করোনা আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে রংপুরের স্থানীয় পত্রিকাগুলো

করোনা আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে রংপুরের স্থানীয় পত্রিকাগুলো

করোনা আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে রংপুরের স্থানীয় পত্রিকাগুলো

করোনা আতঙ্কে বন্ধ হয়ে গেছে রংপুরের স্থানীয় পত্রিকাগুলো। দু’একটি বাদে বেশিরভাগ পত্রিকা বন্ধ হয়েছে কোন রকম ঘোষণা ছাড়াই। মূলত পাঠকের অভাব তারপর পত্রিকা সরবরাহ ও প্রকাশনার সঙ্গে জড়িত কেউই কাজ না করায় অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রকাশনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মালিকেরা।  

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মহামারী আকারে পৃথিবীজুড়ে ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতি এই ভাইরাসের সক্রমণ রোধে সরকারের সঙ্গ নিরোধ কার্যক্রমের কারণে লোকজন বাইরে বের না হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ পাঠক যেমন শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে, অন্যদিকে হকারদের অনীহায় নিয়মিত পাঠকদের কাছে পত্রিকা পৌঁছানো সম্ভব না হওয়ায় নিজ নিজ কর্তৃপক্ষ প্রকাশনা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

তবে সংবাদ ও বিজ্ঞাপন ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনার প্রভাবে বিজ্ঞাপন পাওয়াই যাচ্ছিলো না। ডেস্ক ও মাঠ পর্যায়ের সংবাদকর্মীরা সংবাদ দিচ্ছে না। দিলেও সেসব কেবল করনা সংক্রান্ত খবর। 

স্থানীয় দৈনিক দাবানলের প্রধান বার্তা ও পরিকল্পনা সম্পাদক জিএম জয় বলেন, আয়ের প্রধান উৎস্য বিজ্ঞাপন পাওয়া যাচ্ছে না, তারপরও কেবল করোনাকেন্দ্রিক নিউজ দিয়ে পত্রিকা বের করা সম্ভব হচ্ছে না। 

স্থানীয় প্রভাবশালি দৈনিক যুগের আলোর বার্তা সম্পাদক নজরুল মৃধা জানান, মূলত হকাররা পত্রিকা বিলি বন্ধ করে দেয়ায় পত্রিকার প্রকাশনা অব্যাহত রাখা যাচ্ছে না। তার মতে স্থানীয় পত্রিকাগুলোর ৫০ হাজারের মতো পাঠক এ কারণে স্থানীয় সংবাদ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নিজস্ব ছাপাখানা ও তাদের সংবাদকর্মীরা কাজ অব্যাহত রাখার পরও তারা পত্রিকা প্রকাশনা বন্ধ রেখেছেন।

যুগের আলো ও বায়ান্নোর আলো নিয়মিতভাবে ৮ পৃষ্ঠার রঙ্গীন কলেবরে প্রকাশ হতো। চার পৃষ্ঠার রঙ্গীন কলেবরে নিয়মিত প্রকাশনা ছিলো প্রতিদিনের সংবাদ, পরিবেশ ও প্রথম খবর। এছাড়াও চার পৃষ্ঠার বাইকালার প্রকাশ হতো দাবানল ও তিস্তা সংবাদ। চার পৃষ্ঠার সাদা-কালো কলেবরে হতো আমাদের প্রতিদিন, মায়াবাজার, আঁখিরা, সাইফ ও অর্জন নামের দৈনিক পত্রিকাগুলো। নতুন স্বপ্ন নামে একটি দৈনিক অনিয়মিতভাবে প্রকাশ হয়ে আসছিলো রংপুর থেকে। 

পত্রিকা এজেন্ট ও হকাররা জানিয়েছেন, মূলত জাতীয় পত্রিকার সঙ্গে স্থানীয় পত্রিকাগুলো বিভিন্ন অফিস আদালত ও বাসা-বাড়িতে তারা দিতেন। ৪/৫টি বাদে বেশিরভারগ জাতীয় পত্রিকা এখন আর আসছে না, যে কটি আসছে তাও খুবই কমসংখ্যায়। তাই ঝুঁকি নিয়ে গ্রাহকদের কাছে পত্রিকা দেয়া বন্ধ রেখেছেন। প্রশাসনিক কিছু কর্মকর্তাসহ সীমিত আকারে কিছু গ্রাহকের কাছে বিশেষ ব্যবস্থায় তারা পত্রিকা সরবরাহ করছেন। এটুকুও কতোদিন অব্যাহত থাকবে তা অনিশ্চিত বলে জানান তারা।

পাঠকের মন্তব্য