সাইক্লোনে পুরো দক্ষিণবঙ্গ শেষ হয়ে গিয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী মমতা 

সাইক্লোনে পুরো দক্ষিণবঙ্গ শেষ হয়ে গিয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী মমতা 

সাইক্লোনে পুরো দক্ষিণবঙ্গ শেষ হয়ে গিয়েছে : মুখ্যমন্ত্রী মমতা 

সাইক্লোনের জেরে ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি পশ্চিমবঙ্গে। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘ধ্বংসস্তূপের উপর দাঁড়িয়ে আছি।’ বুধবার দুপুর থেকেই ঝড়ের বেগ বাড়তে শুরু করে। কলকাতাতেই ১৩০ কিমি পেরিয়ে গিয়েছিল ঝড়ের গতি। উপকূলে এই গতি ছিল অনেকটাই বেশি।

সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গা শেষ হয়ে গিয়েছে। দুই ২৪ পরগণা, দুই মেদিনীপুর সহ একাধিক অংশে কার্যত ধ্বংসলীলা চলেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর আশঙ্কা, অন্তত ১০-১২ জনের মৃত্যু হয়েছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ” সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সব ব্রিজ বন্ধ। ইলেকট্রিসিটি পুরো শেষ, জলের সংযোগ শেষ। কৃষি ক্ষেত্র সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত।’

খারাপ পরিস্থিতিতে মানুষের কাছে সাহায্যের আর্জি জানিয়েছেন তিনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যে তিনটি কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। প্রথমটা হল করোনা, দ্বিতীয়টা হল পরিযায়ী শ্রমিক ও তৃতীয় এই আমফান। এতটা ক্ষতি হবে, এমনটা আশা করেননি বলে দাবি করেম মুখ্যমন্ত্রী। পরিযায়ী শ্রমিকদের কোথায়, কিভাবে রাখবেন সেই উদ্বেগের কথাও প্রকাশ করেন মমতা।

রাজনীতি না করে কেন্দ্রের কাছে সাহায্যের আর্জিও জানান তিনি। সব ঠিক করতে ৪-৫ দিন সময় লাগবে বলেও উল্লেখ করেছেন।

এদিন কলকাতায় দুপুর তিনটে নাগাদ আবহাওয়া দফতর থেকে জানানো হয় দুপুর আড়াইটে থেকেই ৭৯ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টায় হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকেল চারটে পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ৩৫ টি গাছ ভেঙে পড়েছে। রেড রোড, নিউ আলিপুর, খিদিরপুর, যতীনদাস পার্ক, গড়িয়াহাট, পূর্ণদাস রোড, সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউ, ট্যাংরা, সল্টলেকের সিডিও ব্লক ও বেহালার বহু জায়গায় গাছ পড়েছে।

গাছ ভেঙে পড়েছে কলকাতার নিউ আলিপুর, বালিগঞ্জ, গড়িয়াহাট, ময়দান, পশ্চিম বন্দর, হেস্টিংস, কসবা, চেতলা, ট্যাংরা, হরিদেবপুর, একবালপুর, উল্টোডাঙা সহ একাধিক এলাকায়।

এখনও পর্যন্ত এই ঝড়ে চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। এর মধ্যে তিনজন পশ্চিমবঙ্গে ও একজন ওডিশায়। এরাজ্যে হাওড়ায়, মিনাখাঁয় ও বসিরহাটের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য