কোয়ারেন্টাইনে না গেলে জেল নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

কোয়ারেন্টাইনে না গেলে জেল নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

কোয়ারেন্টাইনে না গেলে জেল নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর 

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস  (corona virus)-র প্রকোপ যেখানে ছড়িয়েছে। সেই দেশগুলি থেকে ফিরে আসা বাংলাদেশিরা যদি কোয়ারেন্টাইনে না যান। তাহলে তাঁদের জেল ও জরিমানা করা হবে বলে জানিয়ে দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। 

শনিবার দুপুরে ঢাকায় আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকে এই হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইন যারা ভঙ্গ করবেন বা কোনও তথ্য গোপন করবেন। তাঁদের উপর তথ্য আইনে যেটা আছে, কোয়ারেন্টাইনের আইনে যেটা আছে, সংক্রামক রোগের আইনে যেটা আছে সেই আইন প্রয়োগ করা হবে। এর মধ্যে জেল ও জরিমানারও ব্যবস্থা আছে। ঢাকা-সহ প্রত্যেকটি জেলায় হাসপাতাল তৈরি করা হয়েছে। আমাদের চিকিৎসক ও নার্সদের রেডি রাখা হয়েছে। আমাদের যে কমিটি আছে, জাতীয় কমিটি, জেলা উপজেলা কমিটি খুবই তৎপর এবং তারা ভালো কাজ করছে। বিদেশ থেকে যাঁরাই আসছেন, তাঁদের কোয়ারেন্টাইনে রাখছে এবং নজরদারি চালাচ্ছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক যখন এই মন্তব্য করছেন তখনই করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে দিল্লিতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকার পর দেশে ফিরছেন ২৩ জন। শনিবার বিকেল তিনটের সময় ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইট ওই যাত্রীদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। তারপরই ওই যাত্রীরা বাড়ি চলে যান। তার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তার আগে সকালে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁদের বিদায় জানান ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার মহম্মদ ইমরান। শিক্ষার্থীরা এই সময় সরকারের আর্থিক সহযোগিতা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার জন্য দিল্লি ও বেজিং দূতাবাসের আধিকারিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশন জানিয়েছে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বায়ুসেনার একটি বিশেষ বিমানে অন্য ভারতীয়দের সঙ্গে এই ২৩ জন বাংলাদেশিকে চিনের ইউহান থেকে ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর তাঁদের দিল্লিতে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। গত বছরের ডিসেম্বরে চিনের হুবেই প্রদেশের ইউহান শহরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। বর্তমানে বিশ্বের অন্তত ১২৫টি দেশ ও অঞ্চলে করোনার প্রকোপ ছড়িয়ে পড়েছে। এপর্যন্ত করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচ হাজার ৪৫৬ জন।

এদিকে ইটালি থেকে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে আসা ১২৬ জন যাত্রীকে কোয়ারেন্টাইনে রাখার জন্য হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪২ জন যাত্রী নিয়ে ঢাকায় আসে এমিরেটসের আলোচিত সেই ফ্লাইটটি। অন্য যাত্রীরা দুবাই থেকে ফ্লাইটে উঠেন। এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইটালির রোম থেকে ১৪২ জন বাংলাদেশিকে আশকোনা হজ ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে রেখে তাঁদের পরীক্ষা করাব। দেখব তাঁরা সংক্রামিত কি না। যদি দেখি তাঁরা সকলে সুস্থ আছেন, তাহলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। এবং সেটা হবে তাঁদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা।’

পাঠকের মন্তব্য