মানুষ সচেতন না হলে করোনা থেকে মুক্তি মিলবে না 

মানুষ সচেতন না হলে করোনা থেকে মুক্তি মিলবে না 

মানুষ সচেতন না হলে করোনা থেকে মুক্তি মিলবে না 

মোস্তাফিজুর রহমান টিপু : বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণে রাজধানী ঢাকা এখন হটস্পট। সেটা এখন ছড়িয়ে পড়ছে জেলায় জেলায়। দেখতে দেখতে বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী আক্রান্তের সংখ্যা এখন ২ হাজার ১৪৪ জন। গত ৮ই মার্চ প্রথম করোনা রোগীর সন্ধান মেলে আমাদের বাংলাদেশে। ১৮ই মার্চ প্রথম একজন করোনা রোগীর মৃত্যু হয়। এরপর থেকে মৃত্যুর মিছিল প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। প্রায় একশো চিকিৎসক ইতোমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন। এরমধ্যে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ মঈন উদ্দিন মারা গেছেন। 

উদ্বেগের ব্যাপার হচ্ছে সংক্রমিত ডাক্তারের সংখ্যা একশোতে পৌঁছে গেছে। আশঙ্কা, এই সংখ্যা যদি এভাবে বাড়তে থাকে তাহলে একসময় চিকিৎসক সংকট হয়ে যেতে পারে। নার্স আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ জন, কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ২৭০ জন। করোনায় পুলিশের ৫৮ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। কোয়ারেন্টিনে থাকতে বলা হয়েছে ৬৩৩ জনকে। সৌদি আরবে কর্মরত একজন বাংলাদেশি কূটনীতিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসকদের সংগঠন বাংলাদেশ ডক্টরস ফাউন্ডেশন এই তথ্য জানিয়েছে। 

এরিমধ্যেই করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে একমাত্র প্রতিষশেধক 'সামাজিক দূরত্ব'কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে গতকাল লকডাউন উপেক্ষা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাওলানা জুবায়ের আহমদ আনসারীর জানাজায় হাজার হাজার মানুষ শরিক হয়েছেন। আনসারী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর ছিলেন।

বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি খুব ভয়ানক পথে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হাটে মাঠে ঘাটে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। করোনা বাংলাদেশে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় গার্মেন্টস শ্রমিকসহ দরিদ্র জনগোষ্ঠী সবচেয়ে বেশি মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। এছাড়া সামনের সারিতে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীরাও রয়েছেন ঝুঁকিতে। বাংলাদেশের প্রভাবশালী দুটো প্রতিষ্ঠান তাদের জরিপের ফলাফলে বলেছে, সমাজের নিম্নবর্গ এবং নিম্ন আয়ের মানুষ করোনার নেতিবাচক প্রভাবে ইতোমধ্যে খাদ্যাভাব, ক্ষুধা, দারিদ্র্য, খাদ্য নিরাপত্তার অভাবসহ চরম অর্থনৈতিক ঝুঁকি ও সংকটের মধ্যে পড়েছেন। ব্র্যাকের এক জরিপ রিপোর্টে এই তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

প্রতিদিনই নতুন সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ। এই সংকটকে তো একটি সময় শুরুতে পাত্তাই দিতে চাইনি এটাই সত্যি। করোনা ভাইরাস বাংলাদেশে চুপিচুপি আসেনি বরং জানান দিয়ে ঢাকঢোল পিটিয়ে এসেছে তারপরেও যদি আমরা গুরুত্ব না দেই সেটার জন্য তো আর কপালকে দোষতে পারি না। তাই না ? যেকারনে হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করিনি। দু' মাস তিন মাস পর কি হতে পারে সে নিয়ে আগাম চিন্তাও করিনি। যেমন ধরুন লকডাউন। আমরা কি সরকারিভাবে লকডাউন বলেছি ? আমরা বলেছি সাধারণ ছুটি। তাই ভাল। কিন্তু এখন কেন বলছি লোকজন মানছে না? ছুটি হলেতো মানুষজন ছুটির মেজাজেই থাকবে। বলার অপেক্ষা থাকে না যে, যতসব আজগুবি পরামর্শ বা সিদ্ধান্ত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র আমাদেরকে প্রতিদিনই বোকা বানিয়েছেন। বলেছেন সব ঠিক। কোন সমস্যা আমরা দেখছি না। মিডিয়ার খবরকেও তারা উড়িয়ে দিয়েছেন একবাক্যে। টেস্টের প্রয়োজন নেই এমন ধারণাও কিন্তু দিয়েছেন। এখন কেন তারা আবার বলছেন গোটা দেশই ঝুঁকির মধ্যে !!   

উল্লেখ্য, স্বাস্থ্যখাতে এরকম একটা ঝড় উঠবে তা কল্পনার অতীত ছিল। আসলে ভাইরাস-সহ সংক্রামক রোগের কোনও পূর্বের অভিজ্ঞতা ছিল না। কিন্তু বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার যে গাইডলাইন অনুসরণ করে আমরা স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিজস্ব কিছু চিন্তাভাবনা থেকে আমরা কতগুলো পদক্ষেপ সঙ্গে সঙ্গে নিতে থাকি। শনিবার বিকেল ৫টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরির সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেছেন। 

কথায় আছে, যায় দিন ভালো আসে দিন ভয়ংকর। এতটুকু আনুমান করা যায়- আগামী মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য বিপদজনক সময়। জাতিসংঘের রিপোর্ট আপনি মানতে পারেন কিংবা নাও মানতে পারেন। তাতে কিচ্ছু আসে যায় না। তবে সেই রিপোর্টকে এক কথায় উড়িয়ে দেয়ার মধ্যে আবেগ আছে, বাস্তবতা নেই। জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া রিপোর্ট দেখার পর এমন ধারণা দেয়া হলো এটা আজগুবি, চাঞ্চল্য সৃষ্টির প্রয়াশ। এখন কি দেখা যাচ্ছে ? এখন প্রতিদিনই দেশটা লকডাউনে চলে যাচ্ছে। দৌড়ে দৌড়ে বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা। অনেকেরই প্রশ্ন- মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যাটা আপনি কি বলতে পারবেন ? অনেক দেশই সত্য প্রকাশ করছে না। এতে কি বিপদ কমেছে বা কমবে ? বরং বাড়বে। কারণ মানুষ সচেতন না হলে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস থেকে মুক্তি মিলবে না। 

লেখক : সম্পাদক ও প্রকাশক, প্রজন্মকন্ঠ 

পাঠকের মন্তব্য