মহামন্দার দিকে ঝুঁকছে পৃথিবী 

মহামন্দার দিকে ঝুঁকছে পৃথিবী 

মহামন্দার দিকে ঝুঁকছে পৃথিবী 

এ পর্যন্ত খবর হলো, এককেন্দ্রিক বিশ্বের পোলারাইজেশন ইতোমধ্যে চেঞ্জ হয়ে গেছে। এ মূহুর্তে পৃথিবীর নেতৃত্বের আসনে আর আমেরিকা নেই, যোগ্যতার আসনেও আপাতত আমেরিকা নেই এবং জাতিসংঘ একটি অপ্রয়োজনীয় কাগুজে বাঘে পরিণত হয়েছে।

আমেরিকা সম্ভবত এ বিপর্যয় নভেম্বর পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাবে। নভেম্বরের নির্বাচন জরুরী অবস্থার দাবিতে পিছিয়ে দিতে পারলে তারপর তারা যুদ্ধে যাবে। কারণ তাদের একমাত্র পণ্য ডলার এখন বিপদে আছে। ডলারের উপর পৃথিবীর একক নির্ভরতা আপাতত আর থাকতেছে না।

জীবাণু যুদ্ধে কোন প্রমাণিত শত্রু না পেলেও তারা শত্রু সৃষ্টি করবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তারা তাদের মতো করে প্রমাণের খুব কাছাকাছি আছে। কিন্তু তারা অপেক্ষা করবে তাদের নির্বাচন পর্যন্ত। সে জন্যে তাদের আরো লাশ লাগবে। যুদ্ধকে যৌক্তিক করতে হলে তাদের লাখের উপরে লাশ লাগবে,--ডোনাল্ড ট্রাম্প এক রকম যার ইঙ্গিতও দিয়েছেন।

গত একশ বছরের পৃথিবীর সব বড় বড় যুদ্ধে তাদের ইনফ্লুয়েন্স ছিলো, কিন্তু কোন যুদ্ধেই সেভাবে তাদের মাটি আক্রান্ত হয়নি; না আসমানী মসিবত, না জমিনের মসিবত। ৯/১১ এর টুইন টাওয়ারের হামলা বাদ দিলে কোন যুদ্ধেই তাদের মাটিতে তাদের মানুষ তত মারা যায়নি। এবার তাদের মৃত্যুর মিছিল ৯/১১ কেও ছাড়িয়ে গেলো।

এখন অনেক প্রাণহানির পরেও তারা খুব ধীরে এগুচ্ছে। তারা নতুন খবর বাজারে ছেড়েছে যে, করোনা ভাইরাস বাতাসে ২৭ ফুট দূরে থেকেও আক্রমণ করতে পারে। এ ২৭ ফুট সময়ের সাথে সাথে উড়ে উড়ে বাড়তে থাকবে।

এর অর্থ হলো, উহানের এ ভাইরাসের উচিত ছিলো চীনের ৩৪টি অঙ্গরাজ্যে ছড়ানো এবং চীনের সীমান্তের ১৪টি দেশে ছড়ানো। কিন্তু তা এশিয়া ছেড়ে, আফ্রিকাকে উপেক্ষা করে, উহান থেকে সাড়ে আট হাজার কিলোমিটার দূরের ইতালিতে গিয়ে কিভাবে আছড়ে পড়লো আর ১২ হাজার কিলোমিটার দূরের আমেরিকার ৫০টি রাজ্যে কিভাবে প্রায় একত্রে আক্রমণ করলো !

পর্যটকদের মাধ্যমে সেকেন্ডহ্যান্ড সংক্রমিত ভাইরাসতো যাওয়ার কথা ছিলো ভারত, মিশর, থাইল্যান্ড, নেপাল কিংবা পেরুর মতো দেশে! তা না করে, কিভাবে পৃথিবীর নেতৃত্ব দেওয়া বার-তেরটি রাষ্ট্রকে দৌঁড়ের উপরে রাখলো, যেখানে বাকী বিশ্ব এখনো এক রকম নিরাপদ দূরত্বে রইলো !

অভিযোগের পালে হাওয়া লাগবে, আমেরিকাসহ ন্যাটোর দেশগুলির বাতাসে জীবাণু ছড়ানো হয়েছে, যেহেতু এটি তাদের মতে একটি জীবাণু যুদ্ধ। তাই চীন এ ষড়যন্ত্রে যুক্ত হোক বা না হোক, যুদ্ধ অনিবার্য।

এই যুদ্ধ সত্যের জন্যে নয়। এই যুদ্ধ হলো, বিশ্ব নেতৃত্ব ধরে রাখার যুদ্ধ। ইউরোপ গত সাড়ে তিন হাজার বছর ধরে পৃথিবীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। তারা তাদের গদি ছাড়তে চাইবেনা, অথচ তাদের অর্থনীতি ইতোমধ্যে ধ্বসে গেছে।

তারা তাদের অর্থনীতির এ ধ্বংসস্তুপের উপর দাঁড়িয়েও পৃথিবীর নেতৃত্ব দিতে চাইবে। সে জন্যে উচিয়মান নেতৃত্বকে গুড়িয়ে দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন গত্যন্তর নেই। তারা সেটা করতে পারবে কি পারবেনা সেটা ভিন্ন বিষয়, কিন্তু তারা তা করতে চেষ্টা করবে। তাই মনে করা যেতে পারে, পৃথিবী লম্বা সময়ের জন্যে একটি অনিশ্চয়তার দিকে যাচ্ছে।

এক্ষেত্রে আমাদের করণীয় হলো, প্রথমত বেঁচে থাকার জন্যে গণ স্পর্শ এড়িয়ে ঘরে থাকা, বিচ্ছিন্ন থাকা, ঘরে থাকা। তারপর প্রাথমিক ধাক্কা কেটে গেলে সম্পদ ব্যবহারে সচেতন হওয়া, বিলাস দব্য কম ব্যবহার করা, অপচয় রোধ করা এবং ভবিষ্যত অনিবার্য মহামন্দার মোকাবেলার জন্যে দক্ষতা অর্জন করা, পরিকল্পনা করা এবং সে মতো কাজ করা।

লেখক : গবেষক ও কলামিস্ট 
ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Md Golam Sarwar

পাঠকের মন্তব্য