প্রতারক শাহেদের প্রতারণা ২০১৬ সালেই জানতো পুলিশ

প্রতারক শাহেদের প্রতারণা ২০১৬ সালেই জানতো পুলিশ

প্রতারক শাহেদের প্রতারণা ২০১৬ সালেই জানতো পুলিশ

রাজধানীর রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ শাহেদের প্রতারণা সাম্প্রতিক কোনো ঘটনা নয়। বেশ আগে থেকেই নানাবিধ অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাকে প্রতারক আখ্যা দিয়ে চিঠি দেওয়া হয় পুলিশ বিভাগের কাছে, কিন্তু ব্যবস্থা তো দূরের কথা উল্টো এই প্রতারককে প্রোটোকল দেওয়া হয়েছিল পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে। 

এছাড়া প্রশাসনের নাকের ডগায় বসেই সব অপকর্ম করে গেছেন তিনি।

নথি খুঁজে দেখা গেছে, ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি চিঠি দেওয়া হয় পুলিশের তৎকালীন মহাপরিদর্শক বরাবর। সেই চিঠিতে বলা হয়, শাহেদ কোনো সময় পরিচয় দেন সেনাবাহিনীর মেজর, কোনো সময় প্রধানমন্ত্রীর এডিসি। আসলে সে এর কিছুই নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি একজন ভয়ংকর প্রতারক। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ৩২টি মামলা রয়েছে এবং তিনি ২ বছর কারাবাসও করেছেন। চিঠিতে এমন বর্ণনা দিয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

সেই চিঠির পর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, উল্টো বিভিন্ন সময় তাকে প্রোটোকল দিতে দেখা গেছে পুলিশ বাহিনীকে। ২০১৭ সালে পুলিশি প্রোটোকলে বিশাল বহর নিয়ে সাজেক ভ্রমণে যান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রতারক তকমা পাওয়া শাহেদ। সেই ছবি এবং ভিডিও শেয়ার করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এভাবে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, শাহেদ প্রশ্রয় পেয়েছেন রাজনীতিবিদ, আমলা এমনকি সাংবাদিকদের কাছ থেকেও।

তবে শেষ রক্ষা হয়নি। গত সোমবার বিকেলে উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৭ নম্বর রোডে অবস্থিত তার মালিকানাধীন রিজেন্ট হাসপাতালে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে নেতৃত্ব দেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম। ওই অভিযানে প্রমাণ মেলে, ৩৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা করে নিলেও হাজার হাজার মানুষকে ভুয়া করোনার সার্টিফিকেট ধরিয়ে দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

এছাড়া চিকিৎসার অস্বাভাবিক ফি দেখিয়ে হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা।

পাঠকের মন্তব্য