‘সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা নেই’

‘সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা নেই’

‘সংবাদপত্রের মাধ্যমে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা নেই’

খবরের কাগজের মাধ্যমে নভেল করোনাভাইরাস ছড়ানোর আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, প্যাকেটজাত কোন পণ্যের মাধ্যমে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা নেই। আর যেহেতু খবরের কাগজ পুরোপুরি যান্ত্রিকভাবে উৎপাদিত হয়ে প্যাকেটজাত হয় এবং প্রান্তিক পর্যায়ে গিয়ে খোলা হয়, তাই খবরের কাগজ থেকে এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

শুধু খবরের কাগজই নয়, ই-কমার্স সাইট থেকে অনলাইনে অর্ডার করে ডাক বা পার্সেলযোগে পাঠানো পণ্য বা নথির ক্ষেত্রেও ঝুঁকির কিছু নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে প্রশ্ন ছিল, কভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে প্যাকেটজাত পণ্য গ্রহণ করা কি নিরাপদ? উত্তরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ‘হ্যাঁ, নিরাপদ। কোন সংক্রমিত ব্যক্তির মাধ্যমেও বাণিজ্যিকভাবে প্যাকেটজাত করা পণ্যে ভাইরাস সংক্রমিত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তাছাড়া এ ধরনের প্যাকেট সাধারণত অনেক দূর ঘুরে, বিভিন্ন তাপমাত্রা ও বিভিন্ন অবস্থায় রাখার পর তা ভোক্তার কাছে পৌঁছায়, একারণে এতে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে না।’

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খবরের কাগজ তৈরি হয় পুরোপুরি যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়। এটি সরবরাহও করা হয় বিশেষায়িত যানবাহনে। তাই এখানে সংক্রমণের আশঙ্কা নেই। গত ডিসেম্বরের শেষের দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া মহামারী নভেল করোনাভাইরাসে প্রায় পুরো বিশ্বেই ‘অকার্যকর’ পরিস্থিতি সৃষ্ঠি হয়েছে। অধিকাংশ মানুষ এখন ঘরে বসে দিন পার করছেন। করোনা শঙ্কায় বাইরে থেকে সবধরনের জিনিসপত্রও বাড়িতে ঢোকাতে ভয় পাচ্ছেন অনেকেই। নিত্য প্রয়োজনীয় খাবারের সঙ্গে বন্ধ করে দিয়েছেন বাড়িতে পত্রিকা রাখাও।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন বৈশ্বিক সংকটের সময় সবকিছুই বন্ধ করার পরামর্শ দেয়া হলেও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, খাবার, ওষুধের সঙ্গে সংবাদপত্রও এর বাইরে রাখা হয়েছে। মূলত এমন সময় সঠিক তথ্য ও দিক নির্দেশনা প্রত্যেকের খুব জরুরি। তাই ভীত হয়ে সংবাদ-পত্র বন্ধ নয়, বরং সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।

তবে খাবার-দাবার কিনে আনলেও খবরের কাগজের পাতা ওল্টাতে এখন দু’বার ভাবছেন কেউ কেউ। এ ক্ষেত্রে হু-র বক্তব্য, ‘‘কেউ এক জন সংক্রমিত হলেও তাঁর থেকে প্যাকেটে বা খবরের কাগজে নোভেল করোনাভাইরাস লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। তা ছাড়া, এই ধরনের প্যাকেট ও সংবাদপত্র বহু এলাকা ও নানা রকম তাপমাত্রা পার করে পৌঁছয়। এ কারণে ওই সব প্যাকেটের বা কাগজের মাধ্যমে করোনাভাইরাস ছড়ানোর সম্ভাবনা আরও কম।’’

তবে এক্ষেত্রে পত্রিকার হকারদের আরো বেশি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। মাস্ক, গ্লোভস পরে পত্রিকা বা ওই ধরনের প্যাকেট সরবরাহ করতে উৎসাহিত করতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

ইন্টারন্যাশনাল নিউজ মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সিইও ই জে উইলকিনসন এ বিষয়ে একটি ব্লগ পোস্ট করেছেন। তিনি বলছেন, ‘বিশ্বের কোথাও এখন পর্যন্ত সংবাদপত্র, চিঠি বা অন্য কোন কাগজের মাধ্যমে এই ভয়াবহ ভাইরাসটি ছড়িয়ে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি।’

পাঠকের মন্তব্য