বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা‌‌র সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা‌‌র সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা‌‌র সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কচ্ছেদ ঘোষণা করলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পাশাপাশি চীনের পড়ুয়া ও গবেষকদের ভিসার ওপর জারি করলেন কড়া নিয়ন্ত্রণ। চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (‌পিএলএ)‌ অর্থাৎ চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে আমেরিকায় উচ্চশিক্ষা বা গবেষণার কাজ করা যাবে না। এই ঘোষণায় চীন–‌আমেরিকার সম্পর্কের উত্তেজনা আরেক ধাপ চড়ল।

গোড়ায় করোনাভাইরাস সংক্রমণের বিপদকে তেমন গুরুত্বই দিতে চাননি ট্রাম্প। তারপর সংক্রমণ ভয়ঙ্কর হওয়ার পর থেকে হু এবং চীনকে দায়ী করে তোপ দাগতে থাকেন তিনি। অভিযোগ, চীন মহামারীর তথ্য গোপন করে বিশ্বকে বিপন্ন করেছে, এবং হু চীনকে আড়াল করে গেছে, নিজেদের দায়িত্ব পালন করেনি। হু–‌এর তহবিলে অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হবে, আগেই ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসের রোজ গার্ডেনে ঝাঁঝালো ভাষণে একই অভিযোগ তুলে হু এবং চীনকে তুলোধোনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ঘোষণা করেন, হু–‌এর সঙ্গে আর সম্পর্ক রাখবে না আমেরিকা। হু–‌কে সবচেয়ে বেশি টাকা দেয় আমেরিকাই। বছরে ৪৫০ মিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৩,৪০০ কোটি টাকা। করোনা সংক্রমণের বিরুদ্ধে যারা গুরুত্বপূর্ণ কাজ করছে, এবার তাদের দেওয়া হবে এই অর্থ। 

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘‌হু ব্যর্থ। এই মহামারী নিয়ে আগে থেকে কাউকে কিছুই জানাতে পারেনি তারা। কী ভাবে এর মোকাবিলা করতে হবে সে বিষয়েও কিছু বলতে পারছে না।’‌ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘‌করোনাভাইরাস নিয়ে বিশ্বের সামনে চীনকে উত্তর দিতেই হবে।’‌

রাষ্ট্রপুঞ্জের সংস্থার সঙ্গে আমেরিকার এই সঙ্ঘাত এক অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হল, চীনের সঙ্গে আজকের দুনিয়ার দুই বৃহৎ শক্তির নতুন ঠান্ডা যুদ্ধ। শুক্রবার ঘোষণাপত্র জারি করে ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, চীনের পড়ুয়া–‌গবেষকদের মাধ্যমে আমেরিকার প্রযুক্তি ও মেধা চুরি করার এক বিরাট কর্মসূচি চলছে পিএলএ–‌র আধুনিকীকরণের জন্য। সে কারণেই জারি করা হয়েছে নিষেধাজ্ঞা। পিএলএ–‌র সঙ্গে সম্পর্ক থাকলে ‘‌এফ’‌ এবং ‘‌জি’‌ ভিসা দেওয়া হবে না।  

করোনা মহামারী তো বটেই, বাণিজ্য–‌বিরোধ, দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য, হংকংয়ে চীনের কর্তৃত্ব আরোপ— এসব নিয়ে দু’‌দেশের সম্পর্ক হালে তিক্ততর। ট্রাম্পের ফরমান তাতে নিয়ে এল নতুন উত্তেজনা। চীনের বিদেশ দপ্তর এই পদক্ষেপকে ‘‌বর্ণবিদ্বেষী’‌ বলেছে। বেজিংয়ে চীনের বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, এটা রাজনৈতিক দমননীতি। কিছু কিছু মার্কিনির মধ্যে গভীরভাবে ঢুকে আছে ঠান্ডা যুদ্ধের যুগের মানসিকতা। 

ওদিকে, এই সপ্তাহেই হু–‌এর তরফে একটি ফাউন্ডেশন তৈরি করা হয়েছে, যেখানে চাইলে কোনও সংস্থা বা ব্যক্তিগত ভাবে অর্থদান করতে পারবেন। এর ফলে করোনা মোকাবিলায় আরও বেশি সাহায্য হবে বলেই জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

পাঠকের মন্তব্য