কালোতালিকাভুক্তির মুখে বাংলাদেশকে শোষণকারী ব্র্যান্ডগুলো

কালোতালিকাভুক্তির মুখে বাংলাদেশকে শোষণকারী ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো

কালোতালিকাভুক্তির মুখে বাংলাদেশকে শোষণকারী ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলো

বাংলাদেশী পোশাক প্রস্তুতকারীরা বুধবার বলছেন যে করোনাভাইরাস সঙ্কটের কারণে পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হওয়ার মাধ্যমে তাদেরকে ‘শোষণকারী’ পাশ্চাত্যের ফ্যাশন ব্র্যান্ডগুলোকে তারা কালোতালিকাভুক্ত করবে। দেনা প্রশ্নে একটি প্রধান ব্রিটিশ রিটেইলারের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি প্রদানের কয়েক দিনের মধ্যে এই অভিমত প্রকাশ করা হলো।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) ব্রিটিশ বিলিওনিয়ার ফিলিপ ডের এডিনবড়া উলেন মিল গ্রুপের (ইডব্লিউএম) কাছে চিঠি লিখে ২৫ মার্চের আগে জাহাজে করে চালান দেয়া পোশাকের মূল্য শুক্রবারের মধ্যে পরিশোধ করতে বলেছে।

বিজিএমইএর সভাপতি রুবানা হক টমসন রয়টার্সকে হোয়াটঅ্যাপে বলেছেন, বিজিএমই সুনির্দিষ্ট কিছু ক্রেতাকে কালোতালিকাভুক্ত করছে এবং ইডব্লিউএমকে দিয়ে শুরু করছে।

তিনি বলেন, তাদের সাথে ব্যবসা করার মানে এই নয় যে আমরা শুধু তাদের স্বার্থ রক্ষা করে যাব। যারা সরবরাহকারীদের ইচ্ছাকৃতভাবে শোষণ করছে, ওইসব ক্রেতার বিরুদ্ধে, আমরা অবশ্যই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেব।

ইডব্লিউএমের এক মুখপাত্র বলেন, সর্বোত্তম সদিচ্ছা নিয়েই নিয়েই সব সরবরাহকারীর সাথে সম্পৃক্ত রয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা একটি সমাধান পেতে আক্ষরিকভাবেই সম্ভব সব বিকল্প নিয়ে কাজ করছি। তবে আমাদের একথাও স্বীকার করতে হবে যে এগুলো কঠিন ও জটিল বিষয়। পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে পোশাক সরবরাহ করার দিক থেকে চীনের পর দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ তার ৮০ ভাগ রফতানির জন্য তৈরী পোশাক শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। দেশটিতে চার হাজার কারখানায় ৪০ লাখ লোক কাজ করে, তাদের বেশির ভাগই নারী।

করোনাভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক দোকানপাট বন্ধ থাকায় পাশ্চাত্যের অনেক রিটেইলার পোশাকের অর্ডার বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে এশিয়াজুড়ে শ্রমিকেরা চাকরি হারিয়েছে। এতে করে শিল্পটি দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকতে পারবে কিনা সে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশের তৈরী পোশাক রফতানি এপ্রিলের প্রথম দিকে ৮৪ ভাগ হ্রাস পায়, ৩ বিলিয়ন ডলারের অর্ডার বাতিল বা স্থগিত হয় বলে কারখানা মালিকেরা জানিয়েছেন। বাংলাদেশর কারখানা মালিকেরা জানিয়েছে, তারা ইডব্লিউএমকে বাদ দিয়ে দিয়েছে। কারণ এই প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় আইন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড লঙ্ঘন করে ও নৈতিক মূল্যবোধ পদদলিত করে বিপুল ডিসকাউন্ট দেয়ার অনুরোধ করেছে।

চিঠিতে বলা হয়, কিছু কিছু বায়ার কোভিড-১৯ পরিস্থিতির অযাচিত সুযোগ নিয়ে অযৌক্তিক ডিসকাউন্ট চাচ্ছে। অথচ চুক্তিগুলো ছিল কোভিড-১৯-এর আগের এবং তারা ব্যবসায়িক কার্যক্রমও অব্যাহত রেখেছিল।

বাংলাদেশ সেন্টার ফর ওয়ার্কার সলিডারিটির প্রতিষ্ঠাতা কল্পনা আকতার বিজিএমইএর অবস্থানের প্রশংসা করে বলেন, এতে পোশাককর্মীদের সুবিধা হবে। এসব শ্রমিক বেতন না পেয়ে বিক্ষোভ করছে।

তিনি বলেন, কারাখানা মালিকেরা বলছেন, তারা অর্ডার বাতিল হওয়ার কারণে শ্রমিকদের পাওনা দিতে পারছে না। বর্তমান অবস্থান গ্রহণ করায় ব্র্যান্ডগুলো পাওনা পরিশোধ করতে থাকায় তা শ্রমিকদের জন্য ভালো হবে। এখন মালিকদের না বলতে শেখার সময়।

সুত্র : রয়টার্স

পাঠকের মন্তব্য