একটি যুদ্ধের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্ব 

একটি যুদ্ধের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্ব 

একটি যুদ্ধের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে সারা বিশ্ব 

গোলাম সারোয়ার, উপ-সম্পাদকীয় : পৃথিবীর সব সড়ক আজ বিরাণ পড়ে আছে। সব কারখানা অন্ধকারে ছেড়ে গেছে। সব যানবাহন পড়ে আছে অনাদরে। পৃথিবী মানুষের অনেক ভার বহেছে, অনেক পাপও সহেছে। এবার যেন তা বিশ্রামে গেছে। কোন উৎপাদন নেই, ঘুরছেনা পৃথিবীর কোন যন্ত্রের কোন চাকা। এ এক বিস্ময়কর সময়। 

মানব সভ্যতা এর আগেও বহুবার মহামারী অতিক্রম করে এসেছে। কিন্তু কখনো এভাবে সমস্ত সভ্যতার চাকা একসাথে বন্ধ হয়ে যায়নি! পৃথিবীতে সংক্রামক রোগের ইতিহাস বড়ো দীর্ঘ। বলা যায় আমরা যে সময় থেকে লিখিত ইতিহাস পাচ্ছি সে সময় থেকে সংক্রামক রোগের ইতিহাস আছে। ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, কুষ্ঠ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, গুটিবসন্ত প্রভৃতি মহামারী কালে কালে মানবসভ্যতাকে আক্রমণ করেছে। মানুষ মরেছে বারবার, কিন্তু হারেনি একবারও। সত্য হলো, মানুষ এবারো হারবেনা। 

আজ থেকে প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে পেলোপনেসিয়ান যুদ্ধের সময় লিবিয়া, ইথিওপিয়া, মিসর ও প্রাচীন গ্রিসের রাজধানী এথেন্সে একটি মহামারী ছড়িয়ে পড়ে। সে রোগে ওসব অঞ্চলের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে জানা গেলো ওটি ছিলো স্ট্রং টাইফয়েডের মতো একটি রোগ। ৫৪১ সালের দিকে ভূমধ্যসাগরের তীরের দেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে প্লেগ। ঐ রোগ পৃথিবীতে টিকে থাকে প্রায় দু’শ বছর। তা প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবন কেডে নেয়, যা ছিলো তখনকার পৃথিবীর প্রায় চার ভাগের একভাগ মানুষ। 

একাদশ শতাব্দীতে দুনিয়াতে আসে কুষ্ঠ, যা গিলে খায় প্রায় পুরো ইউরোপ। ১৩৫০ সালের দিকে বুবোনিক প্লেগ সমস্ত দুনিয়ার তিন ভাগের একভাগ মানুষের জীবন নেয়। ১৮১৭ সালে দুনিয়াতে আসে কলেরা। প্রথম হিটেই তা খায় বাইশ তেইশ লাখ মানুষ। পরবর্তী আরো দেড়শ বছর তা তাণ্ডব চালায়। ১৮৫৫ সালে দুনিয়াতে আবারো ছড়িয়ে পড়ে প্লেগ, তা জীবন নেয় প্রায় দেড় কোটি আদম সন্তানের। ১৯১৮ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে দুনিয়াতে আসে স্প্যানিশ ফ্লু, যা কেড়ে নেয় প্রায় পাঁচ কোটি মানুষের জীবন। 

