজের থেকে না শুনলে শুনতে বাধ্য করুন। শেখ হাসিনার মতো কেউ কাঁদবে না এটা সত্য। কিন্তু সম্মানবোধের স্থান যেন হারিয়ে না যায় অন্তত সেই ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় সময় ভালোকিছু উপহার দেবে না। অন্যথায় অর্থ খরচ করে যে শোকের কথা সহ বঙ্গবন্ধুকে চর্চার কথা আমরা বলছি সেটা কখনই পাওয়া যাবে না।

মনে রাখা উচিৎ যে, একটা জাতি যখন নিজের দেশের স্থাপতি সম্পর্কে হালকা ধারণা পোষণ করে তখন সেই জাতি হারায় তাদের গ্রহনযোগ্যতা।

লেখক : সাবেক ছাত্রলীগ নেতা, সদস্য সচিব আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগ

পাঠকের মন্তব্য