মনে রাখবেন; ঈদের আগে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড  

মনে রাখবেন; ঈদের আগে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড  

মনে রাখবেন; ঈদের আগে করোনায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড  

রাত পোহালেইপালিত হবে খুশির ঈদ। তার ঠিক আগের দিন অর্থাৎ রবিবার একদিনে করোনা ভাইরাসে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড হল। আজ ২৯ জন এই মারণ ভাইরাসের কারণে মারা গেলেন। এদের মধ্যে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের পরিদর্শকও রয়েছেন। তাঁকে নিয়ে এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জন পুলিশকর্মী মারা গেলেন।

অপরদিকে দমকল ও সিভিল ডিফেন্সের ৭৯ জন আধিকারিক ও কর্মচারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। গতকাল শনিবার ২০ ও শুক্রবার মারা গিয়েছেন ২৪ জন। এর ফলে এখনও পর্যন্ত দেশে এই নিয়ে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে মারা গেলেন ৪৮০ জন। এখনও দেশে করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩৩ হাজার ৬১০ জন।

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে রবিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানানো হয়। তবে এর মধ্যে সুখবর হল করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যবহৃত ওষুধ রিমডেসিভির ১৩টি হাসপাতালকে সরবরাহ করা হয়েছে। আর রবিবারই এটি বাজারজাত করার অনুমোদন পেয়েছে দেশের খ্যাতনামা ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড।

নিম্নোক্ত ডিএমপির ১৪ নির্দেশনা নির্দেশনাসমূহ মেনে চলার সবিনয় বিনীত আহ্বান 

১. ঈদের নামাজের জামায়াতের পূর্বে সম্পূর্ন মসজিদ জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে।

২. ঈদের নামাজের জামায়াতের সময় মসজিদে কার্পেট বিছানো যাবে না। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্বে জায়নামাজ নিয়ে আসবেন। মসজিদে সংরক্ষিত জায়নামাজ ও টুপি ব্যবহার করা যাবে না।

৩. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধ নিশ্চিতকল্পে মসজিদে প্রবেশদ্বারে সাবান/হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।

৪. মসজিদের ওযু খানা ব্যবহার না করে প্রত্যেককে নিজ নিজ বাসস্থান থেকে ওযু করে মসজিদে আসতে হবে এবং ওযু করার সময় কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড সাবান দিয়ে হাত ধুতে হবে।

৫. ঈদের নামাজের জামায়াতে আগত ধর্মপ্রাণ মুসল্লীগণকে অবশ্যই মাস্ক পরে মসজিদে আসতে হবে।

৬. ঈদের নামাজ আদায়ের সময় কাতারে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে সামাজিক দুরুত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি অনুসরণ করে দাঁড়াতে হবে।

৭. এক কাতার অন্তর অন্তর কাতারবদ্ধ হতে হবে।

৮. করোনা ভাইরাস সংক্রমণ রোধে মসজিদে জামায়াত শেষে কোলাকুলি এবং পরস্পর হাত মেলানো থেকে বিরত থাকুন।

৯. মসজিদে শৃঙ্খলার সাথে প্রবেশ ও বাহির হওয়ার ক্ষেত্রে পৃথক পৃথক ব্যবস্থা রাখার জন্য মসজিদ কমিটিকে অনুরোধ করা হলো।

১০. করোনা পরিস্থিতিতে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের বাসায় যাতায়াত করা থেকে বিরত থাকুন।

১১. ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়ে বিনোদন কেন্দ্রে যাতায়াত না করে নিজ ঘরে অবস্থান করে পরিবারের সদস্যদের সাথে ঈদ উদযাপন করুন।

১২. ঈদ উদযাপনের লক্ষ্যে যারা ঢাকার বাহিরে যাবেন তারা তাদের বাসা অথবা ফ্ল্যাটের মেইন গেটে অটোলক ব্যবহার করুন এবং বাসাবাড়ী ত্যাগের পূর্বে রুমের দরজা-জানালা সঠিকভাবে তালাবদ্ধ করুন।

১৩. মালিক পক্ষ স্ব স্ব মার্কেট/শপিং মলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করুন এবং আপনার এলাকার থানা/ফাঁড়ির সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখুন।

১৪. খালি বাসায় মূল্যবান সামগ্রী না রেখে ঢাকায় অবস্থান করছেন এমন আত্মীয়-স্বজনদের বাসায় তা রেখে যান।

মহামারী করোনা ভাইরাসের বিস্তাররোধে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঈদ-উল-ফিতর উদযাপন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ সম্মানিত ধর্মপ্রাণ নাগরিকবৃন্দকে অনুরোধ জানাচ্ছে।

আমাদের প্রত্যেকের মনে রাখতে হবে, একটি মৃত্যু একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্না। তাই কোনপ্রকার অবজ্ঞা ও অবহেলা নয়। 

পাঠকের মন্তব্য