বাংলাদেশ হারালো সভ্যতার এক “লাইটহাউজ”

বাংলাদেশ হারালো সভ্যতার এক “লাইটহাউজ”

বাংলাদেশ হারালো সভ্যতার এক “লাইটহাউজ”

মোঃ মাহমুদ হাছান, উপ-সম্পাদকীয় : গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ৪ মেয়াদের প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর এক শিক্ষক ও অভিভাবককে হারালেন আজ ১৪ই মে ২০২০ তারিখে! কিংবদন্তী তুল্য সাহিত্য বিষয়ক গবেষক ও জাতীয় অধ্যাপক ডঃ আনিসুজ্জামান ৮৩ বছর বয়সে আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা ৫৫মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন । তাঁর মহাপ্রয়াণের সংবাদটি টিভির পর্দায় দেখা মাত্র যে বাক্যটি মনে এলো: “বাংলাদেশ হারালো সভ্যতার এক লাইটহাউজ”।

জাতির বিবেক, শিক্ষা ও সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা অধ্যাপক আনিসুজ্জামান হৃদরোগ ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি রক্তের ইনফেকশনে ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। এর আগে বার্ধক্যজনিত সমস্যার কারণে গত ২৭ এপ্রিল রাজধানীর ইউনিভার্সেল কার্ডিয়াক হাসপাতালে ভর্তি হন অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। সেখানে চিফ কার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক খন্দকার কামরুল ইসলামের অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। পরে প্রত্যাশিত উন্নতির লক্ষণ দেখতে না পাওয়ায় চিকিৎসকেরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখেন। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় গত ৯ মে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে (সিসিইউ) থাকা অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি মারা যান। তাঁর মহাপ্রয়াণে দুই বাংলার সাহিত্য, সংস্কৃতির অঙ্গনে নেমেছে শোকের ছায়া, যা গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাতিঘর আনিসুজ্জামান ছিলেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষাবিদ, লেখক ও জাতীয় অধ্যাপক। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের ইমেরিটাস অধ্যাপক। তিনি ভাষা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের বিরোধিতা করে যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে খুন, ধর্ষন, অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজে অংশ নিয়েছিলো, তাদের বিচারের দাবীতে ১৯৭২ সাল হতে আমৃত্যু লড়াই করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে তার নিরলস প্রচেষ্টা অব্যাহত ছিলো শ্রেণীকক্ষ হতে রাজপথ, লেখার প্যাড হতে রেডিওর ষ্টুডিও ও টিভির পর্দা পর্যন্ত্য বিস্তৃত। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালে ডঃ কুদরত-ই-খুদাকে প্রধান করে গঠিত জাতীয় শিক্ষা কমিশনের অন্যতম সদস্য ছিলেন ডঃ আনিসুজ্জামান। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস নিয়ে তাঁর গবেষণা সবিশেষ উল্লেখযোগ্য। আনিসুজ্জামান শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য একাধিক পুরস্কার লাভ করেছেন। ২০১৮ সালের ১৯ জুন বাংলাদেশ সরকার তাকে জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেয়।

ডঃ আনিসুজ্জামানের জন্ম ও পারিবারিক পরিচয় : আনিসুজ্জামান ১৯৩৭ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনা জেলার বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম এ টি এম মোয়াজ্জেম। তিনি ছিলেন বিখ্যাত হোমিও চিকিৎসক। মা সৈয়দা খাতুন গৃহিনী হলেও লেখালেখির অভ্যাস ছিল। তাঁর পিতামহ শেখ আবদুর রহিম ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক। আনিসুজ্জামানরা ছিলেন পাঁচ ভাই-বোন। তিন বোনের ছোট আনিসুজ্জামান, তারপর আরেকটি ভাই। বড় বোনও নিয়মিত কবিতা লিখতেন।