পৃথিবীর সব মহামারী যে প্রকৃতির খেয়ালে হয়েছে তা নয়। মানুষ সেই প্রাচীনকাল থেকে দলগতভাবে হলো জাতীয়তাবাদী। এক দলের লোক আরেক দলকে বিশ্বাসে নেয়না। মানুষ শিকারী জীবনে, কৃষিজীবনে ভিন্ন অঞ্চলের অচেনা আরেক গোষ্ঠীর লোক দেখলে রুখে দাঁড়াতো। কারণে সে তার খাবার কেড়ে নিবে, সম্পদ কেডে নিবে। সে জন্যে তারা হাতিয়ার বানাতো। যার যতো বুদ্ধি তার ততো ধ্বংসাত্মক হাতিয়ার। যেহেতু বেশিরভাগ হাতিয়ার তখন প্রাকৃতিক, তাই তারা অস্ত্রও সংগ্রহ করতে হতো প্রকৃতি থেকে। ধারণা করা হয়, প্রথম থেকেই পোষ মানানো হিংস্র জীবদের প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে তারা ব্যবহার করতে চেষ্টা করতো। পরবর্তীতে যখন তাদের জ্ঞান বাড়তে থাকে, তারা ধীরে ধীরে অনুজীবের শক্তিকেও ব্যবহার করতে চেষ্টা করে। সে চেষ্টা থেকে মানুষ কখনো বিরত হয়নি। আজো পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় হয় মানুষ মারার গবেষণার কাজে। সে গবেষণা আনবিক বোমা থেকে অনুজীব পর্যন্ত। 

মানুষের ইতিহাসে জীবাণু অস্ত্র ব্যবহার করে সভ্যতার পর সভ্যতা, জাতির পর জাতি, এমনকি মহাদেশের পর মহাদেশ বিরাণ করে দেওয়ারও ইতাহাস আছে। ১৪৯২ সালে ইতালির নাবিক কলম্বাস স্পেনের রাণী ইসাবেলার অর্থে আমেরিকা আবিস্কার করে। আজকের আমেরিকা মানে হলো প্রাচীন মায়া, ইনকা ও অ্যাজটেক সভ্যতা। প্রাচীন বহু জাতির বসবাস ছিলো আজকের যেটা উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ, সেখানে। কলম্বাসের আবিস্কারের সময় সেসব অঞ্চলে মানুষ ছিলো প্রায় ১০০ মিলিয়ন। ইউরোপীয়রা তাদের ভূমি দখল করতে যুদ্ধ করে যখন তাদের নিশ্চিহ্ন করতে সময় লাগছিলো, তখন তাদের মাঝে ছড়িয়ে দেয় ইনফ্লূয়েঞ্জার জীবাণু। দুটি মহাদেশের কোটি কোটি মানুষ মারা যায় কয়েক বছরের ভিতরে। ইউরোপীয়রা যাদের বলে রেড ইন্ডিয়ান, তারাই মূলত সেই আমেরিকান আদিবাসী। তারা এখন সংখ্যালঘু হয়ে বেঁচে আছেন। 

যাই হোক, সেসময়ের পৃথিবী আর আজকের পৃথিবীতে ব্যাপক তফাৎ। আজকের পৃথিবীকে বলা হয়, গ্লোবাল ভিলেজ বা এক গ্রাম। মানে এখন একজনের একটি ছোঁয়াচে রোগ হলে তা একমাসের ভিতরে সমগ্র পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে, এবং সেটাই হচ্ছে। সে কারণেই সমস্ত পৃথিবী আজ থেমে গেছে। কিন্তু আসলেই কি করোনাভাইরাস সমস্ত পৃথিবীকে আক্রমণ করেছে ? আমরা একটু মিলিয়ে দেখি!

আমরা দেখছি, গত ডিসেম্বরে চীনের উহানে ধরা পড়ার পর আজ পর্যন্ত (৯ এপ্রিল, ২০২০) সমস্ত বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মোট মানুষ মারা গেছেন ৮৮,৬৫৬ জন। তার ভিতরে বিশ্বের কর্তৃত্ব নিয়ে রাজনীতি করে, এমন ১৬টি দেশের মৃত্যুর সংখ্যা হলো ৮২,৪২৮ জন। আর বাকী সমস্ত বিশ্বের মৃত্যু সংখ্যা হলো ৬,২২৮ জন। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা হলো ১৫,২১,৯২৪ জন। তার ভিতরে ঐ ১৬টি নেতা দেশের আক্রান্ত রোগী হলো ১৩,২৩,৮৭৫ জন। বাকী ১,৯৮,০৪৯ জন বাকী সমস্ত বিশ্বের। এই বাকীদের ভিতরেও ঐসব দেশের সাপোর্টারদেরই মৃত্যু বেশি। 
 
