আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি'র মুখে হাসি ফোটালেন শেখ হাসিনা 

আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি'র মুখে হাসি ফোটালেন শেখ হাসিনা 

আন্দোলনে ব্যর্থ বিএনপি'র মুখে হাসি ফোটালেন শেখ হাসিনা 

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান টিপু, উপ-সম্পাদকীয় : করোনা সংক্রমণ এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন জানিয়েছিল বিএনপি। গত পরশু এই বিষয়ে সরকার ইতিবাচক সিদ্ধান্ত জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেন, বুধবারই মুক্তি দেওয়া হবে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী বুধবার বিকেল সোয়া চারটের সময় রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (BSMMU)-এর প্রিজন সেল থেকে মুক্তি দেওয়া হল বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে। বেলা দুটোর সময় জেল কর্তৃপক্ষের তরফে তাঁর মুক্তির ছাড়পত্র পৌঁছে দেওয়া হয় BSMMU এরপর দু ঘ্ণ্টা পরেই মুক্তি পান বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া । এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুশির আমেজ ছড়িয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মী ও সদস্যদের মধ্যে। 
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে নিয়ে ঢাকার অবস্থিত গুলশানে তাঁর বাসভবনে পৌঁছান তাঁর ভাই শামিম ইস্কান্দার, বোন সেলিনা ইসলাম ও ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমানের বড় বোন শাহিনা খান। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে ছমাসের জন্য মুক্তি দেওয়া হলেও কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যার জেরে কোনওভাবেই দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।

যে শর্তে খালেদা জিয়ার সাজা ছয় মাসের জন্য স্থগিত করেছে সরকার সেই শর্ত ভঙ্গ করলে তা বাতিল হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বুধবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি। সরকার চাইলে খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করতে পারে বলেও মতামত দেন অ্যাটর্নি জেনারেল এদিকে, বুধবার বিকাল ৪টার পর কারা হেফাজতে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মুক্তি পান খালেদা জিয়া।

২০১৮ সালে জেলে যাওয়ার পর থেকে দু’বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। তাঁর মুক্তির জন্য বিএনপি অনেক আন্দোলন সংগ্রাম করেও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। তাই নেতারা ও খালেদা জিয়ার স্বজনরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে খালেদা জিয়ার মুক্তির আবেদন জানান। এরপরই বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণের কথা ভেবে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মঙ্গলবার জরুরি ভিত্তিতে সাংবাদিক বৈঠক করে এই কথা জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও।

তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার বয়স বিবেচনা করে সরকার খালেদা জিয়ার সাজা ছ’মাসের জন্য স্থগিত রাখছেন। এই কারণে তাঁকে ছ’মাসের জন্য মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০৬ ধারায় তাঁর সাজা ছ’মাস স্থগিত করা হয়েছে। তবে তিনি বাড়িতে থেকে চিকিৎসা করাবেন এবং বিদেশ যেতে পারবেন না। এই শর্তে তাঁকে মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এই বিষয়ে একটি প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছেও পাঠানো হয়েছে।
 
দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে আইনি প্রক্রিয়া বা রাজনৈতিক চাপে কারাগার থেকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি। বিএনপি এতদিন বক্তৃতা-বিবৃতিতে সরকারের উদ্দেশে হুমকি-ধমকি দিয়ে বলতো, আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা হবে। সেই সঙ্গে সরকারের পতন ঘটানোর কথাও জোরেশোরে বলা হতো। ২০১৪ সালে নির্বাচনের সময় এবং ২০১৫ সালে সরকারের প্রথম বর্ষপূর্তির দিনগুলোতে বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে আন্দোলন সৃষ্টি করতে মাঠে নেমেছিল। নির্বাচন এবং এমনকি আলোচনা বয়কট করে ঠিকই, কিন্তু নেতারা রাস্তায় নামে না। সর্বোপরি ধৈর্য ধরে আন্দোলনকে জনসম্পৃক্ত করার পথে না গিয়ে ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টিতে তৎপর হয়। নিজেদের ওজন ও ফলাফল নিয়ে হিসাবে চরম ভুল করে বিএনপি। ওই পর্ব শেষ হওয়ার পর আন্দোলন নিয়ে তর্জন-গর্জনই হয় বিএনপির একমাত্র কাজ। 

লেখক : প্রকাশক ও সম্পাদক, প্রজন্মকন্ঠ

পাঠকের মন্তব্য