করোনা ভাইরাস টিকা তৈরির দৌড়ে প্রথম হতে চায় চীন 

করোনা ভাইরাস টিকা তৈরির দৌড়ে প্রথম হতে চায় চীন 

করোনা ভাইরাস টিকা তৈরির দৌড়ে প্রথম হতে চায় চীন 

নতুন করোনাভাইরাসের টিকা চলতি বছরের শেষ নাগাদ পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে চীনের একটি সরকারি সংস্থা।

ফোর্বসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাসের টিকা তৈরির দৌড়ে প্রথম হতে চায় চীন। আর নিজেদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ৯৯ ভাগ কার্যকর বলে দাবি করেছে চীনের জৈবপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক।

নভেল করোনা ভাইরাসের একটা টিকা আবিষ্কারে রাত দিন এক করে দিয়েছেন দুনিয়ার সেরা সব বিজ্ঞানিরা। এই বৈশ্বিক মহামারিতে কোন দেশ কার আগে ভ্যাকসিন নিয়ে বাজারে আসতে পারবে তা নিয়ে চলছে তুমুল প্রতিযোগিতা। আর এই প্রতিযোগিতার দুই বড় খেলোয়াড় চীন-আমেরিকা। টিকা আবিষ্কারের এই খেলায় আমেরিকা টেক্কা দিতে পারে চায়না।

এ বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের শুরুতেই করোনাভাইরাসের টিকা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি প্রতিষ্ঠান অ্যাসেটস সুপারভিশন অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন কমিশন (এসএএসএসি)।

এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, উহান ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস আর বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস টিকা তৈরির কাজে যুক্ত। দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা শুরু করেছে প্রতিষ্ঠান দু’টি। এরই মধ্যে দুই হাজার ব্যক্তির শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে টিকার প্রয়োগও করেছে তারা। বেইজিং ইনস্টিটিউট অব বায়োলজিক্যাল প্রোডাক্টস প্রতি বছর টিকাটির ১০ থেকে ১২ কোটি ডোজ উৎপাদন করতে সক্ষম।

নিজেদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন ৯৯ ভাগ কার্যকর বলে দাবি করেছে চীনের জৈবপ্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিনোভ্যাক। বেইজিং-ভিত্তিক এই বায়োটেক সংস্থা ১০ কোটি ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহের লক্ষ্যে তৈরি করছে একটি বাণিজ্যিক প্ল্যান্ট। খবর দিয়েছে স্কাই নিউজ।

সিনোভ্যাকের তৈরি করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনটি বর্তমানে ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে। এটি নিরাপদ কি না, তা পরীক্ষা করতে এক হাজার ভলেনটিয়ারকে দেওয়া হচ্ছে এই ভ্যাকসিন। গবেষকেরা বলছেন, ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার তৃতীয় ধাপ শুরু করতে যুক্তরাজ্য সরকারের সাথে  প্রাথমিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সিনোভ্যাকের গবেষক লুও বাইশান বলেন, আমাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল এর সাফল্যের বিষয়ে আমরা কতটা আশাবাদী? আমরা বলেছি, এটা অবশ্যই সফল হবে। ৯৯ ভাগ নিশ্চিত।

বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের সাথে প্রাথমিক আলোচনার কথা জানিয়ে  এই ভ্যাকসিন গবেষণায় বিনিয়োগসম্পর্কিত জ্যেষ্ঠ পরিচালক হেলেন ইয়াং বলেছেন, আমাদের পরামর্শ হবে সবাইকে টিকা দেয়ার দরকার নেই। আমরা এ নিয়ে বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে আলোচনা করছি ও পরামর্শ দিচ্ছি। প্রথমে আমরা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে টার্গেট করব।সত্যি কথা বলতে গেলে, ভ্যাকসিন লট হিসেবে ধাপে ধাপে তৈরি করতে হবে।

চীনে এই মুহূর্তে করোনাভাইরাসের পাঁচটি টিকা মানুষের শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। একক দেশ হিসেবে যা সর্বোচ্চ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, দুনিয়াজুড়ে ১০০টির বেশি করোনাভাইরাসের সম্ভাব্য টিকা নিয়ে পরীক্ষা চলছে। চলতি সপ্তাহে আরও ১০টি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে মানুষের শরীরে।

পাঠকের মন্তব্য