করোনার প্রকোপেও থেমে নেই ডমটেক শিক্ষার্থীর সমাজসেবা

করোনার প্রকোপেও থেমে নেই ডমটেক শিক্ষার্থীর সমাজসেবা

করোনার প্রকোপেও থেমে নেই ডমটেক শিক্ষার্থীর সমাজসেবা

প্রতিবেদক : মোঃ রাশিদ, ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ; পীরগঞ্জ : প্রায় আড়াই মাস হয়ে গেল দেশব্যাপী চলছে COVID-19 বা করোনা ভাইরাসের মারাত্নক প্রভাব। চীনের উহান শহর থেকে যখন আস্তে আস্তে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করে অবশেষে আমাদের দেশে ঢুকে পড়ে এই মরণঘাতী করোনা ভাইরাস,ঠিক তখনি এর বিস্তার রোধ করতে বিশ্লেষকদের পরামর্শে ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বন্ধ ঘোষনা করা হয় দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

কিন্তু এতদিন হয়ে গেল তবুও এই করোনা ভাইরাস যেন এগিয়েই যাচ্ছে দূর্বার গতিতে! জনজীবন হয়ে উঠেছে দুর্ভোগময়, অর্থনীতির চাকা বন্ধ হয়ে গিয়েছে অনেক অভাবী পরিবারের। আর এসকল হতদরিদ্র,অভাবী পরিবারের দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের পাশাপাশি সাহায্য-সহযোগিতায় এগিয়ে আসছে ছোট বড় বিভিন্ন ধরনের সামাজিক সংগঠন,যেগুলোতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশের তরুন ছাত্রসমাজ। করোনার এই দুর্ভোগের সময় এসকল সামাজিক কর্মকান্ডে নিজেদের শ্রম,সময়,অর্থ ও মেধাকে ব্যবহার করে এগিয়ে আসছে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এদিক থেকে পিছিয়ে নেই রংপুর জেলার পীরগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজও (DWMTEC)।

অত্র প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন ছাত্রও তাদের নিজ নিজ জায়গা থেকে বিভিন্ন সংগঠন এবং প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কাজ করে যাচ্ছে এসকল সামাজিক কর্মকান্ডে।

সাধারণত এসকল সংগঠনের কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে অভাবী ও দরিদ্র পরিবারের মাঝে অর্থ, খাদ্য সামগ্রী, চিকিৎসা সামগ্রী, ইফতার সামগ্রী এবং ইদ উপহার বিতরন করা। তেমনি এক সামাজিক সংগঠনের নাম "সাকিবিয়ান অব মিরসরাই" যেটি চট্রগ্রামের মিরসরাই উপজেলার একটি সামাজিক স্বেছাসেবী সংগঠন। সংগঠনটি মূলত মিরসরাই এলাকার অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের কে বিভিন্নভাবে সাহায্য করে থাকে। সংগঠনটিতে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে আছেন ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এর দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র "আকাশ চন্দ্র দাস" এবং যিনি সংগঠনটির সূচনালগ্ন থেকেই তার এলাকায় বিভিন্নধরনের সামাজিক স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডের সাথে জড়িত আছেন।

বছরের বিভিন সময় বিভিন্ন আয়োজনের মাধ্যমে তারা এলাকার গরীব মানুষদেরকে সহায়তা করে থাকে। কিন্তু করোনার এই মারাত্নক প্রভাবে তাদের কর্মকান্ডেও নানারকম বাধার সৃষ্টি হয় কিন্তু তাই বলে তারা তাদের সামাজিক কার্যক্রম থামিয়ে রাখেনি। গেল দুইমাসে সংগঠনটি তিন ধাপে এলাকার গরীব ও অসহায় দের পাশে দাড়ানোর চেষ্টা করেছে।

প্রথম ধাপে তারা মিরসরাই এলাকার প্রায় ৩৫ পরিবারকে ত্রান উপহার দেয় ও মাস্ক বিতরন করে।

দ্বিতীয় ধাপে তারা প্রায় ৫০ পরিবার কে রমজানের ইফতার সামগ্রী বিতরন করে।এবং কিছুদিন আগে ২০ ই মে, ২৬ রমজানে তারা তৃতীয় ধাপে প্রায় ৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে তারা ইফতার বিতরন করে এবং চিনকি আস্তানা রেলস্টেশনে বসে তাদের সাথে ইফতারে অংশগ্রহন করে।

সংগঠনটি মূলত কিছু ক্রীড়াপ্রেমী সাকিব-আল-হাসান ভক্তদের দারা পরিচালিত এবং নামটি একজন ক্রিকেটারের সাথে সম্পর্কিত হলেও এটির মূল লক্ষ্য হচ্ছ মিরসরাই এলাকায় স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডের অগ্রগতি করা। সংগঠনের কর্মকান্ডে করোনার প্রভাব সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে দুঃখভারাক্রান্ত স্বরে আকাশ চন্দ্র দাশ জানায় প্রতি বছর রমজানের এই সময়টায় তারা এতিমখানা বা মাদ্রাসায় ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে যা করোনার এই ক্রান্তিলগ্নে সম্ভব হয়ে উঠেনি।তবে এবছর সেই অর্থ দিয়ে মানুষের ঘরে ঘরে ইফতার সামগ্রী পৌছে দিয়েছে তারা।

এভাবেই করোনাকালীন এই চরম দুর্ভোগের সময়ে অন্যান্য সংগঠনের ন্যায় "সাকিবিয়ান অব মিরসরাই" সংগঠনটিও নানারকম সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে মানবতার সেবায় এগিয়ে আসছে। এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এডমিন এবং প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে আকাশ চন্দ্র দাস তার ক্যাম্পাসের নামও সকলের কাছে ফুটিয়ে তুলছে। যেটা ক্যাম্পাসের অংশ হিসেবে সকলেরই গর্বের বিষয়।

সংগঠনের ভবিষ্যৎ চিন্তা সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি জানান, আমাদের এই সংগঠনের প্রতিষ্টালগ্ন হতে আজ পর্যন্ত সংঘঠনের কোন পোগ্রামে রাজনৈতিক কোন ব্যাক্তি থেকে সহযোগীতা নেই নাই। মাত্র ৫ জন নিয়ে শুতু করে বর্তমানে প্রায় ৭০ এর অধিক কর্মী যুক্ত হয়েছে এই সংগঠনে,যাদের প্রায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শিক্ষার্থী যারা অনেক কষ্ট করে অধ্যবসায়ের মাধমে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সাকিবিয়ান অব মিরসরাই সংগঠনটির সহযোগীতায় আরও একটা ফাউন্ডেশন খুলার চেষ্ঠায় আছে তারা, যার মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশ এর অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে তারা। সেই সাথে ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক একটা টীম তৈরীর চিন্তাভাবনাও আছে তার।

এভাবেই আকাশ চন্দ্র দাস এর মত আরও কিছু তরুনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকান্ডের মাধ্যমে উপকৃত হবে শত শত অসহায় পরিবার। মানবতার শৃঙ্খল ছড়িয়ে যাবে সমাজের প্রতিটি স্তরে।

পাঠকের মন্তব্য