করোনাভাইরাসের জন্য থমকে গেছে পৃথিবী 

করোনাভাইরাসের জন্য থমকে গেছে পৃথিবী 

করোনাভাইরাসের জন্য থমকে গেছে পৃথিবী 

করোনাভাইরাসের জন্য পৃথিবী থমকে গেছে। মৃত্যু হয়তো এর চেয়ে বেশি হচ্ছে অন্যান্য কারণে কিন্তু পৃথিবীর অর্থনৈতিক চাকা ফুটো করে দিয়েছে। নানান সূত্রে জানা যায় প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ বেকার হবে। ঢাকার রাস্তায় দাঁড়িয়ে আজ বিকেলে ভাবছিলাম। যে শহরের রাস্তার ফুটপাথেও মানুষের জন্য হাঁটা যায় না সেই শহরের রাস্তায় এখন ফুটবল খেলার মাঠের মতো।

গলির মোড়ে রিকশা ট্যাক্সি দাঁড়িয়ে আছে। চালকদের বিষন্ন মুখ যেন হৃদয় বিদীর্ণ করে। আজকে বিশ মিনিটে গুলশান থেকে মোহাম্মদপুরে এলাম। চালক বলল, সময় কম লাগছে ঠিকই কিন্তু ক্ষ্যাপ তো নেই। গাড়ির মালিককে জমা কইত্তে দিমু ?

বাংলাদেশে অনেক অফিসে রোজ হাজিরায় চাকরির বিধান সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই দিন হিসেবে বেতন পান। করোনার জন্য অনেক অফিস এখন বাসায় থেকে কাজ করার জন্য নিয়ম করেছে। যারা বাসায় বসে কাজ করবেন তারা বেতন পাবেন। কিন্তু যারা রোজ হাজিরায় বেতন পেতেন তাদের কী হবে? কীভাবে দেবে বাসা ভাড়া ? কীভাবে আসবে খাবার ? এদিকে দস্যুরা জিনিসপত্রের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে ইচ্ছেমতো।

আসলে বাংলাদেশের মানুষ কত অসহায় তা ভাবা যায় না।

পথখাবার, পথহকারদের জীবনও চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। কানাডার ট্রুডো সাহেব নাগরিকদের বাসা ভাড়াসহ যাবতীয় বিষয়ের দায়িত্ব নিয়েছে, আমাদের সরকার কি পারবে কাউকে সাহায্য করতে?

করোনার আক্রমণ পৃথিবীর অন্যান্য দেশের সঙ্গে নানা কারণেই বাংলাদেশের বিস্তর ফারাক রয়েছে। অন্য কোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশকে তুলনা করলে তা হবে বড় ভুল। আমাদের সকল কাঠামোই দুর্বল। অর্থনীতির প্রাণশক্তি গার্মেন্টসের অনেক চালান বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব কত দিন থাকে কে জানে। বৈদেশিক মুদ্রাও কমে যাবে মারাত্মকভাবে। একই সঙ্গে দেশীয় শিল্পের উৎপাদনও কমে যাবে ফলে আবগারী করও কমে যাবে মারাত্মকভাবে।

পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো হয়তো পুষিয়ে উঠবে দ্রুত কিন্তু বাংলাদেশের মতো দেশকে করোনার ধাক্কা সামলাতে অনেক বেগ পেতে হবে।
তবু আমাদের বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করতে হবে।

স্বপ্নময় চোখ এখন দুঃস্বপ্নের কলোনি।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : মোজাম্মেল হক নিয়োগী

পাঠকের মন্তব্য