এবার গেউয়াবুনিয়ার ভাঙ্গা ওয়াপদার বাঁধ বাঁধলেন চেয়ারম্যান এনামুল হক

চেয়ারম্যান এনামুল হক

চেয়ারম্যান এনামুল হক

সকাল থেকে আকাশের মন ভারী। সাদা মেঘের আনা গোনা। গুড়িগুড়ি বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি যতই প্রবল হচ্ছে দেলুটির বানভাসী মানুষ গুলোর উৎকন্ঠা ততই বেড়ে চলেছে। আজ গেউয়াবুনিয়া ভাঙ্গা বেঁড়িবাঁধে বাঁধ দেওয়া হবে। চারিদিকে বিস্তীর্ণ অথৈই জলরাশি। ঢেউ এ জল থৈ থৈ করছে। সেই সাথে বানবাসী মানুষের স্বপ্ন গুলো ঢেউ এর জলে থৈ থৈ করছে। আশা নিরাশার দোলাচলে। বেঁড়িবাঁধ ভাঙ্গনের ফলে জোয়ারে জলে তোড়ে সবকিছু প্লাবিত। সব কিছু গিলে খাচ্ছে/গ্রাস করছে। আবার নদীর ভাটায় জলরাশি নামছে সেই সাথে ঘরবাড়ি, সবজিক্ষেত, মাঠ ভরা ফসল সব কিছু ভেসে যাচ্ছে। যেভাবেই হোক বাঁধ সম্পন্ন করতে হবে। খোলা আকাশের নিচে বানবাসী মানুষের নির্ঘুম রাত যেন শেষ হতে চাই না। 

বুধবার থেকে চেয়ারম্যান রিপন গ্রামবাসীদের নিয়ে গেউয়াবুনিয়ার ভাঙ্গা ওয়াপদার বাঁধ নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছেন। এদিকে দেলুটিবাসীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সোলাদানা ইউনিয়ানের চেয়ারম্যান এস এম এনামুল হক সঙ্গী মানুষ নিয়ে আসার কথা। কালবৈশাখীর বৃষ্টি বাদলে নদীপথে তাদের আসা নিয়ে সংশয়ে রয়েছে। সে সময়ে সকল শঙ্কা দূরে ঠেলে লোকজন নিয়ে বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে বাঁধ বাঁধতে হাজির হলেন চেয়ারম্যান এনামুল। পরবর্তী যোগদেন তে লতা ইউনিয়ানের মানুষ।

উল্লেখ্য, পাইকগাছার সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান আবারো সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দেলুটি ইউপির গেওয়াবুনিয়া এলাকায় ঘুর্ণিঝড় আম্পানে লন্ড-ভন্ড হয়ে যাওয়া প্রায় অর্ধকিলোমিটার বেড়ি বাঁধ নির্মাণ করলেন। হাসি ফোটালেন এলাকার হাজার হাজার মানুষের। আনন্দে কেঁদে দিলেন অত্র ইউপি চেয়ারম্যান। সরেজমিনে তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ মে ঘুর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে দেলুটি ইউনিয়নের ২০ ও ২২নং পোল্ডার লন্ড-ভন্ড হয়ে যায়। বাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে ঘর-বাড়ী, ফসলাদি নষ্ট করে দেয়। ২২নং পোল্ডার দেলুটি ইউপির ৯টি গ্রাম বেষ্টিত একটি ‘ব’ দ্বীপ। দ্বীপের কালিনগর নামক স্থানে ভাঙ্গন সৃষ্টি হলে এলাকা প্লাবিত হয়। ঘর-বাড়ি, গবাদি পশু ও কোটি কোটি টাকার ফসলাদি নষ্ট হয়ে যায়। 

এলাকাবাসী দুই-দুইবার বাঁধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। এমন সময়ে পার্শ্ববর্তী সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক এলাকার মানুষের দুঃখ-দূর্দশা ও মানবেতর জীবন যাপন সহ্য করতে না পেরে তিনি নিজেই উদ্যোগ উক্ত বাঁধ মেরামতের। গত ২৬ মে নিজ ইউনিয়ন হতে লোকজন নিয়ে বাঁধটি মেরামত করে দেন। তখনই একই ইউনিয়নের ২০নং পোল্ডারের পানিবন্দি লোকজনসহ ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডলের অনুরোধে বৃহস্পতিবার সকালে সোলাদানা ইউনিয়ন হতে ৬-৭শ লোকজন নিয়ে স্বেচ্ছাশ্রমে গেওয়াবুনিয়া-মধুখালীর প্রায় অর্ধকিলোমিটার ভাঙ্গন কবলিত বেড়ি বাঁধের কাজ শুরু করেন। বিকাল ৩টা পর্যন্ত তিনি নিজে নেতৃত্ব দিয়ে ও দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যানকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধের কাজ সম্পন্ন করেন। বাঁধের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অত্র এলাকার হাজার হাজার নারী-পুরুষ চোখের পানি ফেলে উলুধ্বনির মাধ্যমে সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হককে ধন্যবাদ জানান। 

চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক জানান, যেহেতু ক্ষতিগ্রস্থ এ ইউনিয়নটি আমার ইউনিয়নের পাশে অবস্থিত। তাদের দুর্বিসহ জীবন-যাপন দেখে আমি খুবই মর্মাহত। দু'বার বাঁধ দিলেও রাখতে না পারায় আমি বিবেকের তাড়নায় এগিয়ে এসে নিজ খরজে ৫শ লোক নিয়ে বাঁধ বেঁধে দিয়েছি। চেয়ারম্যান এস,এম, এনামুল হক একই জায়গায় দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বক্তব্য দিতে যেয়ে কেঁদে ফেলেন এবং স্নেহেস্পদ ছোট ভাই সোলাদানা ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হকের ঋণ কখনও শোধ করতে পারবেন না বলে ব্যক্ত করেন। এ ঘটনা উপজেলা পরিষদে পৌছালে বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, উপজেলা নির্বাহী অফিসার জুলিয়া সুকায়না ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহাম্মদ আরাফাতুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। কাজ শেষে এনামুল নিজ হাতে শ্রমিকদের হাতে খাবার তুলে দেন।

এছাড়া অত্র এলাকার পানিবন্দি ওয়াপদায় বসবাসরত লোকদের মাঝে খাদ্য বিতরন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ইউপি সদস্য সুকুমার কবিরাজ, প্রীতিলতা রায়, সুকৃতি মন্ডল, মঙ্গল সরকার, দ্বিজেন্দ্রনাথ মন্ডল, আবুল হোসেন, গোলাম মোস্তফা, বিল্লাল হোসেন, কাইয়ুম হোসেন, কল্লোল মন্ডল প্রমুখ। 

পাঠকের মন্তব্য