পাইকগাছায় ওয়াপদা ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত : পানি বন্দী ৩৫ হাজার মানুষ 

পাইকগাছায় ওয়াপদা ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত : পানি বন্দী ৩৫ হাজার মানুষ 

পাইকগাছায় ওয়াপদা ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত : পানি বন্দী ৩৫ হাজার মানুষ 

একদিকে মহামারী করোনা'র ছোবল অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্ফান। যেন মরার উপরে খাঁড়ার ঘা। বার বার এই দ্বীপপুঞ্জ কে নিয়ে প্রকৃতি যেন কাটাছেড়া করছে।
  
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে পাইকগাছা উপজেলার দ্বীপ বেষ্টিত দেলুটি ইউনিয়ন। শিবসা, ভদ্রা, হাপরখালী, চৌমোহনী ও দেলুটি নদীর উপকুল বেষ্টিত  ৩টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ৪নং দেলুটি ইউনিয়ন। এখানে ৩৫ হাজার জনসংখ্যার বসবাস। ১টা মাত্র সাইক্লোন সেল্টার। চারিদিকে নদী বেষ্টিত হওয়ায় অবহেলিত এ জনপদ যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির পরিমাণ হয় বেশি। আম্ফানে ইউনিয়নের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ কালিনগর ২২নং পোল্ডার ওয়াপদা বেঁড়িবাঁধ  ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। হাজার হাজার ঘর বাড়ী স্রোতে ভেসে গেছে। দেলুটির ৯ টা চক নিয়ে বা ১৩টি গ্রাম নিয়ে গঠিত ২২ নং পোল্ডার। এখানে ২০ হাজার লোকের বসবাস।যার ৪ পাশেই রয়েছে নদী বেষ্টিত। চিংড়ি চাষ মুক্ত এলাকাটির জনগন ধান, তরমুজ ও বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করে থাকে। ঐ এলাকার উৎপাদিত ফসল দেশের বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানী করে থাকে। বর্তমানে উক্ত পোল্ডারের তরমুজ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সহ উত্তর বঙ্গে রপ্তানীর কার্যক্রম অব্যহত রয়েছে। তরমুজ বাগান থেকে গাড়ীতে লোড আনলোড করতে হাজার হাজার শ্রমিক কাজ করে। যেখানে জমির মালিক, বর্গাদার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী প্রত্যেকে স্ব স্ব স্থান থেকে উপার্জন করে থাকে। কিন্তু প্রলয়ংকারী ঘুর্ণঝড় আম্পান সব কুছু তছ নছ করে দিল। অন্ধকার করে দিল তাদের উপার্জন।  ঋনে হাবু ডুবু খেতে হবে চাষীদের।

ঘুর্ণিঝড় আম্পান বুধবার রাতে আঘাত হানে। তার আঘাতে কালীনগর ওয়াপদা ভেঙ্গে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে। ঐ রাতেই এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। তলিয়ে যায়, শত শত বসত বাড়ী,ভাসিয়ে নিয়ে যায় কোটি কোটি টাকার তরমুজ,  বাঙ্গী, শাক সবজি।এলাকার জনগন স্বেচ্ছা শ্রমের মাধ্যমে ভাঙ্গন মেরামতের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

এছাড়া ২০ নং পোল্ডার পারমধুখালী, ২০/১ নং গেউয়াবুনিয়া, চকরিবকরি আংশিক ওয়াপদা বেঁড়িবাঁধ ভেঙ্গে এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এ এলাকা লবণ পানির জন্য মৎস্য ঘের ই মানুষের জীবীকার উৎস। প্লাবিত হওয়ায় চারিদিকে পানি আর পানি। ঘরবাড়ি সব ভেসে গেছে। মানুষ বেঁড়িবাঁধেরর উপর কোন রকমের আশ্রয় নিয়েছে।

এমপি বাবু'র সার্বিক পরামর্শে খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউব২) এর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কান্তি ব্যানার্জী এখানে অবস্থান করে সর্বক্ষণিক মনিটরিং করছেন।

সংবাদ পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে পাইকগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জুলিয়া সুকায়না, উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী গেউয়াবুনিয়া ও জিরবুনিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সকল প্রকার আশ্বাস প্রদান করেন এবং শুকনা খাবার বন্যাদুর্গত দের মাঝে বিতরণ করেন। ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বলেন, আমার ইউনিয়ানে সব কিছুই শেষ। অবহেলিত এ জনপদের মানুষের জন্য নাওয়া খাওয়া বাদ দিয়ে ছুটে চলেছি এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। একদিকে যতদ্রুত বেঁড়িবাঁধ নির্মাণ আরেকদিকে বন্যার্তদের মূখে দু'মুঠো খাবার তুলে দেওয়ায় প্রধান কাজ। এব্যাপারে এমপি বাবু কয়রা থেকে সর্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন।

কিন্ত বানভাসী এলাকার জনগনের এই মুহুর্তে আশ্রয়ের কোন ব্যবস্থা না থাকায় অনেকে ওয়াপদার রাস্তায় অবস্থান করছে। আবার অনেকে ঘরের মধ্যে চালা করে বসবাস করছে। দ্রুত সরকারী পদক্ষেপ না পেলে এলাকাবাসীকে গৃহহীন হয়ে অনাহারে থাকতে হবে বলে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।  অবহেলিত, বার বার প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষত-বিক্ষত দেলুটি ইউনিয়ানবাসী এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষেরর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

পাঠকের মন্তব্য