সম্পাদকীয় : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

সম্পাদকীয় : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

সম্পাদকীয় : করোনাভাইরাস প্রতিরোধে করণীয়

যেহেতু এখন পর্যন্ত করোনা রোগের ভালো কোনো ওষুধ নেই এবং ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি সে কারণে আমাদেরকে প্রতিরোধের ওপরই সবচেয়ে বেশি জোর দিতে হবে। আমরা জানি, যেকোনো রোগ নিরাময়ের চেয়ে প্রতিরোধ অনেক সহজ ও সস্তা। যদিও এই করোনাভাইরাস প্রতিরোধ অন্য রোগের চেয়ে একটু বেশি কঠিন। তবুও জীবন বাঁচাতে আমাদেরকে এই কঠিন যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে। এটাকে যুদ্ধ বলছি এই কারণে যে, আপনাকে ঘরের বাইরে গিয়ে মুক্ত বাতাসে শ্বাস নেওয়ার ক্ষেত্রেও সতর্ক হতে হবে। 

কারণ বিজ্ঞানীরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির সময় ভাইরাসযুক্ত যে জলীয় কণা (ড্রপলেট) বেরিয়ে আসে তা কিছুক্ষণ বাতাসেও থাকতে পারে। এছাড়া যেকোনো বস্তুর ওপর এই ভাইরাসের বেঁচে থাকার ক্ষমতা আরও বেশি। বাইরের কোনো বস্তু স্পর্শ করলেই এই সন্দেহ করতে হবে যে, করোনাভাইরাস হয়তো আপনার হাতে লেগে আছে। এ কারণে ঘরের বাইরে বের হলেই মাস্ক পরতে হবে, যেসব পথ দিয়ে মানুষের চলাচল বেশি সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।বাইরের কোনো কিছুতে হাত লাগলেই দ্রুত সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। মুখে, নাকে ও চোখে হাত দেওয়া যাবে না। মাস্ক একদিকে যেমন আপনার দেওয়া হাঁচি-কাশি থেকে অন্যকে রক্ষা করে তেমনি আপনার হাতকেও সহজেই মুখে-নাকে স্পর্শ করার সুযোগ দেয় না।

এই অদৃশ্য শত্রুর আরেকটি ভয়ানক বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, বাহ্যত পুরোপুরি সুস্থ মানুষও এই ভাইরাসের বাহক হতে পারে, বাহকের শরীরে রোগের কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই সংস্পর্শে আসা অন্য জনের শরীরে গিয়ে তা বাসা বাধতে পারে। আবার অনেক বাহকের শরীরে কখনোই এই রোগের কোনো উপসর্গ দেখা দেয় না এবং কিছু দিনের মধ্যে বাহকের রোগ প্রতিরোধ শক্তির কাছে তা পরাস্ত হয়। অবশ্য এই বৈশিষ্ট্যের মধ্যে একটি ইতিবাচক বার্তাও রয়েছে আর তাহলো করোনাভাইরাস সবাইকে কাবু করতে পারে না। যাদের রোগ প্রতিরোধ শক্তি বেশি তারা আক্রান্ত হলেও দ্রুতই সেরে ওঠেন। 

এ কারণে চিকিৎসকরা বলছেন, এই অদৃশ্য শত্রুর হাত থেকে দূরে থাকার সর্বোত্তম উপায় হচ্ছে পারতপক্ষে ঘরের বাইরে না যাওয়া। কিন্তু তৃতীয় বিশ্বের মানুষের সবার পক্ষে হয়তো ঘরে থাকার ফর্মুলা মেনে চলা সম্ভব নয়। কারণ এসব দেশের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ শ্রমজীবী, তারা যেদিন যা আয় করেন সেদিনই তা খরচ হয়ে যায়। কিন্তু অন্তত যাদের ঘরে থাকা সম্ভব তাদেরতো উচিত বাইরে না বেরিয়ে রোগ প্রতিরোধে সহযোগিতা করা।

পাঠকের মন্তব্য