এম. তামজীদ হোসাইন এর একগুচ্ছ কবিতা 

এম. তামজীদ হোসাইন এর একগুচ্ছ কবিতা 

এম. তামজীদ হোসাইন এর একগুচ্ছ কবিতা 

চাকচিক্য শহর
এম. তামজীদ হোসাইন  

অচেনা শহরের ভিড়ে অচেনা সব মুখ,
পথিক অবিরত হেঁটে চলছে তার লক্ষ্যে,
যুগলরা বসে আছে পার্কে, রেস্টুরেন্টে,
মধ্যবয়সী যুবক চাকরির খোঁজে অফিস থেকে অফিসে ছুটে
হাজার হাজার মানুষের জীবিকার তাগিদে এদিকসেদিক ছুটে চলা
নিঃস্ব, হাত, পা, চক্ষু হারা মানুষগুলো হাত পাতে মানুষের দ্বারে,
কেউ কারো দিকে নজর দেয় না, যেন কেউ কারো নয়।

সহসা ছেঁড়া কাপড় পরিহিত শিশু পত্রিকা হাতে হাঁটছে মানুষের দ্বারে,
কেউবা আবার ফুলের মালা নিয়ে;
এ কোন অলীক গল্প নয়,
শহুরে মানুষের জীবনকথা।

গ্রামীণ অসহায় ছেলেটি শহরে পড়তে এসেছিল,
চোখেমুখে তাঁর হাজারো রঙিন স্বপ্ন,
কলেজের টিউশন ফি দিবে কিভাবে?
রঙিন শহরে ঘুমোতে পারেনা সেই ছেলেটি,
কেউ তো জানেনা, কেউ তো সে খবর রাখেনা।

কেউ কারো দিকে নজর দেয় না, যেন কেউ কারো না।
মানুষ নাকি সৃষ্টির সেরা জীব
অথচ মানুষের অন্তরে অন্যের প্রতি দরদ উথলায় না
দরদ যে হয় না তা না
দরদের অন্তরালে থাকে আরেক মুখোশ
মুখোশ পড়া কিছু মানবতার ফেরিওয়ালা 
মানবতার নামে হয় বাণিজ্য 
লোক দেখানো দরদ
আহা কবে মানুষের মতো মানুষ হবি তোরা....


ভয়

এম. তামজীদ হোসাইন
  
কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে আজ ডালে ডালে
দুনিয়া ভরে গেছে জালে জালে
গরিবের চাল-ডাল চুরি করছে যারা মিলেমিশে 
পরকালে সাপ, বিচ্ছু ঠুকরিয়ে খাবে গিলে গিলে।

কিষাণ-কিষাণী ছুটে চলছে পালে পালে
মানুষ বদলে যাচ্ছে কালে কালে
আরও কতো কি বদলে গেছে সালে সালে
চালকুমড়া ঝুলছে গ্রামের চালে চালে।

নীল আকাশে ঠুকাঠোকি করে চিলে চিলে
ভুলের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় তিলে তিলে
কৃষক খরা রুদ্রে অবিরাম ছুটে চলে বিলে বিলে
পদ্মফুল আর শাপলা ফুল ফুটেছে ঝিলে ঝিলে।


মহামারী করোনা
এম. তামজীদ হোসাইন
  
উন্নত শহর আজ থমকে গেছে
করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে 
মৃত্যুভয় মানুষকে ঘরকুনো করেছে
নি:শব্দ শহরের রাস্তা কাঁদছে ত্রাসে

কোনো শপিংমলে দম্পতির ভীড় নেই
পুরো নগরী যেন এক জনশূন্য মরুভূমি
রাস্তার ধারে সবুজ ঘাস জন্মেছে
এ যেন এক প্রাকৃতিক সৃষ্ট তৃণভূমি

উন্নত হাসপাতাল শ্মশানে রুপ নিয়েছে
ডিগ্রিধারী ডাক্তারেরা আজ ভিষণ শঙ্কিত 
জ্বর, হাঁচি, কাশি হলেই আইসোলেটেড করছে
মানুষ প্রাণনাশের ভয়ে কাঁপছে হয়ে আতঙ্কিত।


ইহকাল-পরকাল
এম. তামজীদ হোসাইন
  
চোখ মেলিয়া দেখো ঐ আলো
দেখিলে তোমার লাগিবে শুধু ভালো
নয়ন মেলিয়া দেখো যাবে মন ভরে
চিন্তা করিলে অশ্রু তোমার যাবে ঝরে

সকলে মিলে কর সদা পুণ্যের কাজ
দশে মিলিয়া করিতে কাজ কভু করিও না লাজ
স্রষ্টার ইশারা ছাড়া খুলিবে না তোমার আঁখি 
তাই চলো সবে তার প্রার্থনা করিতে থাকি

সারাদিন থেকো না মেতে দুনিয়ার খেলায়
পরকালে কেমনে বাঁচিবে আজাবের ঠেলায়?
দুনিয়ার বুকে উঠো না বাহারি উৎসবে মাতি
পুলসিরাতে পাবে না খুঁজিয়া এমন কোনো সাথী

বাঁচিয়া থাকিতে কর কেন মানুষের নিন্দা?
কবরে কি হবে ভাবিয়া দেখেছ কি?
যখন তুমি হবে জিন্দা?
মানুষের দিলে দিও না অযথা কষ্ট
দিলে তোমার সকল পুণ্য হয়ে যাবে নষ্ট

কতো রোহিঙ্গা মুসলমান ভাসিয়া মরিয়াছে সর্বনাশা নদী নাফে
তাদের কি হবে যারা লিপ্ত হয়েছিল রোহিঙ্গা মারার পাপে?
দুষ্ট লোকের কথা শুনে দিও না আগুনে লাফ
ভুল কথা যদি বলিয়া থাকি করো মোরে মাফ।


কোয়ারান্টাইনে পিতা

এম. তামজীদ হোসাইন

পঞ্চাশোর্ধ বৃদ্ধ পিতা ঘরের কোনায় পড়ে আছে
তার সাজানো বাগানটি শুকিয়ে এখন কাঁদছে
ছোটবেলায় বাবার কাঁধে উঠে কতো খেলেছি
তার হাতে হাত রেখে কতো পথ যে ঘুরেছি।

অথচ আজ তার নিথর দেহটি কতো অসহায়
পাশে থাকার মতো আমাদের নেই কোনো সহায়
বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিবো না বলে করেছিলাম পণ
করোনায় আক্রান্ত পিতা আজ হয়েছেন কোয়ারান্টাইন।

হাজার রকমের স্বপ্ন যে তিনি নিজে দেখতেন!
সর্বনাশা করোনা কতো নির্মম প্রতিশোধ নিলেন
সারা বিশ্বজুড়ে চলছে এখন করোনা আতঙ্ক 
কেউ করে না আজকাল আর দুনিয়ার অঙ্ক।

পিতার চেহারাটা চোখের কোনায় ভাসছে
ছুঁতে পারি না তাকে  
এক ঘরে বন্দী বাবা
দরজা খুলে দেখতে পারি না তাকে
তাকে কাছ থেকে দেখার যে নিষেধাজ্ঞা আছে
ছুঁইলে নাকি করোনা ছড়ানোর ভয় আছে
মানুষ সব ভুলে চেষ্টায় আছে কেমনে জীবন বাঁচে।

মালিক তোমার কাছে রইলো আর্জি
করে দাও আমাদের অপরাধ মার্সি
হে প্রভু এ কেমন গজব হয়েছে আবির্ভুত
অতি শীঘ্রই করে দাও এ গজব দূরীভূত।

পাঠকের মন্তব্য