ডঃ আনিসুজ্জামানের শিক্ষা জীবন : আনিসুজ্জামান কলকাতার পার্ক সার্কাস হাইস্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। এখানে তৃতীয় শ্রেণি থেকে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর পরিবারের সাথে বাংলাদেশে চলে আসেন এবং খুলনা জেলা স্কুলে অষ্টম শ্রেণীতে ভর্তি হন। এক বছর পর পরিবারের সাথে ঢাকায় চলে আসেন এবং প্রিয়নাথ হাইস্কুলে (বর্তমান নবাবপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়) ভর্তি হন। ১৯৫১ সালে এ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক ও ১৯৫৩ সালে ঢাকার জগন্নাথ কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগে ভর্তি হন। ১৯৫৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও ১৯৫৭ সালে একই বিষয়ে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। সে সময় বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ছিলেন ডঃ মুহম্মদ শহীদুল্লাহ ও শিক্ষক ছিলেন মুনীর চৌধুরি। এই দুই মহান শিক্ষকের দ্বারা তিনি সাহিত্য বিষয়ে গবেষণায় উদ্বুদ্ধ হয়েছিলেন। ১৯৫৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি বাংলা একাডেমির গবেষণা বৃত্তি লাভ করেন। একই বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে “ইংরেজ আমলের বাংলা সাহিত্যে বাঙালি মুসলমানের চিন্তাধারায ১৭৫৭-১৯১৮” বিষয়ে পিএইচডি শুরু করেন। ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। তিনি পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের গবেষণা বৃত্তিও লাভ করেন। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “উনিশ শতকের বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাস: ইয়ং বেঙ্গল ও সমকাল” বিষয়ে পোস্ট ডক্টরাল ডিগ্রি অর্জন করেন।

ডঃ আনিসুজ্জামানের কর্ম জীবন : আনিসুজ্জামান ১৯৫৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন। ১৯৬৯ সালের জুনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা বিভাগের রিডার হিসেবে যোগদান করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থান করেন এবং পরবর্তীতে ভারত গমন করে শরণার্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি'র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধকালীন গঠিত অস্থায়ী বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে যোগ দেন। ১৯৭৪ - ৭৫ সালে কমনওয়েলথ অ্যাকাডেমি স্টাফ ফেলো হিসেবে তিনি লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ বিষয়ে গবেষণা করেন। ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রকল্পে অংশ নেন। ১৯৮৫ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্বদ্যিালয় থেকে জীবনের প্রথম কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসেন। ২০০৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরে সংখ্যাতিরিক্ত অধ্যাপক হিসেবে আবার যুক্ত হন। তিনি মওলানা আবুল কালাম আজাদ ইনষ্টিটিউট অব এশিয়ান স্টাডিজ (কলকাতা), প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয় এবং নর্থ ক্যারোলাইনা স্টেট ইউনিভিার্সিটিতে ভিজিটিং ফেলো ছিলেন। এছাড়াও তিনি নজরুল ইনষ্টিটিউট ও বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শিল্পকলাবিষয়ক ত্রৈমাসিক পত্রিকা যামিনী এবং বাংলা মাসিকপত্র কালি ও কলম-এর সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৬১ সালে রবীন্দ্র জন্মশতবর্ষ অনুষ্ঠানে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধে আনিসুজ্জামানের অংশগ্রহণ : ভাষা সৈনিক আনিসুজ্জামান প্রত্যক্ষভাবে ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে ১৯৫০ সালে তাঁর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা। মুজিবনগরে তিনি তাজউদ্দীনের বিচক্ষণ কর্মকাণ্ড সরেজমিনে কাছ থেকে দেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি ভারত গমন করে শরণার্থী শিক্ষকদের সংগঠন 'বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি'র সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। মহান ভাষা আন্দোলন , রবীন্দ্র উচ্ছেদবিরোধী আন্দোলন, রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকী আন্দোলন এবং ঐতিহাসিক অসহযোগ আন্দোলনে তিনি সম্পৃক্ত ছিলেন।

ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ : জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামানের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা ক্ষেত্রসহ ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যুতে দেশ ও জাতি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ককে হারালো।’ শেখ হাসিনা বলেন, মহান মুক্তিযদ্ধসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও শিক্ষা ক্ষেত্রে জাতি তার অবদান চিরদিন স্মরণ রাখবে। তিনি বলেন, ‘তার মৃত্যু জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।’ প্রধানমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ শোকবার্তায় বলেন, প্রজ্ঞা ও শুদ্ধ চেতনায় দীপ্ত এ মানুষটির চলে যাওয়া দেশের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। মন্ত্রী প্রয়াতের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।

অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন তিনি। পৃথক বার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল।

ডঃ আনিসুজ্জামানের প্রকাশিত গ্রন্থাবলি- 

গবেষণা গ্রন্থ

• মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য (১৯৬৪)
• মুসলিম বাংলার সাময়িকপত্র (১৯৬৯)
• মুনির চৌধুরি (১৯৭৫)
• স্বরূপের সন্ধানে (১৯৭৬)
• Social Aspects of Endogenous Intellectual Creativity (1979)
• Factory Correspondence and other Bengali Documents in the India Official Library and Records (1981)
• আঠারো শতকের বাংলা চিঠি (১৯৮৩)
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ (১৯৮৩)
• পুরোনো বাংলা গদ্য (১৯৮৪)
• মোতাহার হোসেন চৌধুরী (১৯৮৮)
• Creativity, Reality and Identity (1993)
• Cultural Pluralism (1993)
• Identity, Religion and Recent History (1995)
• আমার একাত্তর (১৯৯৭)
• মুক্তিযুদ্ধ এবং তারপর (১৯৯৮)
• আমার চোখে (১৯৯৯)

