‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও’ চিনা সেনাকে নির্দেশ : জিনপিং

‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও’ চিনা সেনাকে নির্দেশ : জিনপিং

‘যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও’ চিনা সেনাকে নির্দেশ : জিনপিং

করোনা ভাইরাসের জন্য আন্তর্জাতিক চাপ, আমেরিকার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের চরম অবনতি এবং সীমান্তে ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা। এই কঠিন পরিস্থিতিতে ফের আগ্রাসী মেজাজে চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং (Xi Jinping)। চিনের জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং কৌশলগত স্থিতাবস্থা বজায় রাখাতে সেনা জওয়ানদের যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন চিনের কমিউইনিস্ট পার্টির চেয়ারম্যান।

চিনের জাতীয় টেলিভিশনে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী বাহিনীর উদ্দেশ্যে জিনপিং বলেছেন, ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চিনা সেনাবাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে প্রশিক্ষণ শুরু করা প্রয়োজনীয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ জিনপিং জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে করোনা সংক্রান্ত যাবতীয় বিধিনিষেধ উড়িয়ে দিয়ে সেনা মহড়া শুরু করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যুদ্ধের মতো মারাত্মক পরিস্থিতির জন্যও প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে, আপাতত চিনের টার্গেট ভারত না আমেরিকা, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, করোনা নিয়ে যেভাবে চিনের বিরুদ্ধে আমেরিকা জনমত গঠনের চেষ্টা করে চলেছে, তা মোটেই পছন্দ নয় বেজিংয়ের। তাঁদের মতে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে চিনের নামে গুজব ছড়াচ্ছে আমেরিকা। আবার লাদাখ এবং সিকিমে ভারত সীমান্তেও যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে চিন।

৫ মে লাদাখে ও ৯ মে সিকিমে ভারতীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে লালফৌজের একাধিকবার হাতাহাতি, মারপিটের ঘটনা ঘটেছে। দু’পক্ষের বেশ কয়েকজন জওয়ান গুরুতর জখম হয়েছিলেন। এর মধ্যে চিনা কপ্টারের ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটেছিল। তারপর থেকেই লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (এলএসি) বরাবর ক্রমশ সেনা সংখ্যা বাড়িয়ে চলেছে লালফৌজ। ভারতের গুপ্তচর উপগ্রহের ছবি বলছে, যুদ্ধকালীন তৎপরতায় লালফৌজের বহু সেনা ছাউনি ও পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছে। ভারী সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধাস্ত্র জড়ো করেছে তারা। লাদাখ থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরে গরি গুনসা বিমানঘাঁটিকে ঢেলে সাজিয়েছে চিনা বিমানবাহিনী। সেখানে বেশ কয়েকটি জে-১১, জে-১৬ যুদ্ধবিমান তৈরি রাখা হয়েছে। লাদাখে যুদ্ধ বাধলে লালফৌজকে সাহায্য করতেই গরি গুনসা বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে লালফৌজের ওয়েস্টার্ন থিয়েটার কমান্ড। 

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, পূর্ব লাদাখের পরিস্থিতি এখন ভীষণ থমথমে।পূর্ব লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর প্যাংগং হ্রদ, দেমচক, গালওয়ান নদী উপত্যকা, ভারতীয় সেনার ফরোয়ার্ড পোস্ট কেএম-১২০ নম্বর এলাকায় দুই তরফেই সংঘাতের প্রস্তুতি চলছে। অসমর্থিত সূত্রের খবর, এলএসি পেরিয়ে ভারতের ভূখণ্ডের তিন-চার কিলোমিটার ভিতরে ঢুকে ঘাঁটি গেড়েছে লালফৌজ। সেখানে তারা বাঙ্কার, ছোট সুড়ঙ্গ, সেনা ছাউনি তৈরি করেছে। রয়েছে হাজার থেকে ১২০০ সেনা। ওই এলাকাগুলি ছাড়াও লালফৌজ কয়েক হাজার সেনা বাড়িয়েছে দারবুক, শায়ক, দৌলত বেগ ওল্ডি সেক্টরে। আনুমানিক হাজার পাঁচেক চিনা সেনা রয়েছে সবকটি সেক্টর মিলিয়ে।

পাঠকের মন্তব্য