ঝিনাইদহে গৃহবধূর আত্মহত্যা : পিতা-মাতার অভিযোগ হত্যা

ঝিনাইদহে গৃহবধূর আত্মহত্যা : পিতা-মাতার অভিযোগ হত্যা

ঝিনাইদহে গৃহবধূর আত্মহত্যা : পিতা-মাতার অভিযোগ হত্যা

ঝিনাইদহের সদর উপজেলার সাধুহাটি ইউনিয়নের মাটিকুমড়া গ্রামে গত ২২মার্চ রবিবার সকালে নাজমা খাতুন (২৮) নামে এক গৃহ বধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়।মৃত নাজমা খাতুন ওই গ্রামের দরবেশ আলীর ছেলে মিজানুর রহমানের স্ত্রী এবং একই ইউনিয়নের এনায়েতপুর গ্রামের ইউনুস আলীর মেয়ে।

এঘটনাই গত ২২মার্চ রবিবার ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করে পুলিশ এবং লাশের ময়না তদন্ত করে দাফন কাজ সম্পন্য করা হয়। ঘটনাটি নাজমা খাতুনের স্বামী মিজানুর রহমান ও তার পরিবার আত্মহত্যা দাবি করলেও নাজমা খাতুনের পিতা ইউনুস আলী ২৫মার্চ বুধবার দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে বলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

মিজানুর রহমানের এক প্রতিবেশি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শনিবার রাতেও তাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন এক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হচ্ছিল।

নাজমা খাতুনের মা তহমিনা খাতুন জানান, আমার মেয়ে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। জামাই প্রায়ই আমার মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন করতো। আগের দিন রাতেও জামায় নাজমাকে মেরেছে। রবিবার সকাল ৭ টার দিকেও আমাকে পাড়ার একটি নাম্বার থেকে ফোন করে বলে তার মোবাইল কেড়ে নিয়েছে।

২৫ তারিখ বুধবার উপপরিদর্শক মোকলেছুর রহমান জানান,’ মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে আমরা যেয়ে রবিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে সুরত হাল তদন্ত করে ময়না তদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করি। ২২ তারিখ রবিবার ঝিনাইদহ সদর থানায় এবিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রেকর্ড হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসলে বোঝা যাবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা।

এই বিষয়ে ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এবিষয়ে ২২ তারিখে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর যদি এটা হত্যা বলে প্রমাণিত হয় তবে অবশ্যই মামলা হবে।

নাজমা খাতুনের বাবা বলেন,’ মৃত্যুর দিন থেকেই আমরা যাতে মামলা না করি সেই জন্য ইউনিয়নের প্রভাবশালী লোক দিয়ে চাপ সৃষ্টি করে আপোষ মিমাংশার কথা বলা হচ্ছে। আমি আমার অন্তঃসত্ত্বা মেয়ের হত্যাকারীদের বিচার চাই।

পাঠকের মন্তব্য