নভেল করোনাভাইরাসে চীনকেও ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ

নভেল করোনাভাইরাসে চীনকেও ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ

নভেল করোনাভাইরাসে চীনকেও ছাড়িয়ে গেলো বাংলাদেশ

সারা বিশ্বের অবস্থাই টালমাটাল নভেল করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) এর তাণ্ডবে। দেশে দেশে আক্রান্ত ও মৃত্যুর মিছিল কমছেই না।

বিশ্বময় সংক্রমণ যেভাবে চলছিলো তার মধ্যে পরিবর্তন আসলেও থামছেনা করোনার বিস্তার। যুক্তরাষ্ট্র-ইউরোপজুড়ে একচেটিয়া সংক্রমণ ছড়িয়ে এই প্রাণঘাতী ভাইরাস এখন লাতিন আমেরিকাতেও প্রভাব বিস্তার করে চলেছে। এরমধ্যেই ব্রাজিল উঠে এসেছে করোনা আক্রান্ত শীর্ষ দেশগুলোর মধ্য দ্বিতীয় অবস্থানে। চিলিও উঠে এসেছে আক্রান্তের তালিকায় শীর্ষ বিশের মধ্যে। আর, রাশিয়াতে মৃত্যুর সংখ্যা কম হলেও শনাক্তের দিক থেকে দেশটি আছে তৃতীয় স্থানে। এছাড়া, উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতেও বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা। তবে, সর্বোচ্চ মৃত্যু ও আক্রান্তের দিকে প্রথম স্থানে যথারীতি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান।

এদিকে, বাংলাদেশে প্রতিনিয়ত বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। শুরুতে ধীরে হলেও বাড়ছে ভাইরাসটির সংক্রমণ। ইতিমধ্যেই করোনা আক্রান্ত হয়ে শনাক্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ৩৭৯ জন ব্যক্তি। গত ২৪ ঘন্টায় দেশে শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৮৫৬ জন করোনা রোগী। আর, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৪৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট প্রাণহানি হলো ১,১৩৯ জনের। ফলে, করোনা আক্রান্তের দিক থেকে বাংলাদেশ টপকে গেলো চীনকেও। যে দেশে প্রথম করোনার সূচণা হয়েছিলো। চীনে এ পর্যন্ত শনাক্তের সংখ্যা ৮৩ হাজার ৭৫ জন। আর, দেশটিতে করোনায় মৃত্যুবরণ করেছেন ৪ হাজার ৬৩৪ জন।

বাংলাদেশের ঠিক ওপরেই আছে কানাডা। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ। তার ওপরেই আছে সৌদি আরব। ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, করোনা সংক্রমিত দেশের তালিকায় শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, দ্বিতীয় অবস্থানে ব্রাজিল, তৃতীয় রাশিয়া, চতুর্থ ভারত, পঞ্চম যুক্তরাজ্য, ষষ্ঠ স্পেন, সপ্তম ইতালি, অষ্টম পেরু, নবম জার্মানি ও দশম অবস্থানে রয়েছে ইরান। এর পরের অবস্থানে রয়েছে ক্রম অনুসারে তুরস্ক, চিলি, ফ্রান্স, মেক্সিকো, পাকিস্তান, সৌদি আরব, কানাডা, ১৮তম স্থানে বাংলাদেশ, চীন ও কাতার।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় গত ৮ই মার্চ। ওইদিন তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর থেকে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যা অনেকটাই সমান্তরাল ছিলো। কিন্তু এরপর থেকে বেড়েই চলেছে রোগীর সংখ্যা। ইতিমধ্যেই দুই মাসের বেশি সময় ধরে চলা সাধারণ ছুটি তুলে নিয়েছে সরকার। সারা দেশে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুরু হয়েছে গণপরিবহন চলাচল। তবে, এ পর্যন্ত এই রোগ থেকে সুস্থ হয়েছেন মোট ১৭ হাজার ৮২৭ জন।
 

পাঠকের মন্তব্য