পোশাক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করলে মামলা 

পোশাক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করলে মামলা 

পোশাক শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ না করলে মামলা 

যেসব শিল্প কারখানার মালিকরা এখন ও শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করেননি, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে শ্রম মন্ত্রণালয় বলছে, সন্তোষজনক জবাব না পেলে মামলা করা হবে।

করোনাভাইরাসের মহামারী ঠেকানোর লক্ষ্যে অবরুদ্ধ দেশে এখন দেড় লাখের বেশি শ্রমিক তাদের মার্চ মাসের বেতন পাননি, এদের অধিকাংশই তৈরি পোশাক কারখানার কর্মী। কোনো কোনো মালিক ২০, ২৩, ২৫ ও ২৬ এপ্রিল বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দিলেও অনেক কারখানা কোনো প্রতিশ্রুতিও দেয়নি; ফলে এই পরিস্থিতিকেও সড়কে বিক্ষোভে নামতে হচ্ছে শ্রমিকদের।

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরের এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, বেতন না পাওয়া এক লাখ ৫৮ হাজার ২৫ জন শ্রমিকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শ্রমিক গাজীপুরের ৬১ হাজার ১২৪ জন।

তারপরে রয়েছে ঢাকা জেলার ৪৭ হাজার ২৩৭ জন, চট্টগ্রাম জেলার ১৬ হাজার ৪৮৯ জন, নারায়ণগঞ্জ জেলার ১২ হাজার ৭৫৩ জন,পাবনা জেলার ২ হাজার ৬৩০ জন, নরসিংদী জেলার এক হাজার ৯১ জন, ময়মনসিংহ জেলার ৫ হাজার ৪৬৮ জন, মুন্সিগঞ্জ জেলার ৩১৪ জন, দিনাজপুর জেলার ২ হাজার ২১০ জন, রংপুর জেলার এক হাজার ৫৪৬ জন, কুমিল্লা জেলার ৩ হাজার ৪৫০ জন, ফরিদপুর জেলার এক হাজার ৬৯৫ জন, রাজশাহী জেলার এক হাজার ৬০০ জন, খুলনা জেলার ৪১৮ জন শ্রমিক।

১৬ এপ্রিলের মধ্যে সারাদেশে ৩৭০টি কারখানার মালিক বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন বলে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক শিবনাথ রায় স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে দেখা যায়। ২৩ জন উপমহাপরিদর্শক এই প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন।

এর মধ্যে রয়েছে ঢাকা জেলার ১২২টি, গাজীপুর জেলার ১২০টি, নারায়ণঞ্জ জেলার ৩০টি, চট্টগ্রাম জেলার ৫৮টি, পাবনা জেলার ৩টি, নরসিংদী জেলার ৬টি, ময়মনসিংহ জেলার ১১টি, মুন্সিগঞ্জ জেলার ১টি, দিনাজপুর জেলার ৩টি, রংপুর জেলার ২টি, কুমিল্লা জেলার ৫টি, ফরিদপুর জেলার ৪টি, রাজশাহী জেলার ২টি, খুলনা জেলার ৩টি কারখানা।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, ঢাকা জেলার ১২২টি কারখানার মধ্যে ২০টি কারখানার মালিক ২০ এপ্রিলের মধ্যে বকেয়া বেতন পরিশোধের পরিশ্রুতি দিয়েছেন, ৩০টি বেশি কারখানার মালিক কোনো প্রতিশ্রুতিই দেননি।

২৭টি কারখানার মালিক বলেছেন,তাদের মালামাল বিক্রি হয়নি বলে বেতন দেওয়াও সম্ভবপর হয়নি। কোনো কোনো কারখানার মালিক বলেছেন, শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংক একাউন্ট করা শেষ হলে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধ করবেন। আবার কেউ কেউ বলেছেন, সরকার কর্তৃক প্রণোদনা প্যাকেজের অর্থ পাওয়ার পর ২৮ এপ্রিলে বেতন পরিশোধ করবেন।

আটটি কারখানা কর্তৃপক্ষ ২৫ এপ্রিলে আবার কেউবা ৩০ এপ্রিলে এমনকি ৪ মেও মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
গাজীপুরের ১২০টি কারখানার মধ্যে ২৭টির কর্তৃপক্ষ বেতন পরিশোধের সুনির্দিষ্ট তারিখ দেয়নি; ২৬টি বলেছে, তাদের মালামাল বিক্রি হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন পরিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অনেক কারখানা তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে, অনেক মালিকের মোবাইল ফোনও বন্ধ।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বরিশাল, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, যশোর, বগুড়া, মৌলভীবাজার, সিলেট, কিশোরগঞ্জ ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের সব কারখানা নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধ করেছে। বকেয়া বেতন দাবিতে সাভারে বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা।বকেয়া বেতন দাবিতে সাভারে বিক্ষোভে পোশাক শ্রমিকরা।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৬ এপ্রিলের মধ্যে শ্রমিকদের বেতন না দিলে সংশ্লিষ্ট মালিকের বিরুদ্ধে  আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান।

তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে- জানতে চাইলে শ্রম সচিব কে এম আলী আজম বলেন, “সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর শোকজ করছে। শোকজের জবাব সন্তোষজনক না দিতে পারলে বিধি-মোতাবেক শ্রম আদালতে মামলা করা হবে।”

পোশাক শিল্প মালিকরা শ্রমিকদের মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট খোলা ও প্রণোদনা প্যাকেজ পাওয়ার যে অজুহাত দেখিয়েছে, তা গ্রহণযোগ্য নয় শ্রম মন্ত্রণালয়ের কাছে। আলী আজম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী যে ৫ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন, সেই প্যাকেজের টাকা দেওয়া হবে এপ্রিল মাসের বেতন দেওয়ার জন্য ।

 “সুতরাং মার্চ বা তার আগের মাসের বেতন তো মালিকপক্ষ নিজের থেকে দিতে হবে। এপ্রিল মাসের বেতন বা এ্ই প্রণোদনার সুবিধা পেতে হলে অ্যাকাউন্ট খোলা বাধ্যতামূলক। একটার সঙ্গে আরেকটা গুলিয়ে ফেললে তো হবে না।”

পাঠকের মন্তব্য