রংপুর ও দিনাজপুরে নেশাজাতীয় পানীয় পানে মৃত্যু ১৪ 

রংপুর ও দিনাজপুরে নেশাজাতীয় পানীয় পানে মৃত্যু ১৪ 

রংপুর ও দিনাজপুরে নেশাজাতীয় পানীয় পানে মৃত্যু ১৪ 

রংপুর ও দিনাজপুরে ঈদ উদযাপন করতে গিয়ে নেশাজাতীয় পানীয় পান করে ১৪ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। গত সোমবার রাত থেকে আজ বুধবার সকাল পর্যন্ত রংপুরের পীরগঞ্জ ও সদর উপজেলা এবং দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে কেউ ঘটনাস্থলে, কেউ হাসপাতালে নেয়ার পথে, আবার কেউ চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

রংপুর

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পীরগঞ্জের শানেরহাট ইউনিয়নে মৃত্যুবরণ করেন খোলাহাটি গ্রামের আবদুর রাজ্জাক (৪৫), পাহাড়পুর এলাকার জাহেদুল হক (৩৫), সেলিম মিয়া (৫২), নওশা আলী (৫০), মিঠাপুকুর উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের চন্দ্র খালকো (৩০) এবং গাইবান্ধা জেলার সাদুল্যাপুরের দুলা মিয়া (৫২)।

তারা ঈদের রাত থেকে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত শানেরহাট বাজারে মদ পান করে ঈদ উদযাপন করছিলেন। এছাড়া সেখানে থাকা আরো ৭ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তারা নিজ উদ্যোগে বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরেস চন্দ্র।

সদর উপজেলার চন্দনপাট ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় মদ পান করে আরো তিন জন মারা গেছেন। তারা হলেন- চন্দনপাট ইউনিয়নের সরোয়ার হোসেন (৩১), মোস্তফা কামাল (৩০) ও বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের নুর ইসলাম (৩০)। সকলেই রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

দিনাজপুর

বিরামপুর পৌর শহরের মাহমুদপুর গ্রামে ঈদ উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার রাতে আড্ডায় মেতেছিলেন বন্ধুরা। এ সময় মদ পান করে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান তিন বন্ধু আবদুল মতিন (২৭), ছেলে আজিজুল ইসলাম (৩৩) ও ছেলে মহসিন আলী (৩৮)।

আরো দুইজনকে আজ বুধবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হলে অল্প সময়ের ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেন। তারা স্বামী-স্ত্রী ছিলেন। মৃতরা হলেন- পৌর শহরের হঠাৎপাড়া মহল্লার শফিকুল ইসলাম (৪২) ও তার স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৩৫)।

এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ও স্পিরিট বিক্রির সন্দেহে ইতোমধ্যে মাহমুদপুর শান্তিমোড় বাজার এলাকার পল্লী হোমিও হলের স্বত্ত্বাধিকারী আবদুল মান্নানকে জিজ্ঞাসাবাবাদের জন্য আটক করেছে বিরামপুর থানা পুলিশ।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, সাত বন্ধু মিলে অ্যালকোহল পান করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এর মধ্যে পাঁচ জন মারা গেছেন। বাকি দুইজনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্ত শেষে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

পাঠকের মন্তব্য