সে দেশগুলো হলো- যুক্তরাষ্ট্র, যাদের আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪,৩৫,১৬০ জন, মৃত্যু ১৪,৭৯৭ জন। স্পেনের আক্রান্ত ১,৪৮,২২০ জন আর মৃত্যু হয়েছে ১৪,৭৯২ জন। ইতালির আক্রান্ত হয়েছে ১,৩৯,৪২২ জন আর মৃত্যু হয়েছে ১৭,৬৬৯ জন। জার্মানীতে আক্রান্ত হয়েছে ১,১৩,২৯৬ জন আর মৃত্যুবরণ করেছে ২,৩৪৯ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছে ১,১২,৯৫০ জন আর মৃত্যু হয়েছে ১০,৮৬৯ জন। চীনে আক্রান্ত হয়েছে ৮১,৮৬৫ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৩,৩৩৫ জন। ইরানে আক্রান্ত হয়েছে ৬৪,৫৮৬ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৩,৩৯৩ জন। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত হয়েছে ৬০,৭৩৩ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৭,০৯৭ জন। তুরস্কে আক্রান্ত হয়েছে ৩৮,২২৬ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৮১২ জন। বেলজিয়ামে আক্রান্ত হয়েছে ২৩,৪০৩ জন আর মৃত্যু হয়েছে ২,২৪০ জন। সুইজারল্যান্ডে আক্রান্ত হয়েছে ২৩,২৮০ জন আর মৃত্যু হয়েছে ৮৯৫ জন। নেদারল্যান্ডে আক্রান্ত হয়েছে ২০,৫৪৯ জন আর মৃত্যু হয়েছে ২,২৪৮ জন। পর্তুগালে আক্রান্ত হয়েছে ১৩,১৪১ আর মৃত্যু হয়েছে ৩৮০ জন। অস্টিয়াতে আক্রান্ত হয়েছে ১৩,০১১ জন আর মৃত্যু বরণ করেছে ২৯৫ জন। কানাডাতে আক্রান্ত হয়েছে ১৯,৪৩৮ আর মারা গেছেন ৪৩৫ জন। ব্রাজিলে আক্রান্ত হয়েছে ১৬,১৯৫ আর মারা গেছেন ৮২২ জন।

আরো লক্ষ্য করার বিষয় হলো, গতকাল সারা দুনিয়াতে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্টরোগে মানুষ মারা গেছে ৬,৪১৪ জন। তার ভিতরে আমেরিকার এবং ইউরোপের ১২টি দেশ মিলে মারা গেছেন ৫,৬৫৮ জন। আর বাকী সমস্ত বিশ্বের মিলে মারা গেছেন ৭৫৬ জন ! লক্ষ্য করার বিষয় হলো, ইউরোপের বাকী ৩৬টি দেশের মিলে মারা গেছেন ১৪৩ জন যার ভিতরে ১৪টি দেশে একজনও মারা যায়নি, যারা বিশ্ব রাজনীতিতে তেমন মাথা ঘামান না। অথচ গতকাল শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গেছেন ১,৯৪০ জন মানুষ !

আমরা জানি, প্রায় সমস্ত ইউরোপের পরিবেশ, প্রতিবেশ, আবহাওয়া ও জলবায়ু একরকম। কিন্তু শুধু অর্থনৈতিকভাবে যারা শক্তিশালী এবং যারা বিশ্ব নেতৃত্ব দেন, আরো নির্দিষ্ট করে বললে, যারা ন্যাটোর মাধ্যমে বৈশ্বিক রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করেন, তারা আজ বিপদগ্রস্ত। আমরা দেখেছি প্রথমে মারা গেছে সমাজতান্ত্রিক ব্লকের কিছু মানুষ। এখন মারা যাচ্ছে পুঁজিবাদি ব্যবস্থার পক্ষের একটিভ রাষ্ট্রগুলোর মানুষ। 

