রাজবাড়ীতে অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারালেও সহায়তা পায়নি অঞ্জলী রাণী

অঞ্জলী রাণী

অঞ্জলী রাণী

দেড় মাস আগে অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারালেও সরকারী কোন সহায়তা পায়নি রাজবাড়ীর শ্রীপুরের বিধবা অঞ্জলী রাণী, নিভৃতে কাঁদে মানবতা-কর্তৃপক্ষ নজর দিন করোনা ভাইরাস সংকটের মধ্যেই দেড় মাস আগে বজ্রপাত থেকে সৃষ্ট অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়েছেন রাজবাড়ী শহরের শ্রীপুর বাস টার্মিনাল এলাকার অসহায় বিধবা অঞ্জলী রাণী দত্ত (৫৫)। 

মাথা গোঁজার একমাত্র ঠাঁই বসতঘর ও তৎসংলগ্ন ছোট দোকান ঘরসহ সবকিছু হারানোর পর সরকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধিসহ অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও তার ভাগ্যে মেলেনি কোন সরকারী- বেসরকারী সহায়তা। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে খোলা আকাশের নীচে মানবেতর দিন যাপনের পাশাপাশি দোকানের ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই কোন রকমে ফ্লাস্কে করে চা বেচে কঠিন জীবন সংগ্রাম করে চলেছেন অসহায় বিধবা অঞ্জলী রাণী দত্ত এবং তার পুত্র-পুত্রবধূ ও নাতিসহ পুরো পরিবার। গতকাল ৩রা জুন সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আগুনে  ভস্মিভূত হওয়া বসতঘরের পোড়াভিটার উপর দাঁড়িয়ে অসহায় অঞ্জলী রাণী বিলাপ করছে। তার ছেলে নয়ন দত্ত (২৫) পুড়ে যাওয়া দোকানের ধ্বংসস্তুপের উপরে কোনরকমে ফ্লাস্কে করে চা বিক্রি করছে। 

এ সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের সাথে কথা হলে তারা অঞ্জলী রাণী ও তার পরিবারের করুণ অবস্থার কথা তুলে ধরে  অনতিবিলম্বে তাদেরকে সরকারী সহায়তা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবী জানান। অঞ্জলী রাণী জানান, তার স্বামী নিলু দত্ত অনেক আগেই মারা গেছেন। দুই মেয়ে ও এক ছেলে সন্তানের মধ্যে মেয়ে দু’টির  বিয়ে হয়ে গেছে। তিনি ছেলের সঙ্গেই থাকেন। তারা রাজবাড়ী পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। কয়েক বছর ধরে শ্রীপুর বাস টার্মিনাল এলাকার একখন্ড সরকারী জমিতে ঘর তুলে বসবাস ও ঘরের সাথেই ছোট একটি দোকান (মুদী,স্টেশনারী, চা) বেচে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। হঠাৎ করে করোনা ভাইরাস সংকট শুরু হলে দোকানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারটি বিপাকে পড়েন। খাওয়া-দাওয়ার কোন উপায় না পেয়ে তিনি এক মেয়ের বাড়ীতে গিয়ে ওঠেন এবং তার ছেলে পরিবার নিয়ে তার শ্বশুরবাড়ীতে গিয়ে ওঠে। এরই মধ্যে গত ১৮ই জুন রাতে বসতঘর ও  দোকানে বজ্রপাত থেকে আগুন লেগে সবকিছু পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়। ওই সময় তারা কেউ বাড়ীতে ছিলেন না। 

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের ২টি গাড়ী এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কিন্তু ততক্ষণে বসতঘর ও ঘরে থাকা সবকিছু এবং দোকানে থাকা টিভি-ফ্রিজসহ সব মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে তাদের প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়, যা ছিল তাদের বেঁচে থাকার ও জীবন ধারণের একমাত্র অবলম্বন। অঞ্জলী রাণী আরোও বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে দোকান বন্ধ  থাকায় যখন তারা পেটের খাবারই জোগাড় করতেই হিমসিম খাচ্ছেন তখন মরার উপর খাঁড়ার ঘা’র মতো এই আকস্মিক অগ্নিকান্ডের ঘটনা তাদেরকে একেবারে পথে বসিয়ে দেয়। মাথা গোঁজার ঠাঁই ঘর উত্তোলন ও দোকানটি দাঁড় করানোর জন্য নানা ভাবে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে দ্বারস্থ হন ৬ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখর চক্রবর্তীর নিকট। তিনি সাফ বলে দেন, এখন কোন সাহায্য করা যাবে না। দরখাস্ত লিখে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গেলেও সাহায্য পাওয়া তো দূরে থাক, কেউ সেগুলো গ্রহণও করেনি। এভাবে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও আমরা কোন সাহায্য পাইনি। 

কেউ ১শ’টি টাকাও দেয়নি। জানি না কবে একটু মাথা গোঁজার মতো ঠাঁই (ঘর) করতে পারবো ? আর কতদিন খোলা আকাশের নীচে বসবাস করতে হবে ? আবার দোকানটি দাঁড় করতে পারবো ? এই দুঃসময়ে দু’মুঠো খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবো তো ! অসহায় অঞ্জলী রাণীর এই আর্তনাদ সহ্য করার মতো নয়। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য অনতিবিলম্বে সরকারী কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে। এর পাশাপাশি সমাজের বিত্তশালী ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের ও উচিত দ্রুত তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো। তাহলেই অতিদরিদ্র-অসহায় পরিবারটির একটা মাথা গোঁজার ঠাই হবে।

পাঠকের মন্তব্য