করনায় স্বাস্থ্যবিধি উধাও : গাইবান্ধায় ১০ টাকায় চাল কিনতে ভিড়

করনায় স্বাস্থ্যবিধি উধাও : গাইবান্ধায় ১০ টাকায় চাল কিনতে ভিড়

করনায় স্বাস্থ্যবিধি উধাও : গাইবান্ধায় ১০ টাকায় চাল কিনতে ভিড়

বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে দেশের দুস্থ, অসহায় ও খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ১০ টাকা কেজি দরে খোলা বাজারে (ওএমএস) চাল বিক্রি শুরু করেছে সরকার।

গত রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে গাইবান্ধা পৌরসভার ৫টি পয়েন্টে এ চাল বিক্রি শুরু হয়েছে। এসব বিক্রয় পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ টাকা দরে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি করে চাল কিনতে পারছেন। জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ফটোকপি জমা দিয়ে তারা চাল এবং ১৮ টাকা দরে আটা নিচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) নির্ধারিত সময়ের আগেই গাইবান্ধা পৌর এলাকার জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ডেভিড কোম্পানি পাড়ায় উত্তরপাড়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গাইবান্ধা সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসসহ সবকটি বিক্রয় পয়েন্টে ১০ টাকা দরে চাল নিতে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। বর্তমানে দেশের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে এ কার্যক্রম চলার কথা থাকলেও লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলো সেটি মানছেন না। গা ঘেঁষে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ১০ টাকা দরে চাল নিচ্ছেন অসহায় মানুষগুলো। একাধিকবার নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রাখার কথা প্রশাসন থেকে বলা হলেও কেউ তা মানছেন না। কে আগে চাউল নেবে সেটি তাদের মূল লক্ষ্য ছিল।

এ ব্যাপারে জুবলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্য বলেন, আমরা শত চেষ্টা করেও সঠিকভাবে জনগণকে দূরত্ব বজায় রেখে লাইনে দাঁড় করাতে পারছি না। শত বুঝানোর পরও তারা গা ঘেঁষে দাঁড়াচ্ছেন।

এদিকে, সকাল ১০টায় গাইবান্ধা সরকারি কলেজ মাঠে এ কার্যক্রমের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ৪ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মাহাবুব মোরশেদ খুশুর তৎপরতা দেখা যায়। এসময় তার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

একটি পরিবারের একজনই ৫ কেজি চাল নিতে পারবেন। তবে সেটি অনেকেই মানছেন না। একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল নিতে দেখা গেছে। এ ব্যাপারে ডেভিড কোম্পানি পাড়ায় থাকা সোলেমান জানান, পরিবারের সদস্য সংখ্যা অনেক ৫ কেজি চাল একদিনেই লাগে। তাই চাল নিতে একাধিক সদস্য দাঁড়িয়েছি। 

গত ২৬ মার্চ থেকে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। এ সময়ে অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। শহর এলাকায় বাণিজ্যিক কর্মকান্ড প্রায় বন্ধ রয়েছে। এতে সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়েছেন শহরে বসবাসরত খেটে খাওয়া দরিদ্র জনগোষ্ঠী হকার, রিকশা-ভ্যানচালক, দিনমজুর, পরিবহণ শ্রমিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ। যারা এ পরিস্থিতিতে শহরে রয়েছেন তাদের এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে সরকারের মূল উদ্দেশ্য বলে জানা গেছে।

পাঠকের মন্তব্য