বৈশ্বিক বাজারে অনেক ষড়যন্ত্র তত্ত্ব চালু আছে। কেউ বলছেন, এই ভাইরাস আমেরিকা তৈরি করে চীনে ছেড়েছে। কেউ বলছে, এটি চীনের তৈরি যা তারা ইউরোপ-আমেরিকা থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নেওয়ার জন্যে, ডলারের নেতৃত্ব খর্ব করার জন্যে। কেউ বলছেন, এটি চীনের বন্যপ্রাণীর বাজার থেকে ছড়িয়েছে। কেউ বলছেন, এটি চীনের জীবাণু অস্ত্রের গবেষণাগার থেকে লিক হয়ে বের হয়ে পড়েছে। আবার এও ভয় আছে, সেই প্রাচীন রেড ইন্ডিয়ানরা যারা কানাডা, আমেরিকা, ইউরোপ ও চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন গবেষণাগারে নিরবে কাজ করছেন তারা তাদের সেই প্রাচীন জাতি হত্যার প্রতিশোধ নিতে চীনের সাথে কাজও করতে পারেন। অভিযোগ ওর আছে, কিছু আমেরিকান আর কানাডীয় গবেষক চীনের উহান প্রদেশের সেই গবেষণাগারে কাজ করতো। আমরা এও দেখতে পাই, বর্তমানে তাণ্ডব যাচ্ছে সেসব দেশে, যারা সেই প্রাচীন আমেরিকান আদিবাসীদের হত্যা করেছিলো; সেই ইংল্যাণ্ড, সেই স্প্যানিশ, সেই ইতালিয়ান, সেই ফ্রেন্স ! 

যা কিছুই হোকনা কেন, বিশ্বের নেতৃত্বের কিন্তু ব্যাপক পরিবর্তন হয়ে গেছে। ক্ষমতার বলয় কিন্তু চেঞ্জ হয়ে গেছে। আগের পৃথিবীতে কোন রাষ্ট্রের বিপদে এগিয়ে আসতো ইউরোপ-আমেরিকা, এখন আসছে চীন। আগে আমেরিকা পণ্য তৈরি করতোনা, তারা শুধু ডলার চাপাতো। পণ্য তৈরি করতো এশিয়া ও আফ্রিকা, বিশেষ করে চীন। আমেরিকা ডলারের শক্তিতে বিশ্ব শাসন করতো যেহেতু বিশ্ব ছিলো এককেন্দ্রিক। এখন কিন্তু তা আর হওয়ার সুযোগ নেই। আগে আমেরিকা নিষেধাজ্ঞা দিলে পুরো বিশ্বের কেউ ইরানের কাছে পণ্য বিক্রি করতো না। এখন ইউরোপের বহুদেশ সে দেশে পণ্য পাঠাচ্ছে। 

এই হিসাব থেকে আমরা কি শিখলাম ! আমরা লক্ষ্য করেছি, ৭৮০ কোটি মানুষের বিশ্বের মাত্র বার থেকে ষোলটি দেশেই ভাইরাসটির চরম তাণ্ডব চলছে। এটি এশিয়া, আফ্রিকা এমনকি চীনের সীমান্তের চৌদ্দটি দেশকে এক রকম রেহাই দিয়েছে। আমাদের সহ পৃথিবীর প্রায় দু’শ দেশে যা হচ্ছে তা হলো সাইড ইফেক্ট। মানে দুইগ্রুপ মানুষ মারামারী করলে আশেপাশের জনপদের মানুষেরও কিছু ক্ষতি হয়। সে ক্ষতিগ্রস্তরা কিন্তু কোন পক্ষের নয়। তাদের কেউ ভাগ্যের কারণে ক্রসে পড়ে যাবেন, কেউ ক্রসে পড়ে যাবেন অসচেতনতার কারণে। ঠিক এই গ্যাপটিই আমাদের ধরতে হবে। হ্যা, একটু সচেতন হলেই এই সংকট থেকে আমরা বেঁচে যেতে পারি। আমাদের শুধু ভয় হলো, ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়িয়ে পড়ার ভয়। 
আমাদের ইতোমধ্যে কিছু রোগী ধরাও পড়েছে। আমরা নিশ্চিত, টেস্টের পরিমাণ বাড়তে আমাদের রোগী আরো বাড়বে। তবে ভয় পেলে চলবেনা। ভয় নয় বরং সচেতন হতে হবে। লকডাউনের নিয়মনীতি মানতে হবে। মনে রাখতে হবে, যে উহানে এটি প্রথম ধরা পড়ে, সেখানেও সব মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়নি, হয়েছে মাত্র শতকরা তিন ভাগ লোক। মানে প্রতি একশ জনে তিন জন! এর থেকে আমরা আশ্বস্ত হতে পারি, হয় ষড়যন্ত্র থিউরি সত্য যাতে করে তারা সচেতন ছিলো, তাই তাদের বেশিলোক আক্রান্ত হয়নি। কিংবা এই ভাইরাসের আসলেই পৃথিবীর সমস্ত মানুষের মাঝে ছড়ানোর নেচার নেই। 