বাঙালি নারী

• সাহিত্যে ও সমাজে (২০০০)
• পূর্বগামী (২০০১)
• কাল নিরবধি (২০০৩)

বিদেশি সাহিত্য অনুবাদ

• অস্কার ওয়াইল্ডের An Ideal Husband এর বাংলা নাট্যরূপ 'আদর্শ স্বামী' (১৯৮২)
• আরবুঝুভের An Old World Comedy -র বাংলা নাট্যরূপ 'পুরনো পালা' (১৯৮৮)

গ্রন্থ একক ও যৌথ

• রবীন্দ্রনাথ (১৯৬৮)
• বিদ্যাসাগর-রচনা সংগ্রহ (যৌথ, ১৯৬৮)
• Culture and Thought (যৌথ, ১৯৮৩)
• মুনীর চৌধুরী রচনাবলী ১-৪ খণ্ড (১৯৮২-১৯৮৬)
• বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস, প্রথম খণ্ড (যৌথ, ১৯৮৭)
• অজিত গুহ স্মারকগ্রন্থ (১৯৯০)
• স্মৃতিপটে সিরাজুদ্দীন হোসেন (১৯৯২)
• শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত স্মারকগ্রন্থ (১৯৯৩)
• নজরুল রচনাবলী ১-৪ খণ্ড (যৌথ, ১৯৯৩)
• SAARC : A People's Perspective (১৯৯৩)
• শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের আত্মকথা (১৯৯৫)
• মুহম্মদ শহীদুল্লাহ রচনাবলী (১ ও ৩ খণ্ড, ১৯৯৪-১৯৯৫)
• নারীর কথা (যৌথ, ১৯৯৪)
• ফতোয়া (যৌথ, ১৯৯৭)
• মধুদা (যৌথ, ১৯৯৭)
• আবু হেনা মোস্তফা কামাল রচনাবলী (১ম খণ্ড, যৌথ ২০০১)
• ওগুস্তে ওসাঁর বাংলা-ফরাসি শব্দসংগ্রহ (যৌথ ২০০৩)
• আইন-শব্দকোষ (যৌথ, ২০০৬)
ডঃ আনিসুজ্জামানের প্রাপ্ত পদক ও পুরস্কার:
• ১৯৫৬: নীলকান্ত সরকার স্বর্ণপদক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
• ১৯৬৫: দাউদ পুরস্কার
• ১৯৭০: প্রবন্ধ-গবেষণায় অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি থেকে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার
• ১৯৮৫: শিক্ষায় অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার একুশে পদক
• ১৯৯৩: আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার
• ২০০৫: রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সম্মানসূচক ডি. লিট.ডিগ্রী
• এশিয়াটিক সোসাইটিতে (কলকাতা) ইন্দিরাগান্ধী স্মারক বক্তৃতা
• কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে শরৎচন্দ্র স্মারক বক্তৃতা
• নেতাজী ইনস্টিটিউট অফ এশিয়ান অ্যাফেয়ার্সে নেতাজী স্মারক বক্তৃতা
• অণুষ্টুপের উদ্যোগে সমর সেন স্মারক বক্তৃতা প্রদান।
• ২০১৪: শিক্ষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য ভারত সরকার প্রদত্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার পদ্মভুষণ পদক
• ২০১৫: সাহিত্যে অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রদত্ত সর্বোচ্চ বেসামরিক পুরস্কার স্বাধীনতা পুরস্কার
• ২০১৭: বিপুলা পৃথিবী বইয়ের জন্য আনন্দবাজার পত্রিকা কর্তৃক প্রদত্ত আনন্দ পুরস্কার
• ২০১৮: বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জগত্তারিণী পদক
• ২০১৯: সার্ক কালচারাল সেন্টার থেকে সার্ক সাহিত্য পুরস্কার
• ২০১৯: শিক্ষাক্ষেত্রে অনন্য অবদানের জন্য খান বাহাদুর আহছানউল্লা স্বর্ণপদক

সঙ্কলনে: মোঃ মাহমুদ হাছান, ১৯৮২-৯০এর সামরিক স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের রাজপথের সৈনিক, 
ভূতপূর্ব কলেজ অধ্যক্ষ, ভূতপূর্ব সমাজ গবেষণা কর্মী। 

তারিখ: ১৪ই মে, ২০২০, রাত ১০টা ২৫মিনিট।

পাঠকের মন্তব্য