মাকে নিয়ে বিপাকে স্বাস্থ্য পরিচালক; সমালোচনার ঝড়

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক তিনি। সম্প্রতি তিনি ও তার মায়ের করোনা শনাক্ত হয়েছে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও কিডনির সমসায় ভোগা মাকে চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারেননি। বাধ্য হয়েছেন মা রাজিয়া কবিরকে নিয়ে ঢাকায় আসতে।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই প্রধান অবশেষে তার মাকে রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে একদিকে যেমন সমালোচনার ঝড় বইছে, তেমনি চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন যে, বিভাগীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রধানের যদি এই অবস্থা হয়- তাহলে সাধারণ মানুষের অবস্থা কতটা করুণ!

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২৮ মে ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির ও তার মা রাজিয়া কবিরের করোনা পরীক্ষার রেজাল্ট পজিটিভ আসে। এর পরই মাকে নিয়ে অনেকটা বিপাকে পড়েন ডা. শাহরিয়ার। কারণ তার মা আগে থেকেই কিডনির সমস্যায় ভুগছেন। এ জন্য দুই দিন পর পর ডায়ালাইসিস করতে হয়। কিন্তু করোনা আক্রান্তের কথা শোনার পর চট্টগ্রামের কোনো হাসপাতালই তার ডায়ালাসিস করতে রাজি হয়নি।

এমনকি চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. শেখ ফজলে রাব্বী নগরীর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ওই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার মায়ের ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করেন। কিন্তু তিনিও কোনো হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে রাজি করাতে পারেননি।

সব হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাফ কথা, করোনারোগীর কিডনির ডায়ালাইসিস করা ঝুঁকিপূর্ণ। কারণে এর ফলে হাসপাতালের অন্য রোগীদেরও আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা থাকে। তারা সবাই করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যান।

কোনো উপায় না দেখে শেষমেশ শুক্রবার দিবাগত রাতে অসুস্থ মাকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ছাড়েন ডা. শাহরিয়ার। আর আজ শনিবার সকালে তার মাকে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ন হাসাপাতালে ভর্তি করান।

ডা. হাসান শাহরিয়ার কবির এ ব্যাপারে গণমাধ্যমকে বলেন, সিভিল সার্জনের মাধ্যমে চট্টগ্রামে ডায়ালাইসিসের সুবিধা থাকা সব হাসপাতালে তার মাকে ভর্তি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। সব হাসপাতালের পক্ষ থেকে ঝুঁকির অজুহাত দেখিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। মায়ের ডায়ালাইসিস করানোর কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে ঢাকায় আসতে বাধ্য হন তিনি।

পাঠকের মন্তব্য