যদি ষডযন্ত্র থিউরি সত্য হয়, তবে আমাদের ভয় নেই। কারণ আমরা ওয়ারজোনে নেই। আর যদি তা সত্য নাও হয় তবেও আমাদের ভয় নেই। কারণ তা সমস্ত মানুষের মাঝে ছড়িয়ে পড়বেনা, কারণ তা খোদ উহানেও সবার মাঝে ছড়ায় নি। ইতালিতেও কমে এসেছে, কানাডাতেও কমে এসেছে, চীনেতো প্রায় জিরোর কাছাকাছি। 

আমাদের আশাবাদ হলো, আমাদের এখানে মৃত্যুর হার কম। চীনের সাথে আমাদের ডিসেম্বর থেকে বেপরোয়া যোগাযোগ থাকার পরেও আমাদের এখানো রোগীর সংখ্যা ব্যাপক নয়, মৃত্যুর সংখ্যাও ন্যূনতম। হ্যা, জানুয়ারী ফেব্রূয়ারীতেও চীনে আমাদের বহুলোক গিয়েছে-এসেছে ইমপোটের কারণে। চীনের বহু লোকও এখানে হরহামেশা কাজ করতে এসেছে, চলাফেরা করেছে মিশেছে, কারণ তাঁদের প্রকৌশলে এবং অর্থায়নে আমাদের দেশে অনেক প্রকল্প চলমান। আমরা এয়ারপোট লকডাউন করতেও দেরি করেছি, গার্মেন্টস শ্রমিকদেরও সময় মতো নিরাপদে সরায়নি। 

আবার বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ লকডাউন সময় মতো মানেননি। তবুও আমাদের এখানে এখনো সে রকমের প্রাণহানি নেই। কিছু হচ্ছে তবে তা ব্যাপক নয়। ব্যাপক হলে তা মিডিয়া এবং সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে আসতো। সব খবর রোধ করার সুযোগ এখন কোন রাষ্ট্রের হাতেই নেই। এত অবহেলা এবং ভুলের পরেও আমাদের এখনো প্রাণহানি বেশুমার নয়, অন্তত ইউরোপ আমেরিকার তুলনায় তা ন্যূনতম। এটাই হলো আমাদের আশার টানেলের শেষ লাইট। 

তবে আমাদের আর অবহেলার সুযোগ নেই। একটি মানুষ অকালে মারা গেলেও তা বহু কষ্টের। তাই আমাদের এবার সম্পূর্ণ সচেতন হতে হবে। না হলে আমাদেরও ভয় আছে। কারণ, ঐ যে পুরো বিশ্ব হলো এখন একটি গ্রাম। মানুষ এখন আরো অনেক বেশি কাছাকাছি। কিন্তু কাছাকাছি থাকা এখন যাবেনা। এখন হলো বিচ্ছিন্নতার সময়, সামাজিকভাবে এখন বিচ্ছিন্ন থাকতে হবে, ঘরে থাকতে হবে এবং নিরাপদে থাকতে হবে। না হলে বিপদের মাঠে না থেকেও আমরা বিপদে পড়ে যেতে পারি। 

লেখক : গোলাম সারোয়ার, গবেষক ও কলামিস্ট। 

পাঠকের মন্তব্য