সেনাবাহিনী আগমনে স্বাগত জানিয়েছে দেলুটি ইউনিয়নবাসী  

সেনাবাহিনী আগমনে স্বাগত জানিয়েছে দেলুটি ইউনিয়নবাসী  

সেনাবাহিনী আগমনে স্বাগত জানিয়েছে দেলুটি ইউনিয়নবাসী  

শনিবার সচিবের উপস্থিতিতে জরুরী সভা : ভাঙ্গন কবলিত কালীনগরে বিকল্প রিংবাঁধ ভেঙ্গে পোল্ডারে আবারোও লবন পানির প্রবেশ

চোখে না দেখলে বিশ্বাস করতাম না, কত কষ্টের জীবন অতিবাহিত করছে দেলুটি ইউনিয়ন বাসি। কয়েকশত এলাকাবাসি সারাদিন খেটে যেটুকু বাঁধ দিলো, জোয়ারে বাসিয়ে নিয়ে গেলো মূর্হুত্বের মধ্যে। দাঁড়িয়ে থেকে চেয়ে চেয়ে দেখলাম। খোলা আকাশের নিচে ছোট শিশু থেকে বয়স্ক মানুষ বেঁড়িবাঁধেরর উপর মানবেতর রাত কাটাচ্ছে। নেই খাবারের ব্যবস্থা, পানযোগ্য পানি এ কথাগুলো বলছিলেন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লিপিকা ঢালী। 

হ্যাঁ সত্যই পাইকগাছা দেলুটির অসহায় মানুষের করুন কান্নার জল মোছাতে সরকারসহ সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ কে এগিয়ে আসার বিনীত অনুরোধ করেছেন- চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল। পাশাপাশি সুধি সমাজ জানান, কেউ যেন ত্রাণের নাম করে নমোঃ নমোঃ করে ফটোশেসন করে দেলুটিবাসীর সাথে ছিনিমিনি না করেন।

সরজমিনে, পাইকগাছায় অম্ফানের আঘাতে লন্ড-ভন্ড দেলুটির ২২ নং পোল্ডারের কালীনগরে ভাঙন কবলিত পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাশ দিয়ে নির্মিত বিকল্প রিং বেঁড়িবাঁধটি ভেঙ্গে আবারো লোকালয়ে লবন পানি প্রবেশ করছে। শনিবার এলাকার হাজারো মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে প্রায় ৫ শ ফুট বিকল্প রিং বাঁধের কাজ শেষ করার পর-পরই দুপুরের প্রবল জোয়ারে পানি উপছে বাঁধের ২শ ফুট অংশ ভেঙে পোল্ডারে লবন পানি ঢুকছে বলে ঘটনাস্থল থেকে ইউপি সদস্য সুপদ রায় ও বিশ্বজিৎ রায় মন্ডল জানিয়েছেন। এ ভাঙনে কালীনগর, হরিনখোলা, দারুনমল্লিক, বিগরদানা, দুর্গাপুর সহ ১৩ টটি গ্রাম প্লাবিত হয়ে হাজার-হাজার বিঘার কৃষি ফসল, তরমুজ ক্ষেত, বাড়ী-ঘর, পুকুর তলিয়ে কোটি-কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়েছে।  

এদিকে খুলনা-৬ ( পাইকগাছা-কয়রা) এমপি আলহাজ্ব  মোঃ আক্তারুজ্জামান বাবু ঝড়ে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ কয়রার কয়েকটি ইউনিয়নের ভায়াবহ অভিজ্ঞতার বর্নানা দিয়ে জানান, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী ক্ষয়-ক্ষতি নিরুপন বেঁড়িবাঁধ সংস্কার সহ সার্বিক বিষয়ে শনিবার বিকাল ৩ টায়  খুলনা সার্কিট হাউজে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হবে। এ সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ কবির বিন আনোয়ার, এলাকার এমপি সহ সরকারী পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন। দেলুটি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল জানান, বেঁড়িবাঁধ ভাঙনে গেউয়াবুনিয়া, পারমধুখালী, চকরিবকরি  সহ কয়েক গ্রামের মানুষ পানি বন্ধি হয়ে পড়েছে। এখানেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাউবো'র ২ স্থানীয় শাখা প্রকৌশলী মোঃ ফরিদউদ্দীন জানান, এলাকার মানুষ গেউয়াবুনিয়াতে রিংবাঁধ দিয়েছেন। তবে ২০ নং পোল্ডারের নড়ায় দ্রুত ক্ষতিগ্রস্থ বেঁড়িবাঁধ  মেরামত না করলে যে কোন মুহুর্তে ভেঙে গেলে কয়েক গ্রামের মানুষ পানিবন্ধ হয়ে পড়বে।  

সারাদিনব্যাপী ভাইস চেয়ারম্যান শিয়াবুদ্দীন ফিরোজ বুলুকেও বেঁড়িবাঁধ মেরামত সহ বন্যার্তদের সাথে কাজ করে গেছেন।

অন্যদিকে শনিবার সকালে পাউবো'র নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী গড়ইখালীর খুতখালী ঝুঁকিপূর্ণ বেঁড়িবাঁধ পরিদর্শন করেছেন। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দ্রুত পদক্ষেপে ও তার চাচাতো ভ্রাতা শেখ হেলাল উদ্দীন-এমপি ও স্থানীয় এমপি-আক্তারুজ্জামানের প্রচেষ্টায় ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বেঁড়িবাঁধ সংস্কার, উদ্ধার তৎপরতা সহ মানুষের জান-মালের নিরাপত্তায় সিভিল প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর আগমনকে এলাকার মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। এলাকায় স্বস্তির সুবাতাসের গন্ধ পাচ্ছে। 

পাঠকের মন্তব্য