নাটোরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাড়ে আটশ’ যক্ষা রোগী

নাটোরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাড়ে আটশ’ যক্ষা রোগী

নাটোরে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সাড়ে আটশ’ যক্ষা রোগী

দেশকে যক্ষা মুক্ত করার লক্ষ্য অর্জনে নাটোরে সাড়ে আটশ’ যক্ষা রোগীর চিকিৎসা চলছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে যক্ষা পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরে বিনামূল্যে সরকার প্রদান করছে এ চিকিৎসা। আজ বুধবার স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁয় নাটাব আয়োজিত ‘যক্ষা নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানানো হয়।

সভায় জানানো হয়, দ্রুত সময়ে যক্ষা পরীক্ষার জন্যে নাটোর টিবি হাসপাতাল এবং বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আধুনিক জিন এক্সপার্ট মেশিন সংস্থাপন করা হয়েছে। অল্প সময়ে অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ মেশিন সংস্থাপন করা হচ্ছে।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশে প্রতিলাখে প্রতিবছর ২২১ জন যক্ষায় আক্রান্ত হলেও নাটোর জেলায় আক্রান্তের এ হার লাখে ১০৭ জন। বর্তমানে জেলায় যক্ষায় আক্রান্ত প্রায় সাড়ে আটশ’ রোগীর চিকিৎসা চলছে। এদের মধ্যে ৮৩৫ জন সাধারণ যক্ষা রোগী এবং আটজন ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষা রোগী। সাতটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও একটি টিবি ক্লিনিকে যক্ষাপরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। যক্ষা রোগীদের ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করে সরকার। তৃণমূলে কর্মরত ব্র্যাকের এক হাজার ৮০ জন ডটস (সরাসরি পর্যবেক্ষণ চিকিৎসা) প্রোভাইডার এর অবস্থানে যেয়ে সাধারণ যক্ষা রোগীরা ওষুধ সেবন করেন। তবে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষা রোগীদের ক্ষেত্রে রোগীর বাড়িতে যেয়ে ডটস প্রোভাইডাররা ওষুধ সেবন করিয়ে থাকেন। যেসব যক্ষা রোগী অনিয়মিত ওষুধ সেবন করেন তারা পরবত্ততীতে ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষা রোগীতে পরিণত হন, আবার তাদের সংস্পর্শে আসা মানুষেরাও ওষুধ প্রতিরোধী যক্ষা রোগীতে পরিণত হন। এক্ষেত্রে তাদের চিকিৎসা হয়ে উঠে সময় সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। তাই প্রত্যেক যক্ষা রোগীকে নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। নিয়মিত ওষুধ সেবনে যক্ষা পুরোপুরি ভালো হয়।

সভায় বক্তারা আরো বলেন, এক নাগাড়ে দুই সপ্তাহ বা তার অধিক সময় ধরে কাশি যক্ষার প্রধান লক্ষণ। বিকেলে অল্প জ্বর, ওজন কমে যাওয়া, দুূর্বলতা, খাবারে অরুচিও যক্ষার লক্ষণ। যক্ষার ৯৮ শতাংশ ফুসফুসে হয় এবং অবশিষ্ট দুই শতাংশ টিউমার আকারে শরীরের অন্য কোন অংশে দেখা দিতে পারে।

বাংলাদেশ জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতি-নাটাব নাটোর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনামুর রহমান চিনুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন নাটোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মাহবুবুর রহমান, নাটোর সদর হাসপাতালের সাবেক আরএমও ডাঃ আবুল কালাম আজাদ ও ব্র্যাকের জেলা ব্যবস্থাপক দুলাল কুমার সরকার।

পাঠকের মন্তব্য