২০ এপ্রিলের মধ্যে সব পোশাক শ্রমিকদের বেতন দেয়া হবে

২০ এপ্রিলের মধ্যে সব পোশাক শ্রমিকদের বেতন দেয়া হবে

২০ এপ্রিলের মধ্যে সব পোশাক শ্রমিকদের বেতন দেয়া হবে

আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে সব পোশাক শ্রমিকদের বেতন দেয়া হবে, কোনো শ্রমিক বেতনবঞ্চিত থাকবে না বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

একই সঙ্গে সংগঠনটি বলছে, তারা যে কোনো ধরনের বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে। যেসব কারখানা শ্রম আইন অনুযায়ী লে-অফ ঘোষণা করেছে অথবা করবে, তাদের শ্রমিকের লে-অফের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

সাংবাদিকদের বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক বলেন, বুধবার পর্যন্ত বিজিএমইএর সদস্যভুক্ত কারখানার ২৪ লাখ ৭২ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ১৯ লাখ ১৯ হাজার ৬০০ শ্রমিকের বেতন দেয়া হয়েছে, যা শতকরা ৭৮ ভাগের কাছাকাছি। বৃহস্পতিবারের মধ্যে ৮০ ভাগের বেতন হয়ে যাবে আশা করছি। বাকি যারা থাকবেন তাদের বেতন আগামী ২০ এপ্রিলের মধ্যে দেয়ার চেষ্টা করব। ছোট-মাঝারিদের কিছু সমস্যা আছে, তাদের বেতন দিতে দেরি হতে পারে। যদি তাদের সমস্যা হয়, তাহলে সাহায্য করা হবে।

তিনি আরও বলেন, একজন শ্রমিকও মার্চ মাসের বেতন ছাড়া থাকবে না। এটা নিশ্চিত করে বলতে পারি। এখনো অনেক শ্রমিককে নগদে বেতন দেয়া হয়। বেতনে বিলম্বের কারণ সম্পর্কে বলেন, রাস্তায় গণপরিবহনে সংকট রয়েছে। সীমিত সময়ের জন্য ব্যাংক খোলা থাকছে। তাতে প্রবেশেও প্রতিবন্ধকতা আছে। তাই নগদ টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। আগামী মাস থেকে শ্রমিকদের বেতন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে দেয়া হবে।

গত ২ দিনের শ্রমিক অসন্তোষ সম্পর্কে ড. রুবানা হক বলেন, শ্রমিক তো শ্রমিকই। যখন তারা রাস্তায় নামছেন তখন দেখা হয় না, এরা কি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ নাকি দর্জি সমিতির সদস্যভুক্ত কারখানায় কাজ করে। বিকেএমইএ-বিজিএমইএর সদস্য নয়, এমন কারখানার শ্রমিকরাও রাস্তায় নেমেছেন। তারপরও দায়বদ্ধতা থেকে আমরা প্রত্যেক কারখানাকে সাহায্য করার চেষ্টা করছি, ব্যাংকে কথা বলছি। এ ধরনের কারখানার তালিকা করে ব্যাংকে কথা বলার চেষ্টা করেছি।

তিনি আরও বলেন, মার্চের শেষ ১৫ দিন রফতানি হয়নি। মালিকরা ব্যাংকে এক্সপোর্ট ডকুমেন্ট জমা দিতে পারেনি। তারপরও শ্রমিকদের বেতন দিতে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির দায় রয়েছে। ৬ মাস সময় দেয়া হলেও এগুলো মালিকদেরই পরিশোধ করতে হবে। এ অবস্থায় সবাইকে ভেবে দেখতে হবে শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে। একই সঙ্গে শিল্প কারখানা টেকাতে না পারলে এতগুলো শ্রমিকের বেতন কে দেবে?

ড. রুবানা হক বলেন, শ্রমিকদের মার্চ মাসের বেতন মালিকদের অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া হচ্ছে। সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ সার্ভিস চার্জের দেয়া ঋণের জন্য মালিকরা এখনো ব্যাংকে আবেদন করতে পারেনি। ২০ এপ্রিলের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক আবেদন করতে বলেছিল। কিন্তু আমরা সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি।

এদিকে ৩টি শ্রমিক সংগঠনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে গত ১৪ এপ্রিল বিজিএমইএর পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিজিএমইএ যে কোনো ধরনের বেআইনি শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে যেসব কারখানা শ্রম আইন অনুযায়ী লে-অফ ঘোষণা করেছে অথবা করবে, তাদের শ্রমিকের লে-অফের ক্ষতিপূরণ দিতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে আইন বহির্ভূত কোনো আবদার গ্রহণযোগ্য নয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, যতদিন পর্যন্ত করোনা প্রাদুর্ভাব থাকবে এবং শিল্পের উৎপাদন বন্ধ থাকবে, ততদিন পর্যন্ত শ্রম আইন অনুযায়ী কারখানা লে-অফ বা পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা যাবে না। পাশাপাশি এপ্রিলের মজুরি শ্রমিকের ব্যাংক হিসাবে সরকার নির্ধারিত সময়ে দেয়া হবে। একইভাবে মে ও জুন মাসের দেয়া হবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশন (বিজিআইডিব্লিউএফ), বাংলাদেশ মুক্ত গার্মেন্ট শ্রমিক ইউনিয়ন ফেডারেশন (বিআইজিইউএফ) এবং বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার্স সলিডারিটি (বিসিডব্লিউএস) নামের ৩টি সংগঠন দাবি করে, ঢাকা, আশুলিয়া, সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় প্রায় ১০ হাজার শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য