একজন স্থানীয় ভুয়া সাংবাদিক ও তার অপ-সাংবাদিকতা প্রসঙ্গ

একজন স্থানীয় ভুয়া সাংবাদিক ও তার অপ-সাংবাদিকতা প্রসঙ্গ

একজন স্থানীয় ভুয়া সাংবাদিক ও তার অপ-সাংবাদিকতা প্রসঙ্গ

প্রথম পর্ব : বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হলুদ সাংবাদিকতা। সাংবাদিকতা বা সাংবাদিক সমাজের কথা উঠলেই সবার আগে উঠে আসছে হলুদ সাংবাদিকতা। এর প্রধান কারন হচ্ছে সাংবাদিকতা পেশায় কিছু দালাল ও বাটপার ঢুকে পড়েছে। তারা এই পেশাকে কলুষিত করছে। মূলত এই সকল ব্যক্তির জন্য হলুদ সাংবাদিকতা কথাটা বার বার সামনে আসছে। এ কথা ঠিক -সোনায় যেমন খাদ থাকে, তেমনি সাংবাদিকতা পেশাতেও রয়েছে অপসাংবাদিকতা। সাংবাদিকতার বিপরীত হচ্ছে হলুদ সাংবাদিকতা।

সে যাইহোক এবার আসা যাক মূল বিষয় : নাম সজীব আকবার চুয়াডাঙ্গা জেলা নিবাসী। তিনি চুয়াডাঙ্গার এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটে বেড়ান। তার টার্গেট থাকে বিভিন্ন সরকারি দফতর ও কর্মকর্তা সহ সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। না, এই বিশেষ গোত্রের তথাকথিত সাংবাদিক ছোটেন না কোনো সংবাদের পেছনে। ওনি ছোটেন ‘বিশেষ কিছু’র পেছনে। সে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিলেও প্রকৃতপক্ষে কোনো গণমাধ্যমের সঙ্গেই তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। কখনো কোনো সংবাদও (নিউজ) লেখেন না। তবে তার হাবভাব, চালচলন, হুমকি-ধামকিতে তটস্থ থাকেন এ জেলার সাধারন জনগন সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। পেশাদার সাংবাদিকদের মতো হলুদ সাংবাদিকদেরও আছে ‘প্রেসক্লাব’। ভুয়া পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি কিংবা ভুয়া চিকিৎসকদের মতো এরাও সমাজে ‘ভুয়া’ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। এদের মধ্যে কেউ অবৈধ গ্যাস সংযোগের দালাল, কেউ মোটর মেকানিক, কেউ কেরোসিন বিক্রেতা, কেউ পুলিশের সোর্স। তবে অধিকাংশেরই নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। অল্প বিদ্যা জানা এই ধুরন্দরদের ‘সাংবাদিকতার’ আড়ালে প্রতারণাই পেশা। চলে ফেনসিডিল ও ইয়াবার মত ভয়ংকর রকমের নেশা।

এই সজীব আকবার সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দল বেঁধে হানা দেয়। পেশাদার সাংবাদিকদের মতো এদেরও থাকে বিভিন্ন সোর্স। হুমকি আর মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের ভয় দেখিয়ে হাতিয়ে নেয় মোটা অঙ্কের অর্থ। বিভিন্ন সময়ে এই ভুয়া সাংবাদিককে আটকও করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার জঘন্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য। কিন্তু তার পরও থেমে নেই তার তৎপরতা।

ভুয়া সাংবাদিকদের দৌরাত্ত প্রসঙ্গে এদের প্রতারণা রোধ করতে সামাজিক সচেতনতা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এ ছাড়া সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও চুয়াডাঙ্গা সহ বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে। সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাকে হলুদ সাংবাদিক চুয়াডাঙার প্রতিটি উপজেলা সজীব আকবার কলুষিত করে তুলেছে। হলুদ সাংবাদিক সজীব আকবারের নাই কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট, নাই রিপোর্ট লেখার অভিজ্ঞতা, কেউ কেউ কোনো রকমে দাখিল পাশ করে তিনবার এইচ এস সি পরীক্ষা দিয়েও পাশ করতে পারেনি। আবার নিজেকে বড় মাপের সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতা-কর্মী ও সমাজের কর্তাব্যক্তিদের কাছে হলুদ সাংবাদিকতার বিস্তার ঘটাচ্ছে আর হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। চুয়াডাঙা দর্শনার প্রশাসনের নিকট অনুরোধ সামাজিকভাবে এই অপরাধীকে প্রতিরোধ করুন। আমি আবারও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি অনুরোধ করছি প্লিজ এসব দালাল ও হলুদ সাংবাদিকদের আইনের আওতায় নিয়ে সমাজকে হলুদ সাংবাদিকদের হাত থেকে মুক্ত করুন।

লেখক : অনলাইন এক্টিভিস্ট 
ফেসবুক স্ট্যাটাস লিঙ্ক : M. R. Onik

পাঠকের মন্তব্য