‘বিরল ভালবাসা’র প্রতিবেদক হায়দার আলীর জন্মদিন আজ  

‘বিরল ভালবাসা’র প্রতিবেদক হায়দার আলীর জন্মদিন আজ  

‘বিরল ভালবাসা’র প্রতিবেদক হায়দার আলীর জন্মদিন আজ  

আজ ২৩ মে, নির্ভীক মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সাংবাদিক হায়দার আলীর ৪৪ তম জন্মদিন।

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রিকশা-ভ্যানচালক হাসমত আলী। বঙ্গবন্ধু এবং আওয়ামী লীগের একজন অন্ধ ভক্ত। হাড়ভাঙা পরিশ্রম করার পরও তিনি আওয়ামী লীগের মিছিল-মিটিংয়ে যোগ দিতেন নিয়মিত।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হবার পর তিনি উতলা হয়ে উঠেন এই ভেবে যে, বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনা এতিম হয়ে গেছেন। তার কেউ নেই। হাসমত আলী শেখ হাসিনাকে নিজের কন্যা মনে করে তার জন্য কিছু একটা করবে বলে মনে মনে স্থির করেন। এজন্য তিনি হাড়ভাঙা পরিশ্রমে আয় করা টাকা থেকে অল্প অল্প করে জমাতে থাকেন শেখ হাসিনার জন্য।

’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নিহত হবার পর তিনি বঙ্গবন্ধুকে দেখার জন্য স্ত্রী-পুত্রসহ ঢাকায় চলে আসেন। সেই থেকে ঢাকার আগারগাঁওয়ের বস্তিতে বাস করেন তিনি। এরপর ২০০৩ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হাসমত আলী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে গফরগাঁওয়ের রাওনা ইউনিয়নের খারুয়া বড়াইল গ্রামের মো. ইউছুফ আলীর কাছ থেকে পৌনে সাত শতাংশ জমি কেনেন ২৪ হাজার টাকায়।

২০০৪ সালে যক্ষা রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা যান। মারা যাবার আগে তাকে জমি বিক্রি করে চিকিৎসা নেওয়ার কথা বলা হলেও তিনি রাজি হননি। এমনকি জমি বিক্রির নাম ভুলেও মুখে আনতে নিষেধ করেন তার স্ত্রীকে। তিনি বলতেন, এই জমিতে তার কন্যা শেখ হাসিনা থাকবেন। স্বামী মারা যাবার পর স্ত্রী রমিজা খাতুন ভিক্ষা করে জীবন পার করতে থাকেন। জমি নিজের সন্তানের নামে না দেওয়ার কারণে সন্তান কাদের তার খোঁজখবর নিতেন না। বরং মাঝে মধ্যে ঝগড়া হতো।

কিন্তু স্বামীর দেওয়া দাবি অনুযায়ী জমির দলিল আগলে রাখেন রমিজা খাতুন। খোঁজ করতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়ির সামনে ভিক্ষা করার সময় অনেকদিন চেষ্টা করেছেন বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করতে চেয়েছেন। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। শেষে সৌভাগ্যক্রমে কালের কণ্ঠের প্রতিবেদক হায়দার আলীর সঙ্গে দেখা রমিজার। ২০১০ সালের ২ জুন এ নিয়ে কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন ছাপা হলে প্রধানমন্ত্রীর নজর কাড়ে।

এরপর রমিজা খাতুনকে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার সঙ্গে দেখা করেন। তাকে বুকে জড়িয়ে আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী রমিজা খাতুনের সব দায়িত্ব নেন এবং সেই জমিতে রমিজা খাতুনের জন্য একটা বাড়ি তৈরির ব্যবস্থা করেন।

এই পুরো ঘটনাটির খুটিনাটি দিক নিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রামাণ্য চিত্র ‘বিরল ভালবাসা’। সেই থেকে ইতিহাসের জায়গা করে নিলেন সাংবাদিক হায়দার আলী। 

কে এই হায়দার আলী : হায়দার আলীর জন্ম ঢাকার শ্যামলীতে। তার বাবা মো.শামসুদ্দিন, মা সালমা বেগম। তিনি মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা লাভ করেন। পরবর্তীতে তিনি কালের কণ্ঠ, সমকালে কাজ করেছেন। বর্তমানে এই সাংবাদিক কালের কণ্ঠ’র জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক হিসেবে কর্মরত আছেন। পালন করছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপোর্টাস এগইনেস্ট করাপশনের সভাপতির দায়িত্ব।

কবি শামসুর রাহমানরে হাত ধরে শুরুটা প্রথম আলো’তে। অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা নেশা যার চোখে মুখে। ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের প্রায় প্রতিটি জেলায়। তুলে এনেছেন অন্যায় আর দুর্নীতির ভয়ঙ্কর সব খবর। দুর্নীতিবাজ আর দেশখেকোদের মুখোশ উন্মোচন করেছেন।

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় পেয়েছেন একাধিক পুরস্কার। অনুসন্ধানী সংবাদকর্মীকে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে পুরস্কৃত করেন এবং দেন দীর্ঘক্ষণের বিশেষ সাক্ষাৎকার। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে রাষ্ট্রীয় সফরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে নিয়ে যান। পেশাগত কাজের স্বীকৃতিতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকায় অর্জন করনে বেশ কয়েকটি পুরস্কার।

সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় হায়দার আলী বর্তমানে একটি উদাহরণ। একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় সাংবাদিকসহ সর্বমহলেই তিনি অতি প্রিয় ও পরিচিত একটি মুখ। সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব, সততা ও সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা বিশেষ করে সাহস করে অনেক ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়ের উপর অনুসন্ধানি প্রতিবেদন তাকে খুব অল্প সময়ে নিয়ে এসেছে এক অনন্য উচ্চতায়।

প্রিয় এই সাংবাদিকের জন্মদিনে প্রজন্মকণ্ঠ পরিবারের পক্ষ থেকে রইলো অনেক অনেক প্রীতি আর শুভেচ্ছা। 

পাঠকের মন্তব্য