আম্ফানের তান্ডবে পাইকগাছায় শিশুর মৃত্যুসহ আহত ৯৩ : এলাকা প্লাবিত

আম্ফানের তান্ডবে পাইকগাছায় শিশুর মৃত্যুসহ আহত ৯৩ : এলাকা প্লাবিত

আম্ফানের তান্ডবে পাইকগাছায় শিশুর মৃত্যুসহ আহত ৯৩ : এলাকা প্লাবিত

ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে সুন্দরবন ঘেঁষা উপকূলীয় কয়রা-পাইকগাছা উপজেলা লন্ড-ভন্ড হয়ে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। পাইকগাছায় নানার বাড়ীতে বেড়াতে এসে ঝড়ে দেয়াল চাপায় মিরাজ (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু সহ ৯৩ ব্যক্তি আহত হয়েছে। ঝড়ের প্রভাবে ও অ-স্বাভাবিক জোয়ারে পানির চাপে একাধিক স্থানে পানিউন্নয়ন বোর্ডের বেঁড়িবাধ ভেঙ্গে  এলাকার শত-শত মৎস্য ঘের, হাজারো বিঘার কৃষি ক্ষেত তলিয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ের পর বৃহস্পতিবার সকালে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে অনেক স্থানে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত বেঁড়িবাঁধ মেরামত করা হয়েছে বলে সুত্র জানিয়েছেন। গত ২৮ ঘন্টা যাবত বিদ্যুত সরবরাহ নেই।

বুধবার ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের তান্ডবে রাত সাড়ে ৯ টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউপির কৃষ্ণনগর গ্রামে মামার বাড়ীতে মিরাজ নামে এক শিশু ইটের দেওয়ার চাপায় নিহত হয়। এ সময় তার মা শাবনুর বেগমও আহত হয়। নিহত শিশু যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বিশোরীপুর গ্রামের জহুরুল শেখের ছেলে। সংশ্লিষ্ট সুত্র জানিয়েছেন, ঝড়ের প্রভাবে নদ- নদীতে স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ফুট জলের উচ্চতা বুদ্ধি পেলে উপজেলার অনেক স্থানের ঝুঁকিপূর্ণ ওয়াপদার বেঁড়ি ছাপিয়ে পোল্ডারে পানি ঢুকেছে এবং অনেক স্থানে ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বুধবার রাতে ২৩ নং পোল্ডারের লস্করের খেয়াঘাট সংলগ্ন স্থানে ১৫ ফুট ও কড়ুলিয়ার আনিছ খার ঘের সংলগ্ন স্থানে ৪০ফুট বেঁড়িবাধ ভেঙে পোল্ডারে পানি প্রবেশ করলে বহু চিংড়ী ঘের তলিয়ে গেছে। 

বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দা সাংবাদিক স্নেহেন্দু বিকাশ কুদ্দুস সানা, বাচ্চু সানা,স্বপন গাইন সহ স্থানীয় শাতাধিক মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বিকল্প বাঁধ দেওয়ায় খেয়াঘাটের ভাঙ্গন রক্ষা পায়। একই সময়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোফাজ্জেল ও গ্রামবাসির প্রচেষ্টায় ভাঙন কবলিত বাঁধ মেরামত করেন। এর পূর্বে  সোলাদানা ইউপির বয়ারঝাপায় ইউপি চেয়ারম্যান এসএম এনামুল হক ও গড়ইখালীর ক্ষুতখালীতে প্যানেল চেয়ারম্যান আঃ ছালাম কেরু স্থানীয়দের সহয়তায় ঝুঁকিপূর্ণ বেঁধিবাধে বালির বস্তা ও মাটি দিয়ে মেরামত করেণ। এদিকে দেলুটি কালীনগরে ২ ফুটের উর্ধ্বে ঝুঁকিপূর্ণ বেঁড়িবাঁধ ভেঙে গোটা এলাকা লবন পানিতে প্লাবিত হয়েছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, দেলুটি ইউনিয়ানে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। লবন পানিতে উঠতি ফসল ২শ একর তরমুজ ক্ষেত, বহু ঘরবাড়ি, পুকুর ও ফসলের ক্ষেত তলিয়ে মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। 

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা চেয়ারম্যন গাজী মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিপদগ্রস্থদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ ছাড়া গাদইপুরের কচুবুনিয়া, নিমাইখালী, রাড়ুলীর কাঠিপাড়া, গড়ইখালীর বাজার, শান্তা গংরক্ষি, দেলুটির গেউয়াবুনিয়া, মধুখালী, পারমধুখালী, কপিলমুনির শ্রীফলতলা, লতার ইউপির কাঠামারী, লতা, হাড়িয়া, পানা, হালদার চকে ওয়াপদার নিচু বাঁধ ছাপিয়ে পোল্ডারে পানি প্রবেশ করেছে বলে স্থানীয় বাসিন্দ ও জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন। এদিকে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে কয়রা উপজেলার হাজারো ঘরবাড়ী, ফসলের ক্ষেত সহ বিভিন্ন স্থানে বেঁড়িবাধ ভেঙে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

  

মহা এ দুর্যোগ মুহুর্তে খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রার) সংসদ সদস্য আকতারুজ্জামান বাবু নির্বাচনী এলাকার একাধিক ক্ষতিগ্রস্থ স্থান পরিদর্শন করে দুর্যোগ মোকাবেলায় সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য