অবাধে চলাচলে কঠোর অবস্থানে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

অবাধে চলাচলে কঠোর অবস্থানে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

অবাধে চলাচলে কঠোর অবস্থানে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকার সবাইকে বাসায় থাকার পরামর্শ দিলেও তা অনেকেই মানছিলেন না। অবাধে চলাচল করছিলেন দেশের জনগণ। যার কারণে গতকাল ঘোষণা দেয়া হয়েছিলো সেনাবাহিনী কঠোর অবস্থানে যাবে।

আজ বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর জিগাতলা, ধানমন্ডি ১৫ নম্বর, শঙ্কর, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে গিয়ে দেখা গেছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় আজ পুলিশ চেকপোস্ট অনেক বেশি। খুব কঠোরভাবে অবস্থান নিয়েছে পুলিশ, র‍্যাব ও সেনাবাহিনী।

মোটরসাইকেল বা রিকশায় একজনের বেশি দেখলেই তাদের নেমে যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। অনেকে এসে পুলিশের কাছে অনুরোধ করলেও পুলিশ তাদের যেতে দিচ্ছে না। পুলিশ সদস্যরা তাদের বুঝিয়ে বলছিলেন যে, আমরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে কষ্ট করছি আপনাদের জন্য। আপনারা দয়া করে বাসায় থাকুন।

কথা হয় রাজধানীর শঙ্কর বাসস্ট্যান্ডে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্য মোহাম্মদ মইনুল ইসলামের সঙ্গে।

তিনি বলেন, গত দুই তিনদিন রাস্তায় অনেকেই ঘোরাঘুরি করেছে। প্রচুর ব্যক্তিগত যানবাহন ও রিকশা চলাচল করেছিলো। কিন্তু আজ কোনো যানবাহন চলাচল করতে দেয়া হচ্ছে না। অতি প্রয়োজন ছাড়া কাউকেই কোথাও যেতে দেয়া হচ্ছে না।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের জনগণ আসলে নিজেদের ভালো বুঝতে চায় না। তাদের অনেকভাবে এই কয়দিন বুঝিয়েছি যেন তারা বাসায় থাকেন। কিন্তু অনেকেই এ কথা কানেই নিচ্ছিলেন না। যার কারণে আজ আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কঠোর হতে হয়েছে। আমাদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে আজ থেকে কোনো ছাড় নয়। কথা হয় এক পথচারী মোহাম্মদ তামিম হোসেনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, আমি বাজার করার জন্য বের হয়েছি। প্রয়োজন ছাড়া আমি বাসার বাইরে বের হইনা। আজ বের হয়েই পুলিশের জেরার মুখে পড়তে হয়েছে আমাকে। তবে আমি বলবো পুলিশ বা সেনাবাহিনী আজ যে কঠোর অবস্থানে রয়েছে এটা অনেক ভালো পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপ আরো আগে নিলে হয়তো আরো ভালো হতো।

তিনি বলেন, আমাদের সাধারণ জনগণের আরো সচেতন হতে হবে। করোনাভাইরাসের কারণে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে। আর আমরা তা দেখেও কিছুই সিরিয়াসলি নিচ্ছি না। এটা খুব দুঃখজনক। তাই আমি বলবো সবাই আমরা সচেতন হই। প্রয়োজন ছাড়া বের না হই বাসা থেকে।

এর আগে গতকাল আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিলেন, আজ থেকে সেনাবাহিনী স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তার অংশ হিসেবে দেশের সকল স্থানে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং হোম কোয়ারেন্টাইনের বিষয়টি কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে।

এতে আরো বলা হয়েছিলো, সরকার প্রদত্ত নির্দেশাবলী অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাঠকের মন্তব্য