গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে এবার ভূয়া ডিআইজি আটক

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে এবার ভূয়া ডিআইজি আটক

গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে এবার ভূয়া ডিআইজি আটক

অবশেষে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের জালে ধরা পড়লো ডিআইজি,সেনা কর্মকর্তা,নারী নেত্রীসহ বহুরূপী পরিচয় দানকারী প্রতারক মাসুদ সরকার।
প্রতারক মাসুদ সরকার উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের চকরহিমাপুর(মধ্যপাড়া) এলাকার আব্দুল মজিদের পুত্র।

গোবিন্দগঞ্জ পুলিশ জানিয়েছেন গত ১৪ জুন২০২০ অনুঃ ৮টার সময় প্রতারক মাসুদ সরকার তার পাশের বাড়ি প্রবাসী জাকিরের কন্ঠ নকল করে জাকিরের মামীকে ফোনে বলে "মামী আমি জাকির, সৌদি পুলিশের কাছে ধরা পরেছি, মাকে ফোন দেন, ১০ মিনিটের মধ্যে ৩০ হাজার টাকা বিকাশে না দিলে আমাকে জেলে ঢুকাবে এবং পুলিশ আমাকে মারপিট করছে। এই ফোন পেয়ে জাকিরের পরিবার জাকিরকে বাঁচানোর জন্য তার দেয়া বিকাশ নং এ দুই ভাগে ২৫ হাজার টাকা পাঠিয়ে দেয়। এর কিছু সময় পর পুনরায় জাকির ফোন করে কান্নাকাটি করে এবং ১৫ হাজার টাকা পাঠাতে বলে। জাকিরের পরিবার টাকা সংগ্রহ করে ঐ ফোন নং এ ফোন দিলে তারা ফোন নং টি বন্ধ পায়। তখন পরিবারের সন্দেহ হলে জাকিরের বাবা থানা গিয়ে অভিযোগ দিলে থানা পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হয় এই মাসুদ নিজে তার বেনামি ফোন সিম ব্যবহার করে ২৫ হাজার টাকা প্রতারণা করে নিয়েছে।

পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে জানতে পায় তার সহযোগী একই গ্রামের তুহিন সহ কতিপয় সিম বিক্রয়কারীর সহায়তায় বেনামে সিম কিনে, কখনোবা কারো নম্বর ক্লোন করে, কখনো নারী কন্ঠ নকল করে প্রতারণা করে আসছিলো।

পুলিশ আরও জানায় , গত ১৯ জুন উক্ত মাসুদ নিজেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টাস এর ডিআইজি মাসুদ পরিচয় দিয়ে তার নিজের মামলা সংক্রান্তে থানার কোন এক অফিসারের নিকট তদবির করে।তার আগে সে নিজের বৌএর কন্ঠ নকল করে জেলা পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাকে ফোন করে মিথ্যা অভিযোগ করে। তদন্তে এ রকম অজস্র ঘটনার নায়ক হিসেবে শনাক্ত করে গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২২জুন সোমবার বিকেল অনুঃ ৬.৩০ এর সময় পশ্চিম চৌরাস্তা হতে আটক করে।

এতথ্য নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি একেএম মেহেদী হাসান জানিয়েছেন প্রতারক মাসুদের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় একটি মামলা রুজু হয়েছে। এছাড়াও এই আসামির বিরুদ্ধে আদালতে মাদক সহ আরো ৬টি মামলা বিচারাধীন আছে।

পাঠকের মন্তব্য