করোনা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মতলববাজ গোষ্ঠী 

করোনা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মতলববাজ গোষ্ঠী 

করোনা নিয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে একটি মতলববাজ গোষ্ঠী 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি মতলববাজ গোষ্ঠী করোনাভাইরাস নিয়ে অপপ্রচার চালানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, গুজব ছড়ানোর মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার তৎপরতা চলছে। গুজব ঠেকাতে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।

আজ শুক্রবার দুপুরে তাঁর সরকারি বাসভবন থেকে এক ভিডিও বার্তায় এমন নির্দেশনা দেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসন, সেনাবাহিনী, আমাদের নেতা কর্মী, জনপ্রতিনিধি ও দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সামর্থ্য অনুযায়ী সবাই এগিয়ে আসছেন। চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের ওপর দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করছেন।

করোনা প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ৩১ দফা নির্দেশনা পালন করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিশ্ব এক ভয়ংকর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশে দেশে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষ আজ কষ্ট পাচ্ছেন। সরকার সহযোগিতা নিয়ে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। দলের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবানরাও এগিয়ে এসেছেন। এটা অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক দিক।

এদিকে, করোনাবিরোধী সতর্কতা হিসেবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরামর্শ অনুযায়ী আজ শুক্রবার জুমার নামাজে খুতবা সংক্ষিপ্ত করা হয়। মসজিদে মুসল্লিদের সমাগম ছিল খুবই কম। মুসল্লিরা দূরত্ব বজায় রেখে মসজিদে প্রবেশ করেছে।

জাতীয় মসজিদ বাইতুল মোকাররমে আজ সংক্ষিপ্ত আরবি খুতবা বয়ানের পর ফরজ নামাজ শেষ করা হয়। নামাজের পর পরই মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্বের সব দেশকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে এবং ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের আরোগ্য কামনা করে মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন মুফতি মাওলানা এসানুল হক জিলানী।

ওদিকে, গণপরিবহন বন্ধ ও লোকজনদের ঘরে থাকার সরকারী নির্দেশনা উপেক্ষা করে আজ শুক্রবার হঠাৎ করে গণপরিবহন চলতে শুরু করেছে। অণলাইরে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ঢাকা-টাংগাইল মহাসড়কে  দখা গেছে উত্তরাঞ্চল থেকে আসা  ঢাকাগামী বাসের  চলাচল। গড়ে প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে বাস চলতে দেখা গেছে।বাসের ভেতরে ছিল যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। কেউই সামাজিক দূরত্ব মানেননি।

এ সময় যাত্রীদের কাছে করোনা ভাইরাসের বিষয়টি সবাই জানেন কি না এবং সরকার যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে অনুরোধ করেছে, বিষয়টি অবগত আছেন কি না? জানতে চাইলে অনেকেই বলেন, সব জেনেও তাঁরা বাসে যাত্রী হয়েছেন। বাসচালক মামুন মিয়া বলেছেন, ‘কী করুম। এই কয় দিন তো বন্ধই রাখছিলাম। পেট আর চলে না। আমরা গরিব মানুষ। খাওন নাই, খুব কষ্টে পড়ে গাড়ি নিয়্যা বের অইছি।’

বাসটির এক যাত্রী গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত কাটিং মাস্টার সাইফুল ইসলাম বলেন, আগামী রোববার থেকে তাঁদের কারখানা চালু হবে। খবর পেয়ে ২৫০ টাকা ভাড়ায় সিরাজগঞ্জ থেকে রওনা হয়েছেন। অন্য সময় ১০০-১৫০ টাকা ভাড়ায় যেতে পারতেন। তিনি বলেন, ‘ভাইরাসের ভয় তো আছেই। তাও পেটের দায়ে বের হইছি।’

পাঠকের মন্তব্য