সেই কটূক্তিকারীদের মুক্তি চাইলেন নাসিমের পুত্রবধূ 

সেই কটূক্তিকারীদের মুক্তি চাইলেন নাসিমের পুত্রবধূ 

সেই কটূক্তিকারীদের মুক্তি চাইলেন নাসিমের পুত্রবধূ 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুর পর তাকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনেকের বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা হয়েছে। অনেকে গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

কিন্তু গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মুক্তি দেয়ার আহবান জানিয়েছেন মোহাম্মদ নাসিমের পুত্রবধূ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সাবরিনা সুলতানা চৌধুরী।

একইসঙ্গে তিনি ডিজিটাল আইনের বিপক্ষে তার অবস্থানের কথাও তুলে ধরেছেন। 

গত ২০ জুন তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখেন- 

ভীষণ মনোঃ কষ্ট নিয়ে একটা পোস্ট দিয়েছিলাম নিজের বাবার অপমানে। তাতে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়েছে। তারপর আমি নিজে চোখটা বন্ধ করে অনেকক্ষণ ভাবলাম যে বাবা থাকলে কি করতেন। উত্তরটা পেয়ে গেলাম।

তিনি হাসতেন, বলতেন ক্ষমা করতে। গ্রেপ্তার বা শাস্তি কিছুই চাইতেন না। এরকমই মানুষ ছিলেন তিনি। আমি নিজেও কখনো পারিবারিক কিছু কখনো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আনিনি। একটা ছবি পর্যন্ত না। নিজে ১৩ দিন আইসিইউতে ছিলাম। বাবাকে হারালাম। তারপর এসব নিষ্ঠুর আচরণ।

তাই উত্তেজিত হয়ে পড়েছিলাম। কোনো শাস্তি বা মামলা আমরা চাই না। এই আইনের বিরুদ্ধে আমি নিজেও দাঁড়িয়েছি। আর কোনো দলকানা মানুষও আমি নই। বাবা তাঁর শেষ সময় পর্যন্ত দেশের জন্যে কাজ করেছেন। তারপরও যদি তাঁর কোনো ভুল ত্রুটি হয়ে থাকে আপনারা তাঁকে ক্ষমা করবেন। কন্যা হিসেবে আমি দোয়া চাই ওনার জন্যে। হিংসা বিদ্বেষ কখনো ভালো কিছু হতে দেয় না।

সকল শিক্ষক মুক্তি পান, ভালো থাকুন। গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করা মানুষটা যেনো জান্নাতবাসী হোন। আমাকেও ক্ষমা করবেন সাময়িক উত্তেজনার জন্যে। আমিও যেনো আমার সীমিত সামর্থ্য মানুষের পাশে থাকতে পারি। ভালো থাকবেন আপনারা।

প্রসঙ্গত, গেলো শনিবার মধ্যরাতে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সিরাজাম মুনিরাকে আইসিটি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার করে তাজহাট থানা পুলিশ।

এছাড়া বুধবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষক কাজী জাহিদুর রহমানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কোয়ার্টার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

একই অভিযোগে মঙ্গলবার হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হোসেনপুর গ্রাম থেকে সিকান্দার হোসাইন আকবরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি মসজিদে ইমামতি করেন।

পাঠকের মন্তব্য