পাইকগাছার রাড়ুলীতে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দু'পাড়ার বিরোধ নিস্পত্তি

পাইকগাছার রাড়ুলীতে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দু'পাড়ার বিরোধ নিস্পত্তি

পাইকগাছার রাড়ুলীতে ক্রিকেট খেলা নিয়ে দু'পাড়ার বিরোধ নিস্পত্তি

শেষ পর্যন্ত থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পাইকগাছায় রাড়ুলীর বাঁকা ঘোষপাড়া ও পশ্চিম পাড়ায় ক্রিকেট খেলা নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের নিস্পত্তি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে রাড়ুলী ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে দু'পক্ষের মধ্যে অনুষ্ঠিয় বৈঠকে উভয়ের মধ্যে ভুল বোঝা-বুঝির অবসান হয়েছে। 

সংশ্লিষ্টরা জানান, করোনা পরিস্থিতিতে ছুটিতে থাকা বাঁকা ঘোষপাড়া ও পশ্চিমপাড়ার কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ও বন্ধুরা মিলে ১ মে ক্রিকেট খেলার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ বিষয়ে পশ্চিমপাড়ার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা অছের গাজীর ছেলে বিএল কলেজের অর্নাস পড়ুয়া ছাত্র সাইফুল্লাহ জানান, ঘটনার দিন সকালে প্রসেনজিৎ ঘোষের প্রস্তাব মতে ঘোষপাড়ার পরিত্যক্ত জমিতে আমরা ক্রিকেট খেলতে আসি। কিন্তু কিছুক্ষণ পরে তারা খেলা করবে না বলে প্রাথমিক ভাবে জানিয়ে দেয়। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের এক পর্যায়ে দু'পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি-মারপিটের ঘটনা ঘটে। এতে পশ্চিমপাড়ার সাইফুল্লাহ, মাহামুদুল হাসান, তোফায়েল আহম্মদ, সোহাগ, সাইফুল ও ঘোষপাড়ার প্রসেনজিৎ, সমিরণ, সুদেব, গোবিন্দ কম-বেশী আহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মারপিটের এ ঘটনাটি পরবর্তীতে দু'পাড়ায় পৌঁছালে দু'পক্ষ লাঠি-সোটা নিয়ে মারমুখি হয়ে উঠলে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে সংঘর্ষ এড়ানো সম্ভব হয়। এদিকে প্রসেনজিৎ ঘোষ জানান, খেলা হবে কি হবে না তা সাইফুল্লাহকে রাতে ফোন দেবার কথা ছিল, কিন্তু সেটা না করে ওরা সকালে খেলতে আসলে পাড়ার মুরুব্বীরা করোনা ভয়ের কথা বলে খেলা করতে নিশেধ করে। 

এ প্রেক্ষাপটে তখনই আমরা খেলা না করার মতামত দিলে সাইফুল্লাহ'রা উত্তেজিত হয়ে উঠলে দু'পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। জানাগেছে এ ঘটনায় গত ক'দিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এমনকি কেউ-কেউ সাম্প্রদায়িক ইস্যু তৈরী করে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছিল। স্থানীয়রা জানান, ইউপি চেয়ারম্যান আঃ মজিদ গোলাদার, ইউপি সদস্য ও বিশিষ্ট জনরা দু,দফায় আপোষ মিমাংসার চেষ্টা করলেও সমাধান করতে পারেনি। সর্বশেষ পাইকগাছা-কয়রার এমপি- আকতারুজ্জামান বাবু পর্যন্ত পৌঁছালে তিনি থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা প্রদান করেন। এর প্রেক্ষিতে ওসি'র পদক্ষেপে বৃহস্পতিবার দু'পক্ষের বৈঠক হলে উভয়ে শর্তদিয়ে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ নিস্পত্তি করেছেন। এ বৈঠকে ওসি মোঃ এজাজ শফী স্থানীয়দের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ছোট-খাটো বিষয় নিয়ে যারা এলাকায় এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোঃ আশরাফুল আলম, ইউপি চেয়ারম্যান আ'লীগ নেতা আঃ মজিদ গোলদার, অধ্যক্ষ গোপাল চন্দ্র ঘোষ, ক্যাম্প ইনচার্জ তাইজুল ইসলাম, বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি ডাইরেক্টর আনোয়ারুল ইসলাম, ব্যাংকার নির্মল ঘোষ, আনিছুর রহমান, আ'লীগ নেতা আরশাদ বিশ্বাস, ইউপি সদস্য হামিদ গাজী, জাহান আলী গোলদার, সাবেক সদস্য মন্টু ঘোষ, শিমুল গাজী, গনেশ ঘোষ, অশোক বিশ্বাস প্রমূখ ।

 

পাঠকের মন্তব্য