ভোলায় লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে 

ভোলায় লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে 

ভোলায় লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা বাড়ছে 

৩১শে মে লকডাউন উঠে যাওয়ার পর থেকে ভোলায় লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। গত মাসে থাকা ৪৩ জন থেকে চলতি জুন মাসে ছয়গুণ বেড়ে এখন জেলায় করোনা রোগীর সংখ্যা ২৭৪ জনে দাঁড়িয়েছে।

শনাক্তদের মধ্যে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ২ জন। এছাড়া উপসর্গ নিয়ে আরো অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এভাবে আশঙ্কাজনক হারে করোনার সংক্রমন বৃদ্ধি পেলেও এ জেলায় যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। ফলে এখানকার সচেতন মানুষ রয়েছে চরম আতঙ্কে।

স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬০ তম জেলা হিসেবে এপ্রিল মাসের ২৪ তারিখ ভোলার মনপুরার এক যুবক ও বোরহানউদ্দিনের এক কন্যা শিশুর শরীরে প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। ওই মাসে আক্রান্তের সংখ্য ছিল মাত্র ৫ জন। ঈদুল ফিতরের আগে দোকানপাট খুলে দেয়া হলে জেলার সব জায়গাতেই মানুষের ঢল নামে। পাশাপাশি ঈদের ছুটিতে দেশের হটস্পটগুলো থেকে মানুষ ভোলায় আসায় সংক্রমণ বেড়ে মে মাসে করোনা আক্রান্তে সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৩ জনে। এসময় ঈদ করতে আসা বহিরাগত স্বজনদের অবাধ বিচরণে দ্বিতীয় দফায় সংক্রমন বাড়তে শুরু করে। এরপর ৩১ মে লকডাউন উঠে গেলে জুন মাসের প্রথম ১৫ দিনেই এর সংখ্যা প্রায় শতাধিক বেড়ে দাড়াঁয় ১৪০ জনে। সর্বশেষ ২৮ জুন পর্যন্ত এক লাফে আরো প্রায় দ্বিগুন মানুষ করোনা আক্রান্ত হলে এর সংখ্যা ছয়গুন বেড়ে দাঁড়ায় ২৭৪ জনে।

এর মধ্যে সদর উপজেলায় আক্রান্ত রয়েছে ১২৫ জন, এর মধ্যে ভোলা পৌরসাভায় ৯০ জন ও বাকি ৩৫ জন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে রয়েছে। এছাড়া দৌলতখানে ২৩ জন, বোরহানউদ্দিনে ৩১ জন, লালমোহনে ২৯ জন, চরফ্যাশনে ৩৯ জন, মনপুরায় ১৩ ও তজুমদ্দিন উপজেলায় ১৪ জন রয়েছে। এর মধ্যে ৯২ জন সুস্থ হলেও মৃত্যু হয়েছে দুই জনের। এর বাইরে উপসর্গ নিয়ে আরো অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ অবস্থায় জেলার সচেতন মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এরজন্য তারা সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার পাশাপাশি লকডাউন উঠিয়ে নেয়ার সিদ্ধান্ত ভুল ছিল বলে দাবি করছেন।

বহিরাগতদের অবাধ বিচরণ জেলায় করোনা সংক্রমন বৃদ্ধির কারণ উল্লেখ করে সকলকে সামাজিক দুরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানার পরামর্শ দেন ভোলার সিভিল সার্জন ডা: রতন কুমার ঢালী। এছাড়া ভোলাকে রেড, ইয়েলো ও গ্রিন তিনটি জোনে ভাগ করার কাজ শেষ হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদনের অপেক্ষায় পরবর্তি পদক্ষেপ থমকে আছে বলে জানান ভোলার স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান এই কর্মকর্তা।

জেলায় ২৭৪ জন করোনায় আক্রান্তের মধ্যে ভোলা জেলা জজ ও তার স্ত্রী চরফ্যাশন ও দৌলতখান উপজেলা পরিষদের দুই চেয়ারম্যান, ৯ চিকিৎসক, ২০ স্বাস্থ্যকর্মী, ৯ পুলিশ, ৮ জন কোস্টগার্ড সদস্য, ১২ ব্যাংক কর্মকর্তা ও ১৫ জন শিক্ষক রয়েছে। এছাড়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাসহ নির্বাচন কর্যালয়ের দুই জন, সিভিল সার্জন কর্যালয়ে দুই জন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যক্তিগত গাড়ি চালক ও জেলা প্রশাসক কার্যালয়েও এক জন রয়েছে।

পাঠকের মন্তব্য