চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার

চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার

করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বিপর্যয়ে চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার- এ মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

রাজধানীর মহাখালীতে বৃহস্পতিবার সকালে দুঃস্থ ও কর্মহীনদের মাঝে বনানী থানা ছাত্রদলের উদ্যোগে খাদ্যসামগ্রী বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

রিজভী বলেন, “আজকে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের চিকিৎসা করার জন্য ডাক্তারদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি সরকার। ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম বা পিপিই দিতে পারছে না। কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে ডাক্তার ও নার্সদের খাবার দেওয়া হচ্ছে না। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা হচ্ছে না। ভালো হোটেলগুলোতে থাকার ব্যবস্থা করতে আমরা আহ্বান জানিয়েছিলাম সেটিও করছে না সরকার। আজকে অনেক বাড়িওয়ালা ভাড়াটিয়া ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীকে বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বলছে। কত কষ্টের মাঝেও তারা চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে। সেবা করতে গিয়ে গতকাল ডা. মঈন উদ্দিন তিনি তার জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।”

সমন্বিতভাবে জাতীয় উদ্যোগ না নেওয়ায় সরকারের সমালোচনা করে বলেন, “আজকে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সরকারের উচিত ছিল সমন্বিতভাবে জাতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা। কিন্তু জাতীয় উদ্যোগ নেওয়া তো দূরের কথা বিএনপি বা এর বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল যেখানেই সাধ্যমত সাধারণ গরীব মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে যাচ্ছে সেখানেই পুলিশ লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতার করা হচ্ছে।”

আরও বলেন, “রাজশাহীতে ছাত্রদলের নেতা মালেককে গ্রেফতার করেছে ত্রাণ বিতরণের জন্য। আসলে জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয় বলেই ক্ষমতাসীন সরকার দুঃসময়ের মধ্যেই দুঃশাসন জারি রেখেছে। এটাই কি জনগণের পাশে দাঁড়ানো? তবে বিএনপি শত জুলুম নির্যাতনের মাঝেও সাধারণ অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে মন্তব্য করেন রিজভী।”

রিজভী বলেন, “অথচ মেলান্দহ উপজেলার এক আওয়ামী লীগের নেতার বাড়িতে ৫০০ বস্তা চাল পাওয়া গেছে। আর অনেক নেতার বাড়িতে ত্রাণের আত্মসাতের চাল ধরা পড়ছে প্রতিনিয়ত। কই তাদের বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আজকে গোটা দেশে বিপর্যয়ের মুখেও আওয়ামী লীগের লুটপাট থামছে না। তাহলে এসব কি সরকারের সমন্বিত উদ্যোগের নমুনা! এটা কি জাতীয় ঐক্যের লক্ষণ? একদিকে বিরোধী দলের ওপর হামলা মামলা অব্যাহত রেখেছে অন্যদিকে নিজেদের লোকদের চুরি আর লুটপাট করতে সহযোগিতা করছে সরকার।”

ওই সময় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকনসহ বনানী থানা ও তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পাঠকের মন্তব্য