রাঙ্গাবালীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় আ'লীগ নেতার হুমকি

রাঙ্গাবালীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় আ'লীগ নেতার হুমকি

রাঙ্গাবালীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় আ'লীগ নেতার হুমকি

ধর্ষণের বিচার চেয়ে আওয়ামী লীগ নেতার অবিচারের শিকার এক স্কুল ছাত্রী। বিচারতো দূরের কথা, অভিযুক্তকে বাঁচাতে পাঁচ মাসের অন্ত:সত্তা
ছাত্রীকে অবৈধ গর্ভপাত করানো হয়েছে। বাড়াবাড়ি না করতে পরিবারকে দেওয়া হয়েছে মানসিক চাপ এবং ঘরছাড়া করার হুমকি। 

ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৌডুবি ইউনিয়নের মাতবরকান্দা গ্রামে। অভিযোগ রয়েছে, মৌডুবি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম ওরফে টুকু মিয়া ধর্ষণের এ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে নানা প্রচেষ্টা করেছেন। কিন্তু টুকু প্রভাবশালী  নেতা হওয়ায় তার কথার বাহিরে যেতে পারেনি ধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রীর পরিবার।
 
অবশেষে রাঙ্গাবালী থানায় সেই আওয়ামী লীগ নেতা টুকু মিয়া (৫৮) সহ পাঁচজনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে ধর্ষণের শিকার স্কুলছাত্রীর বিচারপ্রার্থী মা বাদী হয়ে মামলাটি করেন।  মামলার অপর আসামিরা হলো-কামরুল হাওলাদার (২২), মোসা: কাজল বেগম (৪০), নুপুর বেগম (২০) ও খুকু বেগম (৩২)। তাদের সকলের বাড়ি মৌডুবির বাইলাবুনিয়া ও মাতবরকান্দা গ্রামে। 

মামলার অভিযোগে বাদী উল্লেখ করেন, তার মেয়ে মৌডুবি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্রী। স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় আসামি কামরুল হাওলাদার তার মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দিতো। একপর্যায় বিয়ের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয় আসামি। 

ঘটনার দিন (গতবছরের ২১ ফেব্রুয়ারি) মিথ্যা কথা বলে তার মেয়েকে অপর আসামি কাজল বেগমের ঘরে ডেকে নেয় কামরুল। একপর্যায় কামরুল তার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। বাদী অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন, ঘটনার পর মেয়ের সঙ্গে এমন অন্যায়ের বিচার দাবি করে আসামি টুকু মিয়ার কাছে। কিন্তু টুকু মিয়া বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করে। এ সুযোগে কামরুল তার মেয়েকে 
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ করে। 

একপর্যায় তার মেয়ে অন্ত:সত্তা হয়ে পড়ে। পরে টুকুর প্ররোচণায় আসামিরা একত্রিত হয়ে কামরুলের সঙ্গে নুপুরের বিয়ে দেয়। এদিকে পাঁচ মাসের অন্ত:সত্তা হওয়ায় শারীরিক পরিবর্তন হলে কাজল, নুপুর ও খুকু তার মেয়েকে টুকুর ফার্মেসিতে নিয়ে যায়। পরে ভিটামিন ঔষধের কথা বলে টুকু তার মেয়েকে এমএম কিট নামক ঔষধ সেবন করিয়ে গর্ভপাত করায়। এতে তার মেয়ে শারীরিক অসুস্থ হয়ে পরলে কলাপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাতদিন চিকিৎসার পর সুস্থ্য হয়। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে যাতে তিনি বাড়াবাড়ি না করেন, এজন্য তার পরিবারের লোকজকে মানসিক চাপ দেয়। কথা না শুনলে ঘরছাড়া করার হুমকিও দেয়।
   

পাঠকের মন্তব্য