পোশাক শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকির দায় কে নেবে ?

পোশাক শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকির দায় কে নেবে ?

পোশাক শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকির দায় কে নেবে ?

করোনা সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ

মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান টিপু : করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আগেই হাজার হাজার মানুষ প্রবেশ করছে ঢাকায়। পরিবহন সেবা বন্ধ থাকায় অনেকেই হেঁটে আসছেন। স্বল্প আয়ের মানুষরা বলছেন, অফিস যখন খোলা তখন কিবা করার আছে তাদের।

সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ। কিন্তু পোশাক কারখানা গুলি খোলা। ফলে শুক্রবারের সাপ্তাহিক ছুটির পরে শনিবারে রাজধানীর রাস্তা, ফেরি সার্ভিসে থিকথিক করছে ভিড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। কারখানামুখী গার্মেন্টস শ্রমিকরা। এই অবস্থায় বাংলাদেশে করোনাভাইরাস কমিউনিটি সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বাড়লো। বাংলাদেশে পোশাক শিল্প সব থেকে বড় কর্মসংস্থানের ভূমিকা নেয়। এই সব কারখানাগুলিতে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য লকডাউনের নিয়মটি কার্যকরী হচ্ছেনা বলেই অভিযোগ।  

আরও অভিযোগ, বাংলাদেশে কার্যত লকডাউন চললেও কেন খোলা পোশাক কারখানাগুলি ? জানা গিয়েছে, সরকারি ছুটি বাড়িয়ে ৪ তারিখ থেকে ৯ তারিখ পর্যন্ত করা হলেও গার্মেন্টস কারখানা সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানার শ্রমিকের জন্য ছুটি বাড়েনি। তাই রবিবার কর্মস্থলে যোগ দিতে হাজার হাজার শ্রমজীবী মানুষ করোনা আতঙ্ক নিয়েই কর্মস্থলে ছুটছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা কর্মের উদ্দেশে বেরিয়েছেন বলে কেউ কেউ জানান। এদিকে শ্রমিকদের ভিড়ের চাপ পড়ে পদ্মা নদীর অন্যতম ফেরি চলাচল ঘাট দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়ার মধ্যে।

প্রতিটা ফেরিতেই উপচে পড়া ভিড়। এছাড়া রাজধানী ঢাকার রাস্তায় বেরিয়েছেন পোশাক শ্রমিক সহ বিভিন্ন কারখানার কর্মীরা। এতেই কমিউনিটি সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ছে। এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক জানাচ্ছে বাংলাদেশে শনিবার পর্যন্ত ৭০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী।

জাতীয় রোগতত্ব বিভাগের পরিচালক সেব্রিনা ফ্লোরা জানান, করোনায় মৃত্যু হয়েছে মোট ৮ জনের। সুস্থ হয়েছেন ৩০ জন। তবে লকডাউন চললেও কী করে পোশাক কারখানা সহ বিভিন্ন ছোট বড় কারখানা খুলে রাখা হয়েছে তার কোনও উত্তর নেই সরকারের কাছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) আগেই জানিয়েছে, করোনা সংক্রমণের প্রবল ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে আগামী ১১ই এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার জন্য সকল কারখানা মালিকদের অনুরোধ জানিয়েছে বিজিএমইএ। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি ড. রুবানা হক শনিবার রাতে এ অনুরোধ জানান। কিন্তু প্রশ্ন হল বিজিএমইএ আগেভাগে কি জানতেন না, ০৫ এপ্রিল ২০২০ পোশাক কারখানাগুলির ছুটি শেষ হচ্ছে শনিবার! 

অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আজ এই শ্রমিকদের স্বাস্থ্যের তথা জীবনের ঝুকির দায় কে নেবে ? গার্মেন্টস কর্মীরা বলছেন, রবিবার কর্মস্থলে উপস্থিত না হলে বেতন না পাবার শংকায় ঢাকামুখি হচ্ছেন। সেটাই তো স্বাভাবিক। কেন, বিজিএমইএ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনাটি আগে করল না প্রশ্ন থেকেই যায় বরং এই নিয়ে বিজিএমইএ'র নেতৃত্ব দক্ষতা যোগ্যতা ও বিচক্ষণতা প্রশ্ন উঠবেই। লাখোলাখো পোশাক শ্রমিকদের করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ঝুঁকিতে ফেললো যারা তাদেরকে কি শাস্তির আওতায় আনা হবে ? হয়তো হবে না। সাধারণ মানুষের জন্য স্বাস্থ্য নিরাপত্তায় সরকার কাজ করছে কিন্তু লাখোলাখো পোশাক শ্রমিকদের প্রতি কি দায় সরকারের নেই !    
  
এজন্য শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকেই বা কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ? বলা হচ্ছে, শ্রমিকদের নিরাপত্তাই সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। সরকার স্বাস্থ্য সচেতনতার ওপর জোর দিচ্ছে কিন্তু এর বাস্তবতা কি ! অপরদিকে অভিযোগ উঠেছে, সরকারের কাছ থেকে ফের প্রণোদনা নেওয়ার কৌশল হিসেবেই সাধারণ ছুটির মধ্যেও গার্মেন্টস কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গার্মেন্টস মালিকরা। বোধগম্য নয়, দিন যতই যাচ্ছে ততই নোবেল করোনা ভাইরাসের ভয়াবহতা তীব্র হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে আনতে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য প্রতিষেধক তৈরি করতে পারেনি। প্রতিষেধক বা পরিত্রাণের পথ হিসেবে বলা হচ্ছে- নিয়মিত হাত ধোয়া,স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, আইসোলেশনে থাকা, ঘরের বাইরে না যাওয়া, জনসমাগম এড়িয়ে চলা। আর এ কারণেই পৃথিবীর প্রায় সবদেশেই চলছে ঘোষিত বা অঘোষিত লকডাউন। 
 
যখন করোনা ভাইরাসের কারণে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে, করোনার প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে যখন মানুষজনকে ঘরে রাখার জন্য সরকার সব ধরনের চেষ্টা করে যাচ্ছে, এমন সময় রাস্তায় শ্রমিকদের ঢল দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা রকম প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তোলপাড় সৃষ্টি হয়, সামাজিক গণমাধ্যমেও। 

পরিশেষে বলবো, কারখানা খুললে সেক্ষেত্রে অবশ্যই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে শ্রমিক ও কর্মকর্তাদের রক্ষা করার জন্য সকল স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে শ্রমিকের সব ধরনের দায়-দায়িত্ব মালিকদের নিতে হবে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ও তাঁর দায় এড়াতে পারে না।  

প্রকাশক ও সম্পাদক : প্রজন্মকন্ঠ 

পাঠকের মন্তব্য