২১টি বছর বাবা ডাকতে পারিনা ! ভাল থেকো প্রিয় বাবা

২১টি বছর বাবা ডাকতে পারিনা ! ভাল থেকো প্রিয় বাবা

২১টি বছর বাবা ডাকতে পারিনা ! ভাল থেকো প্রিয় বাবা

১৯৯৯ সনের ২০শে রমজানের সন্ধ্যায় ইফতারের পানি মুখে নিয়ে দোয়া কলেমা পড়তে পড়তে ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমার বাবা আহাম্মদ আলী তালুকদার অকালে দুনিয়া ছেড়ে চলে যান।

অনেকেই বলে থাকেন আমাদের এলাকায় প্রথম গ্রাজুয়েট ছিলেন আমার বাবা। যতটুকু জানা যায়- গৌরীপুরের শাহগঞ্জ স্কুল, রামগোপালপুর হাই স্কুল, গৌরীপুর আরকে স্কুল, গৌরীপুর সরকারী কলেজ এবং ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজে তিনি লেখাপড়া করেন। এছাড়া ময়মনসিংহ সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড করেন। তিনি ছিলেন একজন শিক্ষানুরাগী, ধার্মিক, সদালাপি, বিনয়ী এবং পরোপকারী মানুষ। তিনি নূরানী চেহারার অধিকারী ছিলেন। কারো সাথে কখনো কোন বিবাদ বা ঝামেলায় জড়াতে আমি তাকে কখনো দেখিনি। এক সময়ে শিক্ষকতা করলেও পরবর্তীতে ময়মনসিংহ পৌরসভায় চাকরী করতেন বাবা। এছাড়া যুবক বয়সে তিনি ভাল ফুটবল এবং ভলিবল খেলোয়াড়ও ছিলেন। 

গ্রামীণ মঞ্চ নাটক ও অভিনয়েও তার বেশ সুনাম ছিল। গৌরীপুর ও ময়মনসিংহের বহু মানুষকে তিনি সরকারি ও বেসরকারি চাকরীর ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন। আমাদের প্রতিটি আত্মীয়-স্বজন, বংশধর এবং আশপাশের এলাকার মানুষের বাড়ী বাড়ী গিয়ে খোঁজ খবর তিনি নিতেন। মেহমান ছাড়া তিনি খাবার খেতে চাইতেন না।

সন্তানদের জন্য তার গর্বের শেষ ছিল না; আমাদের প্রশংসায় তিনি ছিলেন সদা পঞ্চমুখ। যখন আমাদের পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি আসা শুরু করল ঠিক তখনই তিনি ওপারে চলে গেলেন। আমাদের জন্য সারাটি জীবন কতই না কষ্ট ও সংগ্রাম করে গেছেন প্রিয় বাবা। সুখটা ভোগ করে যেতে পারলেন না- যা আমাদেরকে সবসময় কাঁদায়। হয়ত জীবনে আমাদের এ কষ্ট কোনদিন দূর হবে না।

তবে তৃপ্তি একটি জায়গায় পাই, সেটা হলো বাবার আদর্শের রত্নতুল্য সন্তানদের (আমার ভাইবোন) পিতৃস্নেহে লালনপালন করে লেখাপড়া শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চেষ্টা করেছি। আমিও ওদের নিয়ে ঠিক বাবার মতই গর্ব করি। ঝড়ঝঞ্জা মোকাবেলা করে আল্লাহর রহমতে ওরা ভাল আছে, যা আমার জীবনের অনেক বড় তৃপ্তি।

আজ তুমি বেঁচে থাকার খুব বেশী দরকার ছিল। প্রতিটি পদক্ষেপে তোমায় খুব মিস করি। এখন আমাদের অনেক কিছুই আছে, শুধু প্রাণের বাবাটি নেই।

হে প্রতিপালক, দুনিয়াতে পিতামাতা আমাদেরকে যেভাবে লালনপালন করেছেন, তুমিও তাদেরকে পরকালে ঠিক সেভাবে লালন পালন করিও। জান্নাতের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্থানে তাদেরকে স্থান করে দিও। ভাল থেকো প্রিয় বাবা।

ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : Mohammed Ferdous Alam
লেখক : সাধারণ সম্পাদক, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি 

পাঠকের মন্তব্য