প্রতিবন্ধি যুবকের অশ্রুসজল বিদায় : দৃষ্টান্ত রাখলেন চেয়ারম্যান তুহিন

প্রতিবন্ধি যুবকের অশ্রুসজল বিদায় : দৃষ্টান্ত রাখলেন চেয়ারম্যান তুহিন

প্রতিবন্ধি যুবকের অশ্রুসজল বিদায় : দৃষ্টান্ত রাখলেন চেয়ারম্যান তুহিন

শেষ পর্যন্ত পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হারিয়ে যাওয়া মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আরিফ মিঞা (আয়ুব) সবাইকে কাঁদিয়ে অশ্রুসজন বিদায় নিয়েছেন। রবিবার সকালে ইউপি চেয়ারম্যন কেএম আরিফুজ্জামান তুহিনের কাছ থেকে যাতায়াত ও ঈদ খরচ সহ তার পরিবারের জন্য মিষ্টি নিয়ে বড় ভাই আপেল মিঞার হাত ধরে ময়মনসিংহ জেলার কতোয়ালী সদর উপজেলার আকুয়া গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। এভাবে মানব সেবায় একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে চলেছেন খুলনা পাইকগাছার লস্কর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কে এম আরিফুজ্জামান তুহিন। তিনি প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার, ইয়ার ফোন প্রদান, অন্ধদের চিকিৎসা সহ অসহায় মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আরেকটা দৃষ্টান্ত রাখলেন হারিয়ে যাওয়া মানসিক প্রতিবন্ধী যুবক আরিফ মিঞা (আয়ুব) কে তার স্বজনদের নিকট ফিরায়ে দিয়ে। 

উল্লেখ্য আরিফের দরিদ্র বাবা আলকাজ মিঞা ঢাকায় সিএনজি চালিয়ে সংসার চালায়। ৩ ভাই বোনের মধ্যে আরিফ ছোট এবং সে মাঝে মধ্যে এ ভাবে হারিয়ে যায় এমনটাই পরিবার সুত্র জানায়।

২৭ শে ফেব্রুয়ারী লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে প্রতিবন্ধী ১৯ বছরের একটি ছেলেকে দেখতে পাই। তখন লোক দিয়ে ওই ছেলেটিকে ডেকে তার নাম পরিচয় জানতে চাই কিন্তু সে কিছুই বলতে পারে না। চেয়ারম্যান তুহিন তাৎক্ষনিক জনৈক মান্নান মিস্ত্রী ও আব্দুল আজিজের তত্ত্বাবধানে রাখেন। ঐ প্রতিবন্ধীকে চেয়ারম্যান প্রতিদিন সকাল ও বিকালে ২০ ও ৫০ টাকা করে চা,পান খরচ করার জন্য প্রদান করতেন। তারপর চেয়ারম্যানের নিদের্শনায় ঐ প্রতিবন্ধীর ছবি তুলে লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ফেসবুক আইডি" আলোর দিশারী" ও চেয়ারম্যানের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়। তারই পরিপ্রেক্ষিতে প্রায় ২ মাস পরে ময়মনসিংহ জেলার কতোয়ালী (সদর) উপজেলার ৮ নং আকুয়া ইউনিয়নের আকুয়া মোড়লপাড়া গ্রামের আনকাজ মিয়া বৃহস্পতিবার চেয়ারম্যান তুহিনের কাছে মোবাইল করে। মোবাইলে বলেন, ফেসবুকে যে ছবিটি দেখেছে তার ছেলে আরিফুল। 

চেয়ারম্যান তার কথা বিশ্বাস না হলে তাকে বলেন আপনার ছবি আমার মোবাইল ম্যাসেঞ্জারে পাঠিয়ে দিন। তিনি ছবি পাঠালে প্রতিবন্ধী আরিফুলকে দেখালে তার পিতার ছবি দেখে হাউ মাউ করে কাঁদতে থাকে। তখন চেয়ারম্যান তার পিতা কে আসতে বললে তিনি না আসতে পেরে আরিফুলের বড় ভাই আপেল মিয়াকে শনিবারে লস্কর ইউনিয়নে লক্ষীখোলা গ্রামে আসেন। আরিফুল তার ভাই আপেলা মিয়াকে দেখে আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ওঠে। রবিবার সকালে লস্কর ইউনিয়ন পরিষদে সবার সম্মুখে প্রতিবন্ধী আরিফকে তার ভাই আপেল মিয়ার হাতে খরচের ৪ হাজার ও কাপড় কিনতে ১ হাজার টাকা ও ১ প্যাকেট মিষ্টি তুলে দেন। চলে যাওয়ার মুহুর্তে প্রতিবন্ধী আরিফ শত শত লোকের ভিতরে একাধিকবার ছুটে এসে চেয়ারম্যান তুহিনের গলা জড়িয়ে ধরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতে থাকে। সে এক আবেগ ঘনময় পরিবেশ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য হাসানুজ্জামান, তাজউদ্দীন, প্রকাশ মন্ডল সহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ।

পাঠকের মন্তব্য