ভিক্ষুকদের চাউল কাদের ঘরে দিলো চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান

ভিক্ষুকদের চাউল কাদের ঘরে দিলো চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান

ভিক্ষুকদের চাউল কাদের ঘরে দিলো চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নে তালিকাভুক্ত ভিক্ষুক ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ত্রানের চাউল অন্যদের মাঝে বিতরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা যায়, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডলের যোগসাজসে কতিপয় মেম্বার তালিকাভুক্ত দুস্থ ও অসহায়দের না দিয়ে অনৈতিক ভাবে তারা নিজ নিজ পছন্দের লোকজনের মাঝে ওই চাউল বিতরণ করেন। পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন জানতে পেরে বিতরণের নামের তালিকা সাথে গ্রহিতাদের নামের কোন প্রকার মিল না পেয়ে চাল বিতরণ বন্ধ করে দেন। 

দৌলতদিয়া ইউ.পি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, করোনা পরিস্থিতিতে সরকারি খাদ্য সহায়তা দিতে দৌলদিয়া ইউনিয়ন এলাকার ভিক্ষুক ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের একটি নামের তালিকা ২ এপ্রিল চুড়ান্ত করা হয় ২৫০ জনের ওই তালিকায় রেস্টুরেন্ট কর্মচারী ১৭১ জন ও ভিক্ষুক ৭৯ জন। এই নামের তালিকা স্লিপ আকারে করে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল কর্তৃক তা বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বারদের কাছে দেয়া হয়। পূর্ব ঘোষনা অনুযায়ী গত রবিবার সন্ধ্যায় দৌলতদিয়া ইউনিয়নের হেলিপ্যাড এলাকায় তালিকাভুক্ত ২৫০ জন ভিক্ষুক ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের মাঝে সরকারি ত্রানের চাউল বিতরণ চলছিল। 

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপুস্থিতিতে ত্রান গ্রহিতাদের কাছ থেকে স্লিপ নিয়ে প্রতি জনকে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করছিলেন চেয়ারম্যান সহ ওয়ার্ড মেম্বারা। তখন তালিকাভুক্ত ভিক্ষুক ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের তেমন দেখতে না পেয়ে স্থানীয় অনেকের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তৎক্ষনাত উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পান, ভিক্ষুক ও রেস্টুরেন্ট কর্মরাচীদের নামের তালিকার সাথে অনেক ত্রান গ্রহিতার নামের কোন মিল নেই। এ বিষয়টি তার নজরে আসার পর সঙ্গে সঙ্গে তিনি সেখানে বাকি চাউল বিতরণ কাজ বন্ধ করেন। দৌলতদিয়া ইউপি’র একজন মেম্বার ও বাসিন্দা নাম প্রকাশ না শর্তে বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডলের যোগসাজসে কতিপয় মেম্বার তালিকাভূক্ত দুস্থদের না দিয়ে নিজ নিজ পছন্দের লোকজনের সরকারি বরাদ্দকৃত ্ওই চাউল বিতরণ করেন। এর ফলে তালিকভূক্ত অনেক ভিক্ষুক ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারী এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। 

এদিকে রবিবার সন্ধ্যায় ২৫০ জনের মধ্যে ১৮১ জনকে চাল বিতরণ করার পর ওই অনিয়ম ধরা পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিতরণ বন্ধ করে দিয়ে বাকি চাউল (৬৯০ কেজি) প্রত্যাহার করে নিয়ে গেছেন। 

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, দৌলতদিয়া ইউনিয়নের তালিকাভূক্ত ভিক্ষুক ও রেস্টুরেন্ট কর্মচারীদের মধ্যে যারা সরকারি এই ত্রান কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হয়েছেন দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাদের সকলের ঘরে এই সহায়তা পৌছে দেয়া হবে। সেই সাথে যারা এই অনিয়মের সাথে জড়িত তাদের সঠিক তদন্তপূর্বক কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। অভিযোগ অস্বীকার করে দৌলতদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান মন্ডল বলেন, তালিকার বাইরে কাউকে চাউল দেয়া হয়নি। তালিকাভূক্ত যারা অনুপস্থিত ছিলেন, তাদেরকে ওই দিন চাউল সহায়তা দেয়া সম্ভব হয়নি।

পাঠকের মন্তব্য