মেমসাহেব রচয়িতা ঔপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য আজ প্রয়াত হয়েছেন

মেমসাহেব রচয়িতা ঔপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য আজ প্রয়াত হয়েছেন

মেমসাহেব রচয়িতা ঔপন্যাসিক নিমাই ভট্টাচার্য আজ প্রয়াত হয়েছেন

বাঙালি পাঠক, যাঁরা উপন্যাস পছন্দ করেন, ‘‘মেমসাহেব’’ পড়েনি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। সেই মেমসাহেবের রচয়িতা নিমাই ভট্টাচার্য আজ প্রয়াত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার রানীকুঠিতে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে বর্ষীয়ান এই সাংবাদিক তথা সাহিত্যিকের বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। নিমাই ভট্টাচার্য জন্মগ্রহন করেন যশোরের মাগুরা মহকুমার শালিখা থানার অন্তর্গত শরশুনা গ্রামে। তিন বছর বয়সে তিনি মাতৃহীন হন। তাঁর পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। মাধ্যমিক পড়াশোন করেছেন যশোর শহরের সম্মিলনী ইনস্টিটিউশনে। দেশভাগের পর তিনি ভারতে চলে যান। এরপর তিনি কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হন। সেখান থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর স্নাতক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। সাতচল্লিশের দেশভাগের প্রেক্ষাপটে মেমসাহেব উপন্যাস লেখেন তিনি। কলকাতার দে’জ পাবলিশিং থেকে ১৩৯২ বঙ্গাব্দের মহালয়ায় প্রথম দে’জ সংস্করণে প্রকাশিত হয় মেমসাহেব।

মেমসাহেব মূলত প্রেমের উপন্যাস হলেও এখানে রয়েছে দেশভাগের কথা, এক রিপোর্টারের অজানা জীবনকথা। সাতচল্লিশের দেশ ভাগ পরবর্তী সময়ে কলকাতা শহরের লাখ লাখ বেকারের মাঝে কি করে একজন হাফ বেকার, হাফ রিপোর্টার শুধু মনের জোর আর নিষ্ঠায় ভালোবাসার শক্তিকে অবলম্বন করে কিভাবে সর্বোত্তম পদে নিজেকে অধিষ্ঠিত করার গল্প।

উপন্যাসটির শুরু হয়েছে দোলা বৌদিকে লেখা চিঠির মাধ্যমে। পুরো উপন্যাসটিই চিঠির মতো করে লেখা। উপন্যাসের মূল চরিত্র দু’জন। একজন মেমসাহেব অপরজন এই উপন্যাসের নায়ক বাচ্চু।

তাঁর রচিত ‘মেমসাহেব’ ছাড়াও ‘পিয়াসা’, ‘ম্যারেজ রেজিস্ট্রার’, ‘অষ্টাদশী’, ‘ডিপ্লোম্যাট’, ‘নাচনী’, ‘ইমন কল্যাণ’, ‘ব্যাচেলার’এর মতো অসংখ্য উপন্যাস লিখেছিলেন তিনি। কলেজ পড়তেই সাংবাদিকতা শুরু করেছিলেন তিনি। দীর্ঘ ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় একটা সময় কাটিয়েছিলেন দিল্লিতে। জওহরলাল নেহরু, লাল বাহাদুর শাস্ত্রী, ভি কে কৃঞ্চমেনন, মোরারজী দেশাই, ইন্দিরা গান্ধী-সহ অনেকের স্নেহভাজন ছিলেন তিনি। জোট নিরপেক্ষ শীর্ষ সম্মেলন, কমনওয়েলথ সম্মেলনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী-সহ বিখ্যাত নেতৃবৃন্দের সফরেসঙ্গী হওয়ার অভিজ্ঞতা ছিল তাঁর। সাংবাদিকতা থেকে অবসর নেওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় কলম লিখতেন তিনি। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিষয়েও আগাত পাণ্ডিত্য ছিল। তাঁকে শ্রদ্ধাঞ্জলি....

ফেসবুক স্ট্যাটাস : সাজেদ রহমান

পাঠকের মন্তব্য