সেই ৫ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ

সেই ৫ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ

সেই ৫ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ

আগামী প্রজন্মকে আলোর পথ দেখান শিক্ষকরা । শিশুদের নৈতিকতা শিক্ষা দেয়ার দায়িত্বও তাদের। কিন্তু জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষকরাই নানা রকম অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন। এমনকি পাবলিক পরীক্ষায় নকল সরবরাহ, এমনকি হলে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের উত্তর বলে দিতে পিছপা হচ্ছেন না তারা। দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের একটি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নকল ও এমসিকিউ এর উত্তর সরবরাহ করেছেন এমনই ৫ শিক্ষক। আর নকল সরবরাহকারী সেই  ৫ শিক্ষকের এমপিও স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সাথে এ ৫ শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

নকল সরবরাহকারী শিক্ষক হলেন, অশুগঞ্জ উপজেলার চরচারতলা ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার সহকারী সুপার মো. মাজহারুল ইসলাম (৪২), একই মাদরাসার সহকারী মৌলভী মো. শফিকুল ইসলাম (৩৫), খোলাপাড়া ওমেদ আলী শাহ দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার মো. মহিউদ্দিন (৩৮), তালশহর করিমিয়া ফাজিল মাদরাসার প্রভাষক কবির হোসেন (৪০) ও সরাইল উপজেলার পানিশ্বর মাদেনিয়া গাউছিয়া দাখিল মাদরাসার সহকারী সুপার আব্বাস আলী (৫০)।

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ জানায়, এ পাঁচ শিক্ষকের এমপিও সাময়িকভাবে স্থগিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরকে। একই সাথে নকল সরবরাহকারী পাঁচ শিক্ষকের ‘এমপিও কেন স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হবে না’, তা জানতে চেয়ে পাচ শিক্ষককে শোকজ করতে বলা হয়েছে। আর দায়ী শিক্ষকদের সাময়িক বরখাস্ত করে বিভাগীয় পদক্ষেপ নিতে মাদরাসাগুলোর ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশনা দিতে বলা হয়েছে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডকে। আর নকল সরবরাহের দায়ে পাঁচ শিক্ষককে গত ৩ ফেব্রুয়ারি দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।   

জানা গেছে, দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে কোরআন মাজীদ ও তাজভীদ বিষয়ের পরীক্ষার্থীদের এমসিকিউ এর উত্তর সরবরাহ করেন এ ৫ শিক্ষক। কিন্তু হাতেনাতে ধরা পড়েন তারা। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে নকল সরবরাহের দায়ে ৫ শিক্ষকের প্রত্যেককে দুই বছর করে কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাখিল পরীক্ষার প্রথম দিনে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকালে আশুগঞ্জ সার করাখানা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভ্যেনুতে ছিল কোরআন মাজিদ ও তাজভীদ পরীক্ষা। পরীক্ষা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্র সচিবের পাশের রুমে ওই পাঁচ শিক্ষক পরীক্ষার এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর লিখছিলেন। এসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাজিমুল হায়দার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবুল হোসেন কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। পরে কেন্দ্র সচিবের পাশের রুমে যেতেই এমসিকিউ প্রশ্নের উত্তর লিখাবস্থায় ওই শিক্ষকদের দেখে ফেলেন কর্মকর্তারা। পরে তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা অপরাধ স্বীকার করে নেয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচ শিক্ষকের প্রত্যেককে দুই বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেয়া হয়।

পাঠকের মন্